ফেসবুক খুললেই দেখা যায় তীব্র প্রতিবাদ, শক্ত ভাষা, সাহসী স্ট্যাটাস। অন্যায় দেখলে আমরা লাইক দেই, শেয়ার দেই, কমেন্টে আগুন ঝরাই। মনে হয়, এতো সাহসী একটা সমাজ বুঝি আগে কখনো ছিল না। কিন্তু বাস্তবে কোনো অন্যায় চোখের সামনে ঘটলে আমরা কতজন এগিয়ে যাই? বেশিরভাগ সময়ই নীরব থাকি। প্রশ্ন হলো, সাহস কি শুধু কিবোর্ডেই সীমাবদ্ধ?
সোশ্যাল মিডিয়ায় সাহস দেখানো সহজ। এখানে ঝুঁকি কম। পরিচয় আড়াল করা যায়, দল বেঁধে কথা বলা যায়, লাইক আর কমেন্টে সমর্থনের ভিড় পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তব জীবনে সাহস দেখাতে গেলে একা দাঁড়াতে হয়। এখানে কোনো ফিল্টার নেই, কোনো এডিট নেই। আছে ভয়, চাপ, আর পরিণতির আশঙ্কা।
আমরা ভয় পাই। চাকরি যাবে কিনা, পড়াশোনায় সমস্যা হবে কিনা, পরিবার বিপদে পড়বে কিনা। এই ভয়গুলো অমূলক না। সমাজ আমাদের এমনভাবে তৈরি করেছে, যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোকে বোকামি ভাবা হয়। নিরাপদে থাকা শেখানো হয়েছে, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো নয়।
আরেকটা বড় কারণ হলো দায়িত্ব অন্যের ঘাড়ে চাপানো। মনে করি, কেউ না কেউ তো প্রতিবাদ করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে, নেতা আছে, সংগঠন আছে। আমি কেন ঝামেলায় যাব? এই মানসিকতা থেকেই সবাই একসাথে নীরব থাকে, আর অন্যায় শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের আবেগী করেছে, কিন্তু দায়িত্বশীল করেনি। আমরা ঘটনা নিয়ে লিখি, কিন্তু ঘটনার জায়গায় দাঁড়াই না। প্রতিবাদ করি শব্দে, কাজে নয়। এতে বিবেক কিছুটা হালকা হয়, কিন্তু বাস্তবতা বদলায় না।
বাস্তবে সাহস মানে বড় মিছিল করা নয় সব সময়। কখনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বলা, “এটা ঠিক না।” কখনো একজন নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কখনো চুপ না থেকে প্রশ্ন তোলা। ছোট ছোট এই সাহসগুলোই সমাজ বদলায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সাহস দেখানো খারাপ না। সেটাও দরকার। কিন্তু যদি সাহস শুধু সেখানেই আটকে থাকে, তাহলে তা অভিনয় হয়ে যায়। সাহসের আসল পরীক্ষা হয় বাস্তবে, যখন কেউ দেখছে না, কেউ বাহবা দিচ্ছে না।
শেষ কথা একটাই। আমরা যদি বাস্তবে নীরব থাকি, আর অনলাইনে সাহসী হই, তাহলে অন্যায় থামে না, শুধু ট্রেন্ড বদলায়। প্রশ্ন হলো, আমরা ট্রেন্ড বানাতে চাই, নাকি সত্যিই সমাজ বদলাতে চাই।
সুন্দর লিখনি