ম্যাসেজ – মিজানুর রহমান আজহারী। সময়ের পরিভ্রমণে দিনের পর মাস, মাসের পর বছর। বার মাসে একটি বছর যে ভাবে পূর্ণ হয় ম্যাসেজ বইটিও ১২ টি অধ্যায় দিয়ে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি অধ্যায়ের বিষয় বস্তু একটি অপরটি থেকে আলাদা। বইটির লেখক-মিজানুর রহমান আজহারী সহজ সরল ভাষায় খুব সুন্দরভাবে প্রতিটি বিষয় উপস্থাপন করেছেন। তার লেখা বাংলায় প্রথম বই কিন্তু বইটি পড়ে কখনো প্রথম বই মনে হবে না। “ম্যাসেজ” বইটি সব শ্রেণীর পাঠকের মনে জায়গা করে নিবে আশা করা যায়।
লেখক বইটিকে ১২ টি অধ্যায় বা টপিকসে বিভক্ত করেছেন। সেজন্য বইয়ের প্রচ্ছদে দেখতে পাবেন You have 12 unread message. নিন্মে টপিকস অনুযায়ী সংক্ষেপে আলোকপাত করা হলোঃ-
১) কুরআনের মা :
কুরআনের মা বলতে ‘সুরা ফাতিহা’ কে বুঝানো হয়। লেখক সুরা ফাতিহার বিভিন্ন ফজিলত, গুরুত্ব, তাৎপর্য, বিষয়বস্তু ও গঠনবিন্যাস সুনিপুণ ও সহজ ভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। সুরা ফাতিহা কুরআনের সবচেয়ে দামী ও বরকতময় সুরা যা পূর্ণাঙ্গ নাজিলকৃত প্রথম সুরা। এ সুরাকে উম্মুল কুরআন (কুরআনের জননী), সুরাতুশ শেফা (রোগমুক্তির দোয়া), ওয়াফিয়া (পূর্ণাঙ্গ পাঠ করতে হয়), সুরাতুদ দোয়া (প্রার্থনার দোয়া),সাবিউল মাসানী (নিত্য পঠিত বাক্য) ইত্যাদি বিশেষণে বিষেশায়িত করা সহ নানা দিক চমৎকারভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন।
২) মুমিনের হাতিয়ার :
দোয়া’ কে লেখক মুমিনের হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দোয়া ভাগ্য পরিবর্তন করে, মনের চাওয়া পুরণ করে।মুহাম্মদ সাঃ এর দোয়ার পদ্ধতি, দোয়া কবুলের সময়, আদবসমুহ এবং দোয়া কবুলের শর্তাবলী ইত্যাদি কুরআন হাদিসের আলোকে তুলে ধরেছেন।
৩) কুরআনিক শিষ্টাচার :
অধ্যায়ে লেখক মানুষের আচার-ব্যবহার,মানবিক-পাশবিক গুণাবলি, আদব-কায়দার সংগার্থ বিশ্লেষণ করেছেন। অন্যের নিন্দা করা, মন্দ নামে ডাকা, গীবত করা, মন্দ ধারণা করা, কারো গোপনীয় বিষয়ের পিছে লাগা ইত্যাদির কুফল ও পরিত্রাণের উপায় বর্ণনা করেছেন।
৪) উমর দারাজ দিল :
ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর রাঃ এর নৈতিক ও চারিত্রিক নৈপুণ্য, শ্রেষ্ঠত্ব, তাকওয়া, ব্যক্তিত্ব, সংস্কারকর্ম, ন্যায়পরায়ণতা সাবলীল ভাষায় ফুটে উঠেছে এ পর্বে।
৫) ডাবল স্ট্যান্ডার্ড :
ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বলতে মুনাফিক কে বুঝায়। এ অংশে মুনাফিকের সংগা- কর্ম, আত্নপ্রকাশ, প্রকারভেদ, আলামত, বৈশিষ্ট্য এবং তা থেকে উত্তরণের পদ্ধতি আলোচিত হয়েছে।
৬) উসরি উসরা কষ্টের সাথে স্বস্তি :
মানুষের জীবন বৈচিত্র্যময়৷ সুখ-দুঃখ ভালো মন্দ, কষ্ট -হতাশা সবার জীবনে আসে পর্যায়ক্রমে। তাই হতাশাগ্রস্থ না হয়ে আল্লাহর সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে সমস্যা দূর করতে হবে।
৭) রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন :
রাগের ক্ষতিকর দিক, সংগা, রাগের কারণ, রাগ কমানোর পদ্ধতি ইত্যাদি আলোচিত হয়েছে এ অংশে।
৮) শ্বাশ্বত জীবনবিধান :
লেখক শাশ্বত জীবনবিধান বলতে ইসলামী জীবনবিধানকে বুঝিয়েছেন। ইসলাম যে আল্লাহর মনোনিত জীবনবিধান, মানবতার ,ব্যপকতার ,সর্বজনীন, সহজতার,স্বভাবজাত,জ্ঞানের, শান্তির,মধ্যমপন্থির ধর্ম তা তিনি সুচারুভাবে প্রমাণ ও ব্যাখ্যা করেছেন।
৯) স্মার্ট প্যারেন্টিং :
আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামত সন্তান; সন্তান প্রতিপালনে ইসলামি নির্দেশনা, ভালো পিতামাতা হওয়ার উপায়। এখানে সন্তান পালনের ধর্মীয়, সামাজিক ও সায়েন্টেফিক নিয়ম উল্লিখিত হয়েছে।
১০) মসজিদঃ মুসলিম উম্মাহর নিউক্লিয়াস :
সমাজে মসজিদের ভুমিকা, মসজিদ আবাদ করার নিয়ম, মসজিদুল হারাম,মসজিদে নববী ও মসজিদে আকসার গুরুত্ব ও ইতিহাস আলোচিত হয়। তাছাড়াও মসজিদকে কিভাবে সামাজ বিনির্মানে কাজে লাগাতে হবে তাও এখানে উল্লিখিত হয়েছে।
১১) ঐশী বরকতের চাবি :
এ অংশে হালাল হারামের বিবরণ, রিজিক ইত্যাদি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন।
১২) বিদায় বেলা :
মানুষের অন্তিম যাত্রা মৃত্যু। সকলকে এ পথের যাত্রী হতে হবে। শেষ অধ্যায়ে লেখক অবিশ্বাসীদের বিদায়, পরকালের ইন্টারভিউ, শেষ বিদায়, ভালো/খারাপ মৃত্যুর লক্ষণ ইত্যাদি বর্ননা করেছেন।
| আরো পড়ুন | |
| আর্টিকেল পড়ুন |