বাংলাদেশের গণমাধ্যম নিয়ে সাধারণ জ্ঞান ও অজানা তথ্য

আর্টিকেল এর সূচিপত্র

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কিংবা যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সাধারণ জ্ঞান (General Knowledge) অংশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি টপিক হলো আমাদের দেশের গণমাধ্যম। একটি রাষ্ট্রের দর্পণ হিসেবে কাজ করে তার প্রচার মাধ্যম বা মিডিয়া। এজন্যই গণমাধ্যমকে একটি জাতির ‘ফোর্থ এস্টেট’ (Fourth Estate) বলা হয়। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বাংলাদেশের গণমাধ্যম সম্পর্কে এমন সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানবো, যা ভর্তি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিকে আরও একধাপ এগিয়ে নেবে।

গণমাধ্যমের সাধারণ ধারণা

বাংলাদেশের গণমাধ্যম-কে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:

১. প্রিন্ট মিডিয়া (সংবাদপত্র)

২. ইলেকট্রনিক মিডিয়া (রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেট ইত্যাদি)।

বর্তমানে আমাদের দেশে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধিত সংবাদপত্রের সংখ্যা ৩২১০ টি। এর মধ্যে ১৩৫৩ টি ঢাকা থেকে এবং ১৮৫৭ টি ঢাকার বাইরে থেকে প্রকাশিত হয়। এছাড়া অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে ৪৫টি (সম্প্রচারে ৩৫টি) এবং মোট ২৮টি এফএম রেডিও স্টেশন রয়েছে।

গণমাধ্যমের উন্নয়নে গঠিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠান (ভর্তি পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ):

  • জাতীয় প্রেস ক্লাব: প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৪ সালে, ঢাকার কাকরাইলে।
  • বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল: প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
  • বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (PIB): প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে।
  • জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট: প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮০ সালে।

বর্তমান সময়ের প্রধান সংবাদপত্র ও সম্পাদক

ভর্তি পরীক্ষায় প্রায়ই বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকের নাম জানতে চাওয়া হয়। নিচে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পত্রিকার নাম ও সম্পাদকের তালিকা দেওয়া হলো:

সংবাদপত্র সম্পাদক সংবাদপত্র সম্পাদক
দৈনিক ইত্তেফাক তাসমিমা হোসেন দৈনিক প্রথম আলো মতিউর রহমান
দৈনিক কালের কণ্ঠ ইমদাদুল হক মিলন দৈনিক যুগান্তর সাইফুল আলম
দৈনিক সমকাল মুস্তাফিজ শফি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন নঈম নিজাম
দৈনিক ভোরের কাগজ শ্যামল দত্ত দৈনিক মানবজমিন মতিউর রহমান চৌধুরী
The Daily Star মাহফুজ আনাম The Dhaka Tribune জাফর সোবহান
দৈনিক সংবাদ খন্দকার মুনীরুজ্জামান The Daily Independent এম শামসুর রহমান

বাংলাদেশের প্রধান সংবাদ সংস্থাসমূহ

সংবাদ সংস্থাগুলো দেশ-বিদেশের সংবাদ সংগ্রহ করে গণমাধ্যমকে সরবরাহ করে থাকে। দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত জাতীয় বার্তা সংস্থা হলো বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS), যা ১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ইস্টার্ন নিউজ এজেন্সি (ENA)
  • ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (UNB)
  • প্রেস ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ (PIB)
  • ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশন (ISPR)
  • বিডি নিউজ (bdnews): এটি বাংলাদেশের প্রথম ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদ সংস্থা।

বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও এর ইতিহাস

বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতে টেলিভিশনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশ টেলিভিশন (BTV) দেশের জাতীয় টেলিভিশন সম্প্রচার সংস্থা। ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার ডি.আই.টি ভবনে (বর্তমান রাজউক ভবন) এটি প্রথম স্থাপিত হয়।

বিটিভি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ জ্ঞান:

  • টেলিভিশন কেন্দ্র: পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র ২টি (ঢাকা ও চট্টগ্রাম)। রামপুরায় কেন্দ্র স্থাপিত হয় ১৯৭৫ সালে।
  • রঙিন সম্প্রচার: বাংলাদেশে প্রথম রঙিন টেলিভিশন চালু হয় ১ ডিসেম্বর, ১৯৮০ সালে।
  • লোগো ডিজাইনার: ইমদাদ হোসেন।
  • প্রথম যা কিছু:
  • প্রথম শিল্পী: ফেরদৌসী রহমান
  • প্রথম নাটক: একতলা দোতলা (১৯৬৫)
  • প্রথম বাংলা সংবাদ পাঠক: হুমায়ূন চৌধুরী
  • প্রথম টিভি সিরিয়াল: ত্রিরত্ন (১৯৬৬)
  • প্রথম গান: ‘এই যে আকাশ নীল হল আজ’ (আবু হেনা মোস্তফা কামাল)

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল:

  • বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট চ্যানেল: এটিএন বাংলা (১৫ জুলাই, ১৯৯৭)

  • প্রথম বেসরকারী টেরিসট্রিয়াল চ্যানেল: একুশে টিভি (১০ মে, ২০০০)

  • প্রথম সংবাদভিত্তিক স্যাটেলাইট চ্যানেল: এনটিভি (৩ জুলাই, ২০০৩)

বাংলাদেশ বেতার ও অন্যান্য রেডিও

বাংলাদেশের গণমাধ্যম হিসেবে রেডিও বা বেতারের এক ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়।

১৯৩৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’-এর ঢাকা কেন্দ্র হিসেবে বর্তমান বাংলাদেশ বেতারের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৯৬ সালে ‘রেডিও বাংলাদেশ’ নাম পরিবর্তন করে পুনরায় ‘বাংলাদেশ বেতার’ রাখা হয়।

রেডিও সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • প্রথম বেসরকারি রেডিও: রেডিও মেট্রোওয়েভ (বর্তমানে বন্ধ)।

  • প্রথম কমিউনিটি রেডিও: রেডিও পদ্মা (৭ অক্টোবর, ২০১১ সালে যাত্রা শুরু)। বর্তমানে কমিউনিটি রেডিও ১৮টি।

  • বেতারে প্রচারিত প্রথম নাটক: কাঠ ঠোকরা (বুদ্ধদেব বসু রচিত)।

  • এফএম রেডিও (FM Radio): পূর্ণরূপ- Frequency Modulation Radio। দেশে বর্তমানে এফএম রেডিও ২৮টি। বিটিআরসি (BTRC) এফএম রেডিওর লাইসেন্স প্রদান করে।

শেষ কথা

বাংলাদেশের গণমাধ্যম সম্পর্কিত এই তথ্যগুলো ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে বিসিএস বা যেকোনো চাকরির পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত সহায়ক। পড়ার সময় সাল, প্রথম ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামগুলো বারবার রিভিশন দিলে সহজেই মনে রাখা সম্ভব।

শুভকামনা রইল তোমাদের ভর্তি প্রস্তুতির জন্য! সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে আরও কোনো নির্দিষ্ট টপিকের উপর আর্টিকেল পড়তে চাও কি?

যোগ দিন পাঠক ফোরাম কমিউনিটিতে

আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন নতুন বিষয় জানুন, আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং সমমনা পাঠকদের সাথে আলোচনা করুন।

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
Twitter
Email
Print
সাবস্ক্রাইব
নোটিফিকেশন
guest
Ratting
0 মতামত সমূহ
মতামত
নতুন পুরাতন

Copyright © 2024 PathokBD.com