আমার ফাঁসি চাই ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত মতিউর রহমান রেন্টু রচিত বই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বইটিতে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চরিত্রের বিভিন্ন দিক বর্ণনা করা হয়েছে। ইতিহাস বিকৃতি এবং রাজনৈতিক বিতর্ক ছড়ানোর অভিযোগে শেখ হাসিনা কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পাশাপাশি মতিয়ুর রহমান রেন্টুকে সস্ত্রীক অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছিল।
| পদ্মজা (PDF) |
১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত, প্রায় ১২ বছর ধরে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত মতিয়ুর রহমান রেন্টু দলের নেতা ও হাসিনার পরিবারের সদস্যদের অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ করায় হাসিনা তাকে ও তার পরিবারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। অবাঞ্ছিত ঘোষণার পর রেন্টু হাসিনার নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে বইটি লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বিরোধীদল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মালিকানাধীন দৈনিক দিনকাল পত্রিকায় আমার ফাঁসি চাই বইটির অংশ নিয়মিত প্রকাশ করা হলেও পরে বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে পত্রিকাটি ২০০০ সালের ২৬ জুনে “পাঠকবৃন্দ বইটির প্রকাশ অব্যাহত রাখতে পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে টেলিফোনে অনুরোধ করে” বলে প্রকাশ করে। ২০০০ সালের ২৯ জুন সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করতে পারে কারণ দেখিয়ে হাসিনার সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে। কলাম লেখক আব্দুল হান্নানের মতে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড নিয়ে বইটি করা দাবি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল কেননা তা অন্য কারো কাছ থেকে নেওয়া হয়নি বরং সরাসরি লেখক তুলে ধরেছেন।
বদরুদ্দীন উমর বইটি নিষিদ্ধ করার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই কাজকে অগণতান্ত্রিক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন যে মানুষের মাঝে বইটি নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। খালেদা জিয়া বইটিতে লেখা শেখ হাসিনা দ্বারা তাকে হত্যা করার ইচ্ছার কথা পড়ার পর ধারণা করেন যে বিভিন্ন সময় তাকে একাধিক হত্যাচেষ্টার পেছনে হাসিনার হাত থাকতে পারে। অন্যদিকে শেখ হাসিনা বইটি প্রকাশের পেছনে খালেদা জিয়ার ষড়যন্ত্র আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন পোষণ করেন।
ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন- পাঠক বিডি