নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাচ্যের ডান্ডি হিসাবে খ্যাত। ইংরেজ আমলে আধুনিক শিল্প নগরীরূপে নারায়ণগঞ্জ এর অভ্যুদয় ঘটে। প্রাচীন কাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ একটি এইতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পর দেশের অন্যতম বৃহত্তম নদী বন্দর ও বৃহত বড় শিল্প নগরীরূপে জাতীয় জীবনে নারায়ণগঞ্জের ভূমিকা ব্যাপকতর হয়ে ওঠে। ১৯৮৪ সালে নারায়ণগঞ্জ শহরকে কেন্দ্র করে এতদঞ্চল জেলার মর্যাদা লাভ করলে এর প্রশাসনিক মর্যাদা ও বৃদ্ধি পায়।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অবস্থান ও পরিচয়ঃ
ঢাকা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত একটি জেলা হলো নারায়ণগঞ্জ। শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে একটি বিখ্যাত নদীবন্দর হলো নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর। নারায়ণগঞ্জ ঢাকা বিভাগের সবচাইতে ছোট জেলা। এর আয়তন ৬৮৩.১৪ বর্গ কিলোমিটার। এ জেলাটির স্থানাংক ২৩°৩৬’ উত্তর ৯০°৩০’ পূর্ব। নারায়ণগঞ্জ জেলা রাজধানী ঢাকা থেকে দক্ষিণ – পূর্বে ২৩°৩৩’ থেকে ২৩°৫৭’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°২৬’ থেকে ৯০°৪৫’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। এর পূর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা, পশ্চিম ঢাকা, উত্তরে নরসিংদী ও গাজীপুর এবং দক্ষিণে মুন্সীগঞ্জ জেলা। এ জেলায় বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৭৭০ মিলিমিটার। এখানে সবচেয়ে উষ্ণতর মাস হলো এপ্রিল, মে ও জুন এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩.৪০° সেলসিয়াস। আর সবচেয়ে শীতলতর মাস হলো ডিসেম্বর এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২.২০° সেলসিয়াস।
নারায়ণগঞ্জ জেলা এর ইতিহাসঃ
রাজধানী শহর ঢাকা হতে প্রায় দশ মাইল পূর্ব – দক্ষিণের জেলা শহরটির নাম নারায়ণগঞ্জ জেলা। এর আরোও একটি পরিচয় রয়েছে। তা হলো সু – বৃহৎ নদীবন্দর হিসেবে নারায়ণগঞ্জ খ্যাত। শীতলক্ষ্যা নদীর দু তীরে জেলাটির অবস্থান। নারায়ণগঞ্জ এর রাজনীতির মূল কেন্দ্র হলো অনতিদূরে সোনারগাঁও ওরফে সুবর্ণগ্রাম। ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির বাংলা দখলের পর রাজা লক্ষ্মণ সেন সোনারগাঁওয়ে পালিয়ে আসেন। মুসলিম বিজয়ের প্রায় এক শতাব্দী পূর্বে বিভিন্ন বৌদ্ধ বংশ যথা – চন্দ্র বংশ, পাল বংশ ও দেব বংশ সোনারগাঁওয়ের কর্তৃত্ব করেছেন। ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন নিজেকে পূর্ব বাংলার স্বাধীন রাজা হিসেবে ঘোষণা করে সুলতান সিকান্দার শাহ উপাধি ধারণ করলেন। তিনি সোনারগাঁওয়ের টাকশাল হতে স্বীয় নামে মুদ্রা উৎকীর্ণ করে তা প্রচলিত করেন।
রাজনৈতিক ইতিহাসঃ
এক সময় নারায়ণগঞ্জ জেলাটি সাধারণ একটি শহর ছিল। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক বেশি থাকার কারনে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সূচনা ঘটে। এক্ষেত্রে হিন্দু সমাজের বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে হরকান্ত ব্যানার্জি, শশী কুমার দত্ত, রাজকুমার দত্ত, বৃন্দাবন পাল, গুরুপদ ভৌমিক, মহিম চন্দ্র গাঙ্গুলি, আশুতোষ ঘোষ, প্রাণ কুমার দাস প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। ১৯১৯ সালে ৭ই এপ্রিল প্রতিবাদ দিবস আহবান করা হয়, যেখানে শহরের সকল স্কুলের ছাত্ররা মিছিলে নেমেছিল। ১৯২১ সালে গান্ধীজি অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়। তখন থেকে বিদেশি প্যান্ট – শার্ট পরা বাদ দিয়ে বাঙালিরা দেশীয় বস্ত্র দ্বারা উৎপাদিত ‘খদ্দর’ পরার প্রচলন শুরু হয়। অসহযোগ আন্দোলনকে টিকিয়ে রাখার জন্য ‘সিভিল ডিসঅবিডিয়েন্স কমিটি ফর নারায়ণগঞ্জ’ নামক কমিটি গঠন করা হয়। এখানে একটি মহিলা দলকে পিকেটিং ওর সময় গ্রেফতার করা হয়। মূলত অসহযোগ আন্দোলন করা হয়েছিল বিদেশি দ্রব্য বর্জন করে দেশীয় দ্রব্য ব্যবহার করার জন্য। এ আন্দোলন চলাকালীন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস কংগ্রেসের জন্য তহবিল সংগ্রহ করার জন্য নারায়ণগঞ্জে এসেছিলেন। এমনকি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস ও ১৯২৮ সালে পৌরসভা নির্বাচনে এবং ১৯৩৮ সালে কংগ্রেসের নেতা হয়ে নারায়ণগঞ্জ এসেছিলেন।। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ইংরেজ সরকার নারায়ণগঞ্জ এ একটি সামরিক হাসপাতাল স্থাপন করেছিলেন।
মুসলিম লীগঃ
নারায়ণগঞ্জে ১৯৩০ সাল হতে মুসলিম লীগের জোর তৎপরতা শুরু হলেও মুসলিম লীগ কমিটি গঠিত হয় অনেক আগে থেকেই। ১৯১০ সালে নবাব সলিমুল্লাহ মুসলিম লীগের সাংগঠনিক কাজে আবুল বশির শামসুজ্জোহাকে নারায়ণগঞ্জে পাঠান। তিনি ১৯১২ সালে প্রথম মুসলিম লীগ কমিটি গঠন করেন এবং ১৯২০ সাল পর্যন্ত সেখানে সভাপতি হিসেবে কাজ করেন। ১৯২০ সালের পর খান সাহেন আব্দুল আলীসহ প্রমুখ মুসলিম লীগের সাথে যুক্ত হয়ে এর কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যান। তখন নারায়ণগঞ্জে মুসলমানদের জন্য কোনো আবাসিক হোটেল ছিল না। এ বিষয়ে একটি কার্যকরী ব্যবস্থা করার জন্য মুসলিম লীগ কমিটি হতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৩৯ সালে ঢাকায় হিন্দু – মুসলমান দাঙ্গা হয়। এসময় সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ নেতা চৌধুরী খালেকুজ্জামান ঢাকায় আসেন এবং বক্তৃতা দেন।
আওয়ামী লীগঃ
স্বাধীনতার আগে থেকেই বিরোধী দল গঠনের প্রস্তুতি চলছিল বাংলায়। এর জন্য নারায়ণগঞ্জ এর কয়েকটি ঘরোয়া আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৫৮ সালে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক কলকাতা থেকে ঢাকা আসেন। আওয়ামী লীগ এর একটি বক্তৃতা ও সংবর্ধনার জন্য। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের শহর কমিটি গঠিত হয়। এর প্রথম সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন আলমাস আলী। আওয়ামী লীগের প্রথম পর্যায়টি ছিল খুবই উউদ্বেগজনক। সরকারি দলের পক্ষ থেকে এক ধরনের ভাড়া করা দল তাদের কাজে নানাভাবে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতো। ১৯৫৩ সালে ঢাকায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়। এ দাঙ্গা নারায়ণগঞ্জে ও বিস্তার লাভ করে।
শিল্প ও বাণিজ্যঃ
নারায়ণগঞ্জ শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছিল এবং এ স্থান ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে বেশ পরিচিত ছিল। এ বন্দর নগরী বহুযুগ আগে থেকে দেশে পাটের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হতো এবং এর দ্বারা বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জিত হতো। এখানে ভারতবর্ষের অন্যতম উপযোগী ও বিখ্যাত বস্ত্র উৎপন্ন হতো। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে নারায়ণগঞ্জে ১৬০ টি লবণ গোলা ছিল। এ সময় নারায়ণগঞ্জে মগ, আরাকানী ও চীনাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। ১৮৬২ সালে স্টিমার সার্ভিস চালু হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ এর ব্যবসা উন্নততর হয়। ১৮৭৯ সালে ব্রিটিশ সরকার ব্যবসাকে অবাধ ভাবে সম্প্রসারণের জন্য নারায়ণগঞ্জকে ‘স্বাধীন বন্দর’ বলে ঘোষণা করেন। তারপর থেকে ইংরেজরাও বিনা শুল্কেই অবাধে বাংলায় ব্যবসা করতে চলে আসে। ইংরেজ আমলে একমাত্র আন্তর্জাতিক বাজার ছিল কলকাতায়। কলকাতা বন্দর হয়ে নানারকম পণ্য দ্রব্যাদি যেমন – চাল,চিনি, তেল, চা, সুতা, সোনা, রূপা, তামা ইত্যাদি ইংরেজ বণিকরা জাহাজ বোঝাই করে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসতো। এ মালামাল ছড়িয়ে পড়ত সারা বাংলাদেশের হাটে – বাজারে। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে পাট ব্যবসা রমরমা ছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তের পর ইস্পাহানি গ্রুপ, আদমজি গ্রুপ, দাউদ গ্রুপ ও বাওয়ালি গ্রুপ নারায়ণগঞ্জে এসে তাদের পাট ব্যবসা শুরু করেন। ফলশ্রুতিতে ইংরেজরা ব্যবসায় পিছিয়ে পড়ে।
জুট মিলসঃ
১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্ত কালীন সময়ে দেখা যায়, পাটের মোট উৎপাদনের জন্য ৭৫ শতাংশ বাংলাদেশের সীমানায় এবং ১৮০ টি পাট কল বা জুট মিলস ভারতের সীমানায় পড়েছিল৷ আর শুরু থেকেই পাট ছিল বাংলাদেশের প্রধান অর্থকারী ফসল। বিদেশে রপ্তানি করা এবং পাটজাত দ্রব্যাদি তৈরি করার জন্য বাংলাদেশ সরকার জুটমিল স্থাপন করেন, যার বেশিরভাগ গুলোই নারায়ণগঞ্জে ছিল। কয়েকটি পাটকলেত সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিম্নে দেওয়া হলো-
১। দি বাওয়া জুট মিলসঃ
১৯৫১ সালে পশ্চিম পাকিস্তান সরকার বাওয়া গ্রুপের সাথে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রথম পাটকল স্থাপন করার ব্যবস্থা করেছিল এবং সেবছরই নারায়ণগঞ্জের সোনাকান্দা অঞ্চলে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাড়ে দি বাওয়া জুট মিল স্থাপন করেন।
২। আদমজী জুট মিলসঃ
আদমজী জুট মিলস বাংলাদেশ শিল্প অগ্রযাত্রার মাইল ফলক। ১৯৫১ সালের ১২ ই ডিসেম্বর আদমজী জুট মিলস নারায়ণগঞ্জের অদূরে সিদ্ধিরগঞ্জে উৎপাদন শুরু করে। প্রতিদিন এখানকার গড় উৎপাদন ছিল ২৮৮ টন।
১৯৫৮ সালে পাটশিল্প নারায়ণগঞ্জের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। ১৯৬৭ সালের মধ্যে ২১ টি ও ১৯৮০ সালের ৭৪ টি জুট মিলস ছিল। যার বেশিরভাগই নারায়ণগঞ্জে অবিস্থিত ছিল। যেমন – আদমজী জুট মিলস, বাওয়া জুট মিলস, ক্রিসেন্ট জুট মিলস, গাউছিয়া জুট মিলস, হোসেন জুট মিলস, সাত্তার জুট মিলস, সারোয়ার জুট মিলস, মনোয়ার জুট মিলস, আশরাফ জুট মিলস, নওয়াব জুট মিলস প্রভৃতি।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃ
নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্যতম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে – শীতলক্ষ্যা প্রাথমিক বিদ্যালয়, নয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাবুরাইল বালক প্রাথমিক বিদ্যালয়, নলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিদ্ধিরগঞ্জ উত্তর প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলিরটেক প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রভৃতি। উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জয়গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়, দেওভোগ হাজী উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়, ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয় প্রভৃতি অন্যতম। বিখ্যাত কলেজের মধ্যে সরকারি তোলারাম কলেজ, নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজ, নারায়ণগঞ্জ কলেজ,নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজ, সোনারগাঁ ডিগ্রি কলেজ উল্লেখযোগ্য।
সংস্কৃতিঃ
শীতলক্ষ্যা নদীর শীতল স্রোতধারাররত গৌরবময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হলো বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ও বৃহৎ নদীবন্দর নারায়ণগঞ্জ। নারায়ণগঞ্জের পূর্বতীরে অবস্থিত সোনারগাঁ প্রাচীন শিল্প ও সাহিত্য – সংস্কৃতির গর্ব। স্বাধীনতা অর্জনের পর নারায়ণগঞ্জ মহকুমা জেলায় পরিণত হয়। জেলা হিসেবে বর্তনান নারায়ণগঞ্জ জেলা তেমন বড় নয়। নারায়ণগঞ্জ শহরই মূলত সাহিত্য – সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান লীলাভূমি। এখানে রয়েছে শতাব্দীর প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এখানে সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় কর্মী ও শিল্পীর আবির্ভাব ঘটে। সংস্কৃতি হিসেবে নাটক, মঞ্চ, নাট্য রচনা, গ্রুপ থিয়েটার, সঙ্গীত ইত্যাদির বেশ চল আছে নারায়ণগঞ্জ জেলায়।
পত্র – পত্রিকাঃ
দীর্ঘদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জ হতে পত্র – পত্রিকা প্রকাশের চেষ্টা চলছে। স্থায়ীভাবে কোনো পত্রিকাই নারায়ণগঞ্জ হতে প্রকাশ সম্ভব হয় নি। বর্তমানে ‘সকালবার্তা’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে, যার সম্পাদক নিরঞ্জন রায় ও সভাপতি রফিকউদ্দিন ভূইয়া। ত্রিশের দশকে খান সাহেব ‘সবুজ বাংলা’ পত্রিকাটি প্রকাশ করেন এবং রবীন্দ্রনাথ এর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছিলেন। দ্বিগুবাবুবাজার থেকে আরেকটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল যার নাম ‘বার্তাবহ’। পঞ্চাশ সালের পরে তা প্রকাশিত হওয়া বন্ধ হয়ে যায়।