হৈমন্তী একটি নারীকেন্দ্রিক গল্প, যা ঊনবিংশ শতকের বাংলা সমাজে নারীর অবস্থানকে তীব্রভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। হৈমন্তী শিক্ষিত, চিন্তাশীল, কিন্তু পরিবারে তার স্থান অত্যন্ত সংকুচিত। শ্বশুরবাড়ির রক্ষণশীলতা ও তার স্বামীর উদাসীনতা তাকে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে দেয়। রবীন্দ্রনাথ এই গল্পে কন্যাদান, পণ, ও নারীর আত্মপরিচয় নিয়ে সরাসরি কথা বলেছেন।
গল্পটি ক্ষোভ ও বেদনায় ভরপুর, তবু ভাষা সংযত। হৈমন্তীর মৃত্যু ও তার আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো সমাজের নির্দয়তাকে স্পষ্ট করে তোলে। এটি শুধুমাত্র এক নারীর কষ্ট নয়, বরং একটি গোটা প্রজন্মের স্তব্ধ অভিজ্ঞতা। গল্পটি সময়কে অতিক্রম করে আজও প্রাসঙ্গিক। এটি নারীর অধিকার ও অস্তিত্বের এক সাহসী ঘোষণা। গল্পটি বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য সামাজিক ভাষ্য।