একবার এক বিজ্ঞ অধ্যাপক ক্লাসে ঢুকলেন। তার হাতে ছিল অর্ধেকটা জলপূর্ণ একটি কাঁচের গ্লাস। তিনি গ্লাসটি উঁচিয়ে ধরে ছাত্রদের জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাদের কী মনে হয়, এই গ্লাসটির ওজন কত?”
ছাত্ররা একেক জন একেক রকম উত্তর দিতে লাগল—কেউ বলল ১০০ গ্রাম, কেউ বলল ২০০ গ্রাম।
অধ্যাপক হাসলেন। তারপর বললেন, “আসলে এর ওজন কত সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমি গ্লাসটি কতক্ষণ ধরে হাতে ধরে রাখছি। আমি যদি এটা এক মিনিটের জন্য ধরে রাখি, তবে এর ওজন কিছুই মনে হবে না। আমি যদি এটা এক ঘণ্টার জন্য ধরে রাখি, তবে আমার হাত ব্যথা করতে শুরু করবে। আর আমি যদি এটা সারা দিন ধরে রাখি, তবে আমার হাত অবশ হয়ে যাবে এবং আমি গ্লাসটি ফেলে দিতে বাধ্য হব। অথচ দেখুন, গ্লাসটির ওজন কিন্তু একটুও বাড়েনি।”
ছাত্ররা অবাক হয়ে শুনছিল। অধ্যাপক তখন মূল বিষয়টি বুঝিয়ে বললেন:
> “আমাদের জীবনের দুশ্চিন্তা আর মানসিক চাপগুলো ঠিক এই জলের গ্লাসের মতো। কোনো সমস্যা নিয়ে অল্প কিছুক্ষণ ভাবলে তা ঠিক আছে। কিন্তু সেটা নিয়ে সারাক্ষণ ভাবলে তা আপনাকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে দেবে। একসময় আপনি আর কোনো কাজ করার শক্তি পাবেন না।” >
গল্পের শিক্ষা:
আমাদের জীবনে সমস্যা থাকবেই, কিন্তু সেই সমস্যার বোঝা সারাক্ষণ বয়ে বেড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। দিনের শেষে যেমন আমাদের বিশ্রাম দরকার, তেমনি মনের বোঝাগুলোও নামিয়ে রাখা দরকার। ঘুমানোর আগে ‘জলের গ্লাসটি’ নামিয়ে রাখুন, অর্থাৎ সব দুশ্চিন্তা ভুলে যান। পরদিন সকালে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করার শক্তি পাবেন।
গল্পটি আপনার কেমন লাগল?