eSIM-এর প্রযুক্তিগত সুবিধা সত্ত্বেও, বাংলাদেশে এর গ্রহণ এখনও সীমিত, এবং কিছু মূল কারণে এটি এখনও সবার জন্য উপযুক্ত নয়। এই ৫টি প্রধান কারণ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সীমিত ডিভাইসের সমর্থন: যদিও হাই-এন্ড স্মার্টফোন যেমন Apple iPhone এবং কিছু Samsung Galaxy মডেল eSIM সমর্থন করে, বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত বেশিরভাগ মধ্যম বা বাজেট-সেগমেন্টের ফোনে এখনও এই প্রযুক্তি নেই। ফলে, অধিকাংশ ব্যবহারকারীই হার্ডওয়্যারগত সীমাবদ্ধতার কারণে এটি ব্যবহার করতে পারেন না।
২. সকল অপারেটরের পরিষেবা চালু না হওয়া: বাংলাদেশে বর্তমানে শুধুমাত্র Grameenphone এবং Robi Axiata নির্বাচিত গ্রাহকদের জন্য eSIM পরিষেবা চালু করেছে। অন্যান্য প্রধান অপারেটররা এখনও তাদের নেটওয়ার্কে এই সুবিধাটি পুরোপুরি বাণিজ্যিকীকরণ করেনি। এই সীমিত পরিষেবার প্রাপ্যতা একটি বড় বাধা।
৩. সেবা গ্রহণের জটিলতা ও সচেতনতার অভাব: সাধারণ সিম কার্ডের দোকানে বসেই পাওয়া যায়, কিন্তু eSIM পেতে হলে গ্রাহকদের নির্দিষ্ট অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যেতে হয় এবং একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এছাড়া, এই প্রযুক্তি সম্পর্কে সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা এখনও বেশ কম।
৪. নেটওয়ার্ক পরিবর্তন বা রোমিং-এ সম্ভাব্য জটিলতা: যদিও eSIM-এর মাধ্যমে সহজেই অপারেটর পরিবর্তন করা সম্ভব, তবে বাংলাদেশে যখন নেটওয়ার্ক পরিবর্তন করতে হয় বা আন্তর্জাতিক রোমিং ব্যবহার করা হয়, তখন কিছু ব্যবহারকারী সেটআপ বা সক্রিয়করণ প্রক্রিয়ায় সমস্যার সম্মুখীন হন, যা সাধারণ প্লাস্টিক সিমের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে সহজ।
৫. প্রযুক্তিগত সহায়তার সীমাবদ্ধতা: eSIM কনফিগারেশন, বিশেষ করে যদি কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তা সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। দেশব্যাপী এই প্রযুক্তি বিষয়ক দক্ষ জনবল বা তাৎক্ষণিক সহায়তার অবকাঠামো এখনও সেভাবে গড়ে ওঠেনি।
এই কারণগুলোর জন্য, বাংলাদেশে eSIM প্রযুক্তি এখনও একটি বিশেষ শ্রেণির ব্যবহারকারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং সবার জন্য মূলধারার বিকল্প হয়ে উঠতে আরও সময় লাগবে।