বাংলা শব্দের পার্থক্য জানা জরুরী। কখন কোন শব্দটির ব্যবহার করা উচিত তা জানতে হবে। শব্দের ভুল ব্যবহারে অর্থে পরিবর্তন ঘটে। তাই আজকের আর্টিকেলে আমরা কিছু বাংলা শব্দের ব্যবহার জানবো। যা আমাদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে চলুন শুরু করি-
“কি” এবং “কী” এর মধ্যে পার্থক্যঃ
- আমরা যখন কোনো প্রশ্ন করি তখন কি/কী বলি। কিন্তু লেখার সময় বানান আলাদা হয়ে যায়। আমরা যখন প্রশ্ন করি তখন, কি এবং কী এর দুই ধরনের উত্তর হতে পারে। তবে সেটি নির্ভর করে প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের উপরে। যদি সেই প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ/না বা মাথা নেড়ে প্রদান করা যায়। তখন সেক্ষেত্রে বাক্যে প্রশ্নবোধক হিসাবে “কি” শব্দটি বসে।
- যখন কোনো প্রশ্নের উত্তরে শুধু হ্যাঁ অথবা না বোধক উত্তর জানতে চাওয়া হয়, সেই প্রশ্নে ‘কি’ লেখা হয়।
Happy New Year, কবে থেকে শুরু নববর্ষ বা হ্যাপি নিউ ইয়ার? |
উদাহরণ-
১। তুমি কি পড়তে পারো?
উ: হ্যাঁ।
২। তুমি কি সাঁতার কাটতে পারো?
উ: হ্যাঁ
প্রশ: আপনি কি খেয়েছেন? (অর্থাৎ আপনার খাওয়া হয়েছে কিনা তা জানতে চাওয়া হচ্ছে)
উত্তর: হ্যাঁ।
- অন্যদিকে আমরা যখন এমন কোনো প্রশ্ন করি। যার উত্তর হ্যাঁ/না বা মাথা নেড়ে উত্তর প্রদান করা যায় না। বরং উত্তর প্রদানের জন্য আমাদেরকে একের অধিক শব্দ বলতে হয়। সেক্ষেত্রে বাক্যে “কী” শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
- যখন কোনো প্রশ্নের উত্তরে শুধু হ্যাঁ অথবা না বোধক উত্তর জানতে চাওয়া হয় নয়, সেই প্রশ্নে ‘কী’ লেখা হয়।
উদাহরণ-
১। তুমি কী খাচ্ছ?
উ: মাছ-মাংস।
২.তুমি কী বই পড়?
উ: বাংলা বই।
প্রশ: আপনি কী খেয়েছেন? (কোন খাদ্য খেয়েছে সেটা জানতে চাওয়া হচ্ছে)
উত্তর: আমি ভাত খেয়েছি।
“কোন” এবং “কোনো” এর মধ্যে পার্থক্যঃ
কোন এবং কোনো শব্দ দুটির মাঝে ব্যবহারের পার্থক্য রয়েছে। তাই আমাদের শব্দ দুটির সঠিক ব্যবহার জানতে হবে। যেমন- কোন দিয়ে উদাহরণ হলো-
- “আপনি কোন কলম (which pen) চাচ্ছেন?”
- “তোমার কোন বিষয়টি ভালো লেগেছে?”
আবার,
- “আপনি কোনো কলম (any pen) নিতে পারবেন না।”
- “এই হৃদয় আপনার কোনো স্থান নেই”
উপরের চারটি বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত ‘কোন’ আর ‘কোনো’র যেমন পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, ঠিক এরকমই পার্থক্য সর্বক্ষেত্রে ‘কোন’ আর ”কোনো’ এর মাঝে বিদ্যমান।
“ও” আর “এবং” এর মধ্যে পার্থক্যঃ
দুটি শব্দের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ‘ও’ ব্যবহার করা হয় এবং দুটি বাক্যের মাঝে সংযোগ তৈরির জন্য ‘এবং’ ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণঃ
- ‘ও’ এর ব্যবহারঃ আমি ও তুমি। ছেলে ও মেয়ে ।
- ‘এবং’ এর ব্যবহারঃ রাফিদ কফি খায় এবং ফাহিম বিস্কুট খায়। সোহান বগুড়া জিলা স্কুলে পড়ে এবং মাসুম নটরডেম কলেজে পড়ে।
‘ও’ আর ‘এবং’ দুটোই সংযোজক অব্যয়। ‘ও’ ধন্যাত্মক শব্দ ও বিশেষণ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। যেমন: “ও, এরকমই তো হবে।” উপরোক্ত বাক্যে ‘ও’ অনুধাবনমূলক ধন্যাত্মক শব্দ। অপরদিকে, ” ও কথা আর বল না।” বাক্যে ‘ও’ বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ‘এবং’ শুধুই অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া ‘ও’ অব্যয় হিসেবে দুটি পদকে যুক্ত করে। অন্যদিকে, ‘এবং’ দুটি শব্দ বা দুটি খণ্ডবাক্যকে যুক্ত করে।
আসল Vidmate Apk Download করুন খুব সহজেই |
- উদাহরণ:
- ১. ক.) তুমি ও আমি মিলে হাঁটব। খ.) ফুল ও ফল।
- ২. ক.) উদয়গিরি এবং খণ্ডগিরির গুহাগুলোর বিশেষ প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব রয়েছে।
“ক্রসফায়ার” আর “বার্স্টফায়ার” এর মধ্যে পার্থক্যঃ
- ক্রসফায়ারঃ দ্বি-পক্ষীয় বন্দুক যুদ্ধ এর মাঝামাঝি অবস্থান কালীন গুলিবিদ্ধ হওয়া।
- বার্স্টফায়ারঃ একক/একাধিক বন্দুকের উপুর্যুপরি গুলি-বর্ষণ।
“ঠিক” আর “সঠিক” এর মধ্যে পার্থক্যঃ
এই শব্দ দুটির মাঝে অর্থগত তেমন কোনো পার্থক্য নেই। ঠিক ও সঠিক শব্দ দুটি একই অর্থ প্রকাশ করে। শুধু একটি শুদ্ধ আরেকটি অশুদ্ধ প্রয়োগ। এক্ষেত্রে ঠিক শব্দটি হলো শুদ্ধ। আর সঠিক শব্দটি অশুদ্ধ। সঠিক শব্দটিতে অতিরিক্ত “স” বর্ণটি শব্দটিকে আধিক্য দোষে দুষ্ট করেছে। যেহেতু অতিরিক্ত “স” যুক্ত হয়েও অর্থের কোন পরিবর্তন হয়নি; তাই আধুনিক বাংলা ব্যকরণে ঠিক – শুদ্ধ জেনে সঠিক – কে অগ্রায্য করে।”
আশা করি বাংলা শব্দের পার্থক্য শিরোনামে আর্টিকেলটি আপনার ভালো লেগেছে। আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আবার কোনো নতুন আর্টিকেলে কথা হবে। ধন্যবাদ।
গুগল নিউজে পড়ুন- পাঠক বিডি
জানাই ছিলোনা কোন শব্দ কখন ব্যবহার করতে হয়। ধন্যবাদ প্রিয় পাঠক বিডি কে।
ধন্যবাদ বাংলা শব্দ পার্থক্য নিয়ে সুন্দর লিখার জন্য।
khub sundhor information