বন্যার সময় যখন মেঘনা, তেতুলিয়া আর বঙ্গোপসাগরের ঢেউ গিলে খায় ভোলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লা, তখন এই জনপদের মানুষের চোখে শুধুই একটি স্বপ্ন জ্বলজ্বল করে—ভোলা-বরিশাল সেতু।
চারপাশে সাগর-নদী, মাঝখানে একদম আটকে পড়া এক দ্বীপ ভোলা। কোনো অসুস্থ মা যদি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে, বরিশাল কিংবা ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার মতো উপায় নেই। ট্রলার চলে না, ফেরি চলেনা, লঞ্চ বন্ধ থাকে, জেলার সড়কে রিকশা পর্যন্ত চলে না জলাবদ্ধতার কারণে। একজন রোগীর বাঁচা-মরার ফয়সালা হয়ে যায় “নৌযান চলছে কিনা” তার উপর।
স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অসহায়। পরীক্ষা থাকুক বা ভর্তি—তাদের জীবনের স্বপ্ন থমকে দাঁড়ায় কাদামাটি আর নদীর বাঁধে। আর ব্যবসায়ী, কৃষক কিংবা গর্ভবতী নারী—সবার জীবন যেন একটা অবরুদ্ধ আর্তনাদ। এভাবে আর কত?
ভোলা-বরিশাল সেতু শুধু একটি নির্মাণ প্রকল্প নয়, এটি হলো আমাদের টিকে থাকার প্রতীক। এটি হবে সেই স্বপ্নের সেতু, যা আমাদের যন্ত্রণা পেরিয়ে সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিকতার এক অনন্য দিগন্ত। আমরা আর বিলম্ব চাই না। আমরা আর নিস্তব্ধ কান্না চাই না। আমরা চাই ভোলা-বরিশাল সেতু—একটি জীবনের দাবিতে, একটি স্বপ্নের দাবিতে।
এই সেতু শুধু ভোলার জন্য নয়, এটা হবে বাংলাদেশের জন্য এক নতুন প্রেরণা। আমরা বলি, আজই হোক সেই প্রতিশ্রুতি, যেদিন থেকে ভোলা আর অবরুদ্ধ থাকবে না।
সেতু হবে, আলো আসবে, প্রাণ ফিরে পাবে ভোলা।
ভোলা বাঁচলে—মানবিকতা বাঁচবে, বাংলাদেশ পাবে প্রকৃতির রানী। ❤️🇧🇩