পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের এক অনবদ্য সৃষ্টি। জেলেদের সুখ দুঃখের জীবনগাঁথাকে লেখক অত্যান্ত সুন্দর করে তুলে ধরেছেন বইটিতে। উপন্যাসটির কাহিনি সংক্ষেপে বলতে গেলে, বর্ষার মাঝামাঝি ইলিশ ধরার মওসুমে রাত্রিকালীন পদ্মার রূপ চিত্রণে লেখক সঙ্কেতময় উপমামণ্ডিত ভাষার আশ্রয় নিয়েছেন।
আরো পড়ুন- পদ্মজা (PDF)
লেখকের দৃষ্টিতে নদীর বুকে শত শত জেলে নৌকা আলো জোনাকির মতো ঘুরে বেড়ায়। অন্ধকারের মধ্যে আলোগুলো দুর্বোধ্য। রাতে সারা পৃথিবী যখন নিদ্রামগ্ন তখন আলোগুলো থাকে অনির্বাপিত। এই আলোতে ইলিশের নিষ্পলক চোখগুলো হয়ে ওঠে স্বচ্ছ নিলাভ মনিসদৃশ। রাত্রিকালের জেলে নৌকার এই বর্ণনা ছাড়া লেখক উপন্যাসের একাধিক স্থানে পদ্মার রূপ অঙ্কন করেছেন। পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আধুনিক বাংলা উপন্যাসের একটি বিশিষ্ট সংযোজন।
জীবন জীবিকার তাগিদে পদ্মা নদীর সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত মানুষের জীবন কাহিনী। এই জীবন কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে উপন্যাসিক জেলেদের যে অনবদ্য চিত্র অঙ্কন করেছেন, তা যেমন পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তেমনি এই উপন্যাসে মানুষের হৃদয়বৃত্তির যে বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে তাও পাঠকের মনকে দারুণভাবে নাড়া দিয়ে যায় । বাংলাদেশের সমাজজীবনে নিম্ন শ্রেণীর গ্রামীণ মানুষের বাস্তবচিত্র এখানে নিখুঁতভাবে রূপায়িত হয়েছে। পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসটি বাংলাদেশের পদ্মা তীরবর্তী অঞ্চলের জেলে সম্প্রদায়ের জীবনচিত্র।
জেলে ও মাঝিদের দুঃসাহসিক জীবনযাত্রা এই উপন্যাসের উপজীব্য। উপসে তাদের দিন কাটে । পদ্মা নদীর মাঝি জেলেদের জীবন দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে জর্জরিত। জেলেপাড়ার ঘরে ঘরে শিশুদের ক্রন্দন কোনো দিন থামে না। গ্রামের ব্রাহ্মণ শ্রেণীর লোকেরা অত্যন্ত ঘৃণাভরে জেলেদের পায়ে ঠেলে। কালবৈশাখীসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার জন্য বারবার আঘাত হানে।
ফেসবুকে আমরা- পাঠক বিডি