স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন: বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপত্য পর্ব: ২

আর্টিকেল এর সূচিপত্র

স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন গুলোর মধ্যে অন্যতম দুটি নিদর্শন হলো কান্তজির মন্দির এবং পন্ডিতের ভিটা। গত পর্বে আলোচনা করেছিলাম, লালবাগ কেল্লা এবং কুমিল্লার ময়নামতি নিয়ে। আজকেও এলাম ইতিহাসের পাতা থেকে অসাধারণ দুটি বিশ্বখ্যাত স্থান নিয়ে। যেখানে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের অন্যতম দুই কীর্তিমানের জীবন এবং মিথ। তাহলে আজকেও ইতিহাসের পথে হাঁটা যাক।

কান্তজীর মন্দির

মধ্যযুগে বাংলার স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন হলো দিনাজপুরে অবস্থিত কান্তজীর বা কান্তুউজি অথবা কান্তনগর মন্দির। কান্ত শব্দের অর্থ কৃষ্ণ। মধ্যযুগে নির্মিত এই মন্দিরটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে উৎসর্গ করে নির্মাণ করা হয়। এই মন্দিরকে একসময় নবরত্ন মন্দির বলেও ডাকা হতো। অসাধারণ টেরাকোটা এবং নির্মানশৈলীর জন্য কান্তজীর মন্দির ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে।

অবস্থান

মন্দিরটি দিনাজপুর শহর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে এবং কাহারোল উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে সুন্দরপুর ইউনিয়নে, দিনাজপুর-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পশ্চিমে ঢেঁপা নদীর তীরবর্তী গ্রাম কান্তনগরে অবস্থিত।

নির্মাণকাল

মন্দিরটি নির্মাণ শুরু হয় ১৭০৪ সালে, রাজা প্রাণনাথ রায়ের সময়কালে। তখন মুঘল সাম্রাজ্যের অধিপতি ছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেব। সুদূর পারস্য থেকে নির্মাণশিল্পী আনা হয় এই মন্দির তৈরির কাজে। কিন্তু রাজা প্রাণনাথ রায় জীবিত থাকাকালীন সময়ে মন্দির নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তার মৃত্যুর পর রাজা রামনাথ রায়ের সময়কালে ১৭৫২ সালে মন্দির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।

ইতিহাসে কান্তজীর মন্দির

ঢেঁপা নদীর তীরে অবস্থিত শ্যামগড় নামক স্থানটির কথা মহাভারতেও উল্লেখ আছে। এটি তখন দিনাজপুরের জমিদারির অংশ ছিলো। ১৬৮২ সালের কথা। দিল্লির মসনদে সম্রাট আওরঙ্গজেব শাসন করছেন। দিনাজপুরের জমিদারিতে তখন ক্রান্তিকাল চলছে। পরপর দুইজন জমিদারের অকালমৃত্যুর পর জমিদার হলেন প্রাণনাথ রায়। অত্যন্ত প্রজাবৎসল জমিদার হিসেবে অল্পদিনেই প্রজাদের প্রিয় ব্যক্তিতে পরিণত হন তিনি। কথিত আছে, ততকালীন সময়ে আনুমানিক ত্রিশহাজার টাকা ব্যয় করে তিনি রামসাগর দীঘি খনন করেন প্রজাদের সুপেয় পানির অভাব মেটাতে।

কিন্তু প্রতিটা গল্পে যেমন ভিলেন থাকে, প্রাণনাথের ইতিহাসেও ভিলেন উদয় হলো। জমিদার নেওয়ার কয়েক বছরের মাথায় পার্শ্ববর্তী ঘোড়াঘাট অঞ্চলের জমিদার রাঘবেন্দ্র রায় শুরু করলেন ষড়যন্ত্র। দিনাজপুর এবং ঘোড়াঘাটের এই রেষারেষি অনেকদিনের। তা জমিদার রাঘবেন্দ্র রায় সরাসরি চিঠি পাঠালেন দিল্লীর সম্রাটের কাছে! লিখলেন জমিদার প্রাণনাথ রায় অত্যন্ত অত্যাচারী জমিদার। তার অত্যাচারে পালিয়ে যাচ্ছে দিনাজপুরের প্রজারা। এও লিখলেন, দিনাজপুরের বিগত দুই জমিদার, অর্থাৎ প্রাণনাথ রায়ের বড় দুই ভাই তার হাতেই নিহত হয়েছেন। তাদের হত্যা করে তিনি জমিদারি দখল করেছেন। একই সাথে তিনি নিয়মিত খাজনা প্রদান করেন না এবং দিল্লীর প্রতি তার আনুগত্য নেই। চিঠি পেয়ে ক্ষেপে গেলেন সম্রাট। তলব করলেন প্রাণনাথকে তাঁর দরবারে।

প্রাণনাথ সমন (টিকেট) পেয়েই ছুটলেন হাজার মাইল দূরে দিল্লীতে। সাথে করে নিয়ে গেলেন দিনাজপুরের বিখ্যাত সুগন্ধি কাটারিভোগ চাল এবং বহুমূল্যের উপঢৌকন। কয়েকমাসের মধ্যেই তিনি পৌঁছে যান দিল্লীর দরবারে। মুখোমুখি হলেন আওরঙ্গজেবের। তার নম্রভদ্র ব্যবহার দিয়ে মন জয় করেন সম্রাটের। ভুল ভাঙলো সম্রাটের। প্রাণনাথের আনুগত্যের পরিচয় পেয়ে এবার তাকে রাজা উপাধিতে ভূষিত করেন তিনি। শাপেবর হলো রাঘবেন্দ্রর ষড়যন্ত্র। জমিদার প্রাণনাথ হয়ে গেলেন রাজা প্রাণনাথ রায়!

মহাবিপদ থেকে রক্ষা

এই মহাবিপদ থেকে রক্ষা পেয়ে রাজা প্রাণনাথ সিদ্ধান্ত নিলেন তীর্থ করে ফিরবেন। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে কৃষ্ণভক্ত ছিলেন। তাই বৃন্দাবন যাওয়া মনস্থির হলো। সাথে এও সিদ্ধান্ত নিলেন দিনাজপুরে ফিরে তিনি কৃষ্ণমন্দির স্থাপন করবেন। বৃন্দাবন থেকেই ফেরার পথে কৃষ্ণমূর্তি নিয়ে ফিরলেন। ঢেপা নদীর তীরে অস্থায়ী মন্দির নির্মাণ করলেন মূর্তিটি রাখার জন্য। এইবার নজর দিলেন বড় মন্দির নির্মাণে। সিদ্ধান্ত নিলেন, পুরো মন্দির ঢেকে দেওয়া হবে টেরাকোটা দিয়ে। পারস্য থেকে আনা হলো নির্মাণশিল্পীদের। বলে রাখি, এরা ছিলেন সবাই মুসলমান। রাজা প্রাণনাথ তাদের নয়াবাদে জায়গা দান করেন। সেইখানে তারা তৈরি করেন মধ্যযুগের আরেকটি অনন্যকীর্তি নয়াবাদের মসজিদ। আরেকটি পর্বে নয়াবাদের মসজিদ নিয়ে জানাবো। স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন কান্তজী মন্দিরে ফিরি।

১৭০৪ সালে নির্মাণ শুরু হয় বাংলাদেশের স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন কান্তজীর মন্দিরের। রাজার ইচ্ছানুয়ায়ী টেরাকোটা বানানো হয়। প্রায় পনেরো হাজার টেরাকোটার টালি আছে পুরো মন্দিরে। এই টেরাকোটাগুলো অনন্য তাদের নির্মাণশৈলীর জন্য। মহাভারত আর রামায়ণের কাহিনী চিত্রিত আছে এই টেরাকোটায়। সাথে মোঘল আমলের অভিজাত শ্রেণী এবং সাধারণের গল্প আছে।  মন্দির প্রাঙ্গণ আয়তাকার করা হলো কিন্তু, পাথরের ভিত্তির উপরে দাঁড়ানো ৫০ ফুট উচ্চতার মন্দিরটি বর্গাকার। নিচতলার সব প্রবেশপথে বহু খাঁজযুক্ত খিলান রয়েছে। মন্দিরটি ধাপে ধাপে তিনতলা পর্যন্ত হলো। মন্দিরের পশ্চিম দিকের দ্বিতীয় বারান্দা থেকে সিঁড়ি উপরের দিকে উঠে গেছে। মন্দিরের নিচতলায় ২১টি এবং দ্বিতীয় তলায় ২৭টি দরজা-খিলান রয়েছে, তবে তৃতীয় তলায় রয়েছে মাত্র ৩টি করে।

রাজা প্রাণনাথ রায়ের মৃত্যু

১৭২২ সাল। বার্ধক্যজনিত কারণে রাজা প্রাণনাথ রায় মারা গেলেন। তাঁর কোন পুত্রসন্তান না থাকায় পরবর্তী রাজা হলেন পোষ্যপুত্র রামনাথ রায়। বাবার শেষ ইচ্ছা রক্ষার্থে তিনি বাদবাকি কাজ এগিয়ে নিয়ে গেলেন। ১৭৫২ সালে মন্দির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। নির্মাণকৃত মন্দিরটিতে নয়টি চুড়া ছিলো। তাই মন্দিরটর আরেকটি নাম ছিলো নবরত্ন মন্দির। দূর্ভাগ্যবশতঃ ১৮৫২ সালের ভূমিকম্পে নয়টি চুড়ায় ভেঙে যায়। যা আর সংস্কার করা হয়নি।

পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এটিকে প্রাচীন কীর্তি হিসেবে চিহ্নিত করে। তারপর থেকে এটি সরকারীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর ভেতরে ২০১৫ সালে ঘটে যায় তিনশ বছরের রাসমেলায় হামলা। তিনটি ককটেল ফাটানো হয় যাত্রা শুরুর মুখে। নিহত হয় অন্তত দশজন মানুষ। এতে দুইজন জঙ্গীকে গ্রেফতার করা হয়। তীব্র নিন্দা এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পরে যায় বাংলাদেশ।

নাস্তিক পন্ডিতের ভিটা

সন্মাত্রানন্দের বিখ্যাত বইয়ের নামে এই অধ্যায়ের শিরোনাম লেখা হয়েছে। নাস্তিক পন্ডিতের ভিটা! অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের জীবনের উপর রচিত বাংলাভাষার প্রথম প্রামাণ্য উপন্যাস এইটি। পাল সাম্রাজ্যের সময় বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলার বজ্রযোগিনী গ্রামে এই মহৎপ্রাণ জ্ঞানীর জন্ম হয়। বৌদ্ধধর্মের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক, সংস্কারক এবং প্রচারক ছিলেন তিনি।

জন্ম এবং শিক্ষা

সর্বজন স্বীকৃত মতামত অনুসারে, অতীশ দীপঙ্কর জন্মগ্রহণ করেন ঢাকার অদূরে মুন্সীগঞ্জের বজ্রযোগিনী গ্রামে। কিন্তু মহামহোপাধ্যায় সতীশ্চন্দ্র বিদ্যাভূষণ ও রাহুল সাংকৃত্যায়নের মতানুসারে পালযুগে মগধের পূর্ব সীমান্তবর্তী প্রদেশ অঙ্গদেশের পূর্ব প্রান্তের সামন্তরাজ্য সহোর, যা ভাগলপুর নামে পরিচিত, তার রাজধানী বিক্রমপুরীতে সামন্ত রাজা কল্যাণশ্রীর ঔরসে রাণী প্রভাবতী দেবীর গর্ভে ৯৮২ খ্রিস্টাব্দে অতীশ দীপঙ্করের জন্ম হয়। 

ছেলেবেলায় তাঁর নাম ছিল আদিনাথ চন্দ্রগর্ভ। তিন ভাইয়ের মধ্যে অতীশ ছিলেন দ্বিতীয়। তার অপর দুই ভাইয়ের নাম ছিল পদ্মগর্ভ ও শ্রীগর্ভ। জানা যায় তিনি অতি অল্প বয়সে বিয়ে করেন।

মায়ের কাছে প্রাথমিক শিক্ষাপাঠ শুরু হয় তার। অতি অল্প বয়সে তার প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়। মাত্র তিন বছর বয়সে সংস্কৃত ভাষায় তিনি পান্ডিত্য অর্জন করেন। ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বৌদ্ধ এবং অবৌদ্ধ শাস্ত্রের পার্থক্য বুঝতে পারার বিরল প্রতিভা অর্জন করেন। পরবর্তীতে বৌদ্ধ পন্ডিত জেত্রির পরামর্শ অনুযায়ী তিনি নালন্দায় শাস্ত্র শিক্ষা করতে যান।

১২ বছর বয়সে নালন্দায় আচার্য বোধিভদ্র তাঁকে শ্রমণ রূপে দীক্ষা দেন। তখনই থেকে তাঁর নাম হয় দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান। ১২ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি বোধিভদ্রের গুরুদেব অবধূতিপাদের নিকট সর্ব শাস্ত্রে পান্ডিত্য অর্জন করেন। এরপরে ১৮ থেকে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি বিক্রমশীলা বিহারের উত্তর দ্বারের দ্বারপন্ডিত নাঙপাদের নিকট তন্ত্র শিক্ষা করেন। এরপর মগধের ওদন্তপুরী বিহারে মহা সাংঘিক আচার্য শীলরক্ষিতের কাছে উপসম্পদা দীক্ষা গ্রহণ করেন।

দীপঙ্কর শতাধিক শিষ্যসহ গমন করেন মালয়দেশের সুবর্ণদ্বীপে যা বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপ নামে পরিচিত। দীর্ঘ বারো বছর আচার্য ধর্মপালের কাছে বৌদ্ধ দর্শনশাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ের উপর অধ্যয়ন করে স্বদেশে ফিরে আসেন। ফেরার পর তিনি বিক্রমশীলা বিহারে অধ্যাপনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

অন্যতম কীর্তি তিব্বতের মহাযাত্রা

অতীশ দীপঙ্করের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে দেশ এবং বিদেশে। ততকালীন সময়ে তিব্বতের সম্রাট ছিলেন ল্হ-লামা-য়েশো। তার ইচ্ছায় কয়েক জন দূত প্রচুর স্বর্ণ উপঢৌকন দিয়ে দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানকে তিব্বত ভ্রমনের আমন্ত্রন জানান। কিন্তু দীপঙ্কর সবিনয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন। সম্রাট নিরাশ না হয়ে সীমান্ত অঞ্চলে সোনা সংগ্রহের জন্য যান। কিন্তু সম্রাটের দূর্ভাগ্য, গরলোগ অঞ্চলের অধিপতি তাঁকে বন্দী করেন এবংপ্রচুর সোনা মুক্তিপণ হিসেবে দাবী করেন।

সম্রাটের ইচ্ছে ছিলো অন্যরকম! তিনি তাঁর পুত্র লহা-লামা-চং-ছুপ-ও কে মুক্তিপণ দিতে বারণ করেন এবং ঐ অর্থ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানকে তিব্বতে আনানোর জন্য ব্যয় করতে বলেন। লহা-লামা-চং-ছুপ-ও সম্রাট হয়ে গুং-থং-পা নামে এক বৌদ্ধ উপাসককে ও আরো কয়েক জন অনুগামীকে দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানকে তিব্বতে আনানোর দায়িত্ব দেন। এরা নেপালের পথে বিক্রমশীলা বিহারে উপস্থিত হন এবং দীপঙ্করের সাথে সাক্ষাৎ করে সমস্ত সোনা নিবেদন করে ভূতপূর্ব সম্রাট ল্হ-লামা-য়েশোর বন্দী হওয়ার কাহিনী ও তাঁর শেষ ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করলে দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান অভিভূত হন।

দীপঙ্করের তিব্বত যাত্রা

আঠারো মাস পরে ১০৪০ খৃস্টাব্দে বিহারের সমস্ত দায়িত্বভার ছেড়ে দিয়ে দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান তিব্বত যাত্রার জন্য প্রস্তুত হলেন। একজন দোভাষী সহ বারো জন সহযাত্রী নিয়ে প্রথমে বুদ্ধগয়া হয়ে নেপালের রাজধানীতে উপস্থিত হলেন। সেইখানে নেপালরাজ তার পরিচয় জানতে পেরে, তাকে নেপালে থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানান। মূলত নেপালরাজের আগ্রহে তিনি এক বছর সেখানে কাটান। এক বছর পর নেপাল অতিক্রম করে থুঙ বিহারে এলে তাঁর দোভাষী ভিক্ষু গ্য-চোন-সেঙ অসুস্থ হয়ে মারা যান। তিব্বতে র পশ্চিম প্রান্তের ডংরী প্রদেশে পৌছন ১০৪২ খৃষ্টাব্দে। সেখানে পৌছলে লহা-লামা-চং-ছুপ-ও এক রাজকীয় সংবর্ধনার আয়োজন করে তাঁকে থোলিং বিহারে নিয়ে যান। এখানে দীপঙ্কর তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ বোধিপথপ্রদীপ রচনা করেন।

তিব্বতে অবস্থানকালে দীপঙ্কর তিব্বতের বিভিন্ন অংশে ভ্রমণ করেন এবং বৌদ্ধ ধর্মের ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন। তিনি তিব্বতী বৌদ্ধধর্মে তান্ত্রিক পন্থার অপসারণের চেষ্টা করেন। সাথে গৌতমবুদ্ধ বিরচিত বিশুদ্ধ মহাযান মতবাদের প্রচার করেন। তিনি তিব্বতে কদম-পা নামে এক লামা সম্প্রদায়ের সৃষ্টি করেন।

কিন্তু ধর্মসংস্কার এবং ভ্রমণের মতো শ্রমসাধ্য কাজ করতে গিয়ে তাঁর স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটে। ১০৫৪ খৃস্টাব্দে মাত্র ৭৩ বছর বয়সে তিব্বতের লাসা নগরের কাছে চে-থঙের দ্রোলমা লাখাং তারা মন্দিরে এই মহৎপ্রাণ জ্ঞানীব্যক্তি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ঢাকা থেকে পন্ডিতের ভিটা

ঢাকার পাশেই মুন্সীগঞ্জ জেলা। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়েনের বজ্রযোগিনী গ্রামে অতীশ দীপঙ্করের পণ্ডিত ভিটা ও অডিটরিয়াম অবস্থিত। সড়কপথে ঢাকা থেকে মাত্র ২৩ কিলোমিটার দূরুত্বে মুন্সীগঞ্জ সদর। সদর থেকে আরো ০৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অতীশ দীপংকরের ভিটা। এছাড়াও নৌপথে যাওয়া যায় মুন্সীগঞ্জ। সদর ঘাট থেকে মুন্সীগঞ্জগামী লঞ্চে ২ ঘন্টার মধ্যেই পৌছে যাওয়া যাবে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ ঘাটে। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা হইতে রিক্সা / টেম্পু যোগে বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের বজ্রযোগিনী গ্রামে অতীশ দীপঙ্করের পণ্ডিত ভিটা অবস্থিত।

সর্বশেষ একটি মিথ

রাজা প্রাণনাথ রায় বৃন্দাবনে এলেন তীর্থ করতে। কয়েকদিন বিভিন্ন মন্দির দর্শনের পর একটি কৃষ্ণমূর্তি তাকে বিমোহিত করে৷ এত সুন্দর কৃষ্ণমূর্তি তিনি সাথে করে দিনাজপুর নিয়ে যাবেন সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু রাতেই বাধ সাধলেন স্বয়ং কৃষ্ণ! ভগবান স্বপ্নে এসে দেখা দিলেন ভক্তকে। বললেন তার মূর্তি নিয়ে গেলে ভক্তরা অখুশি হবে। কিন্তু যেহেতু রাজা প্রাণনাথও তার বড় ভক্ত। তাই একইরকম দেখতে আরেকটি মূর্তি তিনি পাবেন, পরদিন ভোরে স্নানের সময়! স্বপ্ন ভেঙ্গে গেলো তাঁর। পরদিন ভোরে, তিনি চললেন স্নানে। স্বপ্নাদেশ মতো তিনি পেলেন অবিকল একইরকম দেখতে আরেকটি । আরেকটি গল্প বলে, তিনি ফেরার পথে একটি জায়গায় তার নৌকা আটকে যায়। সেইখানেই তিনি কৃষ্ণমূর্তিটি পান। এই মূর্তিটি তিনি সাথে করে নিয়ে আসেন দিনাজপুর। ঢেপার তীরে একটি অস্থায়ী মন্দির তৈরি করেন। সেইখানে কৃষ্ণমূর্তিটি স্থাপন করে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়। এখনও কান্তজীর মন্দিরের অদূরে ভগ্নাবশেষ আছে মন্দিরটির।

সর্বশেষ কথা হলো স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন কান্তজী মন্দিরের আসল কৃষ্ণমূর্তি এখন আর নেই। অনেক আগেই চুরি হয়ে গেছে। তার জায়গায় অন্যমূর্তি স্থাপিত আছে এখন।

গুগল নিউজে পড়ুন- পাঠক বিডি

যোগ দিন পাঠক ফোরাম কমিউনিটিতে

আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন নতুন বিষয় জানুন, আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং সমমনা পাঠকদের সাথে আলোচনা করুন।

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
Twitter
Email
Print
সাবস্ক্রাইব
নোটিফিকেশন
guest
Ratting
0 মতামত সমূহ
মতামত
নতুন পুরাতন

Copyright © 2024 PathokBD.com