শহীদ করা হলো আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীকে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী আর নেই। আজ রবিবার ভোরে ইরান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন (IRIB) আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর একটি যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ইরানি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
যেভাবে হলো এই হামলা
শহীদ করা হলো আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীকে যা প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকালে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান বাহিনী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত খামেনীর বাসভবন এবং কার্যালয় লক্ষ্য করে সিরিজ বিমান হামলা চালায়। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, হামলায় তার কম্পাউন্ডটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রথম এই মৃত্যুর খবরটি দাবি করেন, যা পরবর্তীতে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোও নিশ্চিত করে।
ইরানে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা
খামেনীর মৃত্যুর পর ইরান জুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং ৭ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জানিয়েছে, খামেনীর এই “শহীদি মৃত্যু” বিশ্বজুড়ে এক নতুন গণজাগরণের সূচনা করবে। তবে ইরানের সাধারণ জনগণের মধ্যে এই সংবাদ মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে; কোথাও কান্নার রোল পড়েছে, আবার কোথাও কোথাও পরিবর্তনের আশায় মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে।
পরবর্তী উত্তরসূরি কে?
আয়াতুল্লাহ খামেনী ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। তার হঠাৎ বিদায়ে দেশটিতে বড় ধরনের নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ এখন দ্রুত পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের কাজ শুরু করবে।
আঞ্চলিক ও বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনীর মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক বিশাল ভূমিকম্পের মতো। এটি ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকে এক চূড়ান্ত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। অন্যদিকে, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা এই হত্যার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করবো ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে বাংলাদেশ ও রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হোক