গাজীপুর জেলা বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চল। ইংরেজ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল পর্যন্ত বিভিন্ন সংগ্রাম ও আন্দোলনে রয়েছে গাজীপুর জেলার বিশেষ অবদান। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধ প্রথম গাজীপুরেই সংঘটিত হয়েছিল। গাজীপুর জেলার ইতিহাস এবং বেশ কিছু জানা – অজানা বিষয় সম্বন্ধে আজ এ আলোচনা হতে আমরা অবহিত হব।
ভৌগলিক অবস্থানঃ
তুরাগ, বেলাই, চিলাই, ব্রহ্মপুত্র, শীতলক্ষ্যা, লবলং সহ আরোও বেশকিছু নদীবিধৌত এবং অরণ্যে আচ্ছাদিত গাজীপুর জেলা ২৩°৫৩’ থেকে ২৪°২০’২৪” উত্তর অক্ষাংশ ও ৯০°৯’ থেকে ৯০°৪২’ পূর্ব দ্রাঘিমা পর্যন্ত বিস্তৃত। ২০০১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী, গাজীপুর জেলায় ৬ টি থানা, ৫ টি উপজেলা, ৪৭ টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪ টি পৌরসভা, ৮১৪ টি মৌজা, ১৩৩০ টি গ্রাম রয়েছে। তবে বর্তমানে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন আছে। এখানকার নগরীয় জনসংখ্যা ৯০৪০০০, মোট পুরুষের সংখ্যা ২১৪৩৪১১ ও নারীর সংখ্যা ১০২৫২৪০ জন। গাজীপুরের উত্তরে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলা, পূর্বে কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা, দক্ষিণে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ, পশ্চিমে ঢাকা ও টাংগাইল জেলা। ইংরেজ আমলে এটি ভাওয়াল গড় নামে পরিচিত ছিল। গাজীপুর জেলা বাংলাদেশের মোট ভূমির শতকরা ১.১৮ ভাগ জুড়ে বিদ্যমান। আয়তনের দিক দিয়ে গাজীপুর জেলা সারা বাংলাদেশের মধ্যে ৩৯ তম এবং ঢাকা বিভাগের মধ্যে ৭ম স্থানে রয়েছে। গাজীপুরের সর্ব বৃহৎ উপজেলা শ্রীপুর এবং ক্ষুদ্র থানা টংগী।
গাজীপুর জেলার নামকরণঃ
গাজীপুর জেলার একটি সমৃদ্ধ অতীত রয়েছে। প্রায় ২০০ বছর আগে এ জেলায় মৌর্য সম্রাট অশোকের শাসন বিরাজমান ছিল। প্রাচীন যুগ হতে গাজীপুর জেলার ঐতিহাসিক ক্ষুদ্র জনপদ সমূহ পাল, দাস ও চন্ডালদের দ্বারা শাসিত হয়। মুসলিম সময়ে এসে এই জনপদ গুলো ভাওয়াল নামে সুপরিচিত হয়ে ওঠে। মধ্যযুগে ভাওয়াল ছাড়াও কাশিমপুর সহ আরোও বেশকিছু পরগণার সৃষ্টি হয়। খ্রিষ্টীয় ৯ম শতাব্দীতে জমিদারেরা ভাওয়ালের বিভিন্ন স্থানে স্থানে ক্ষুদ্র কিছু সামন্ত রাজ্য স্থাপন করেছিলেন, যা,বর্তমানে শ্রীপুর, কালিয়াকৈর, কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ, টংগী নামে পরিচিত। চন্ডাল রাজার পতনের পর ভাওয়াল গাজীদের আধিপত্য শুরু হয়। এর নামকরণের ব্যাপারে এখনও অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে।
| ফটোম্যাথ কি? PhotoMath কীভাবে কাজ করে? এর ব্যবহার সহ বিস্তারিত |
বর্তমান ভাওয়ালকে অনেকে ‘ভদ্রপাল’ বা ‘ভবপাল’ রাজ্য বলে অনুমান করেন। কেউ কেউ ধারণা করেন, ‘ভগালয়’ থেকে ‘ভাওয়াল’ নামটি এসেছে। ভগালয় নামের উল্লেকগ মহাভারতে পাওয়া গেছে। তবে এসব কথার কোনো জোরালো প্রমাণ নেই। তবে ভাওয়াল নামটি প্রথম ‘আইন – ই – আকবরী’ গ্রন্থে পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি যখন বাংলা আক্রমণ করেন, তখন রাজা লক্ষ্মণ সেন রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে যান। ফলে বিনা যুদ্ধেই মুসলিম শাসনের উত্থান ঘটে। এ সময় ভাহওয়াল গাজীও (ভাওয়াল) শক্তিশালী হয়ে উঠেন। তিনি নিজের নামানুসারে এ রাজ্যের নাম দেন ভাহওয়াল। ভাহওয়াল নামটি ধীরে ধীরে পরবর্তীতে ভাওয়াল নামে পরিচিত হয়। ভাওয়াল পরগণায় স্থায়িত্বকাল ছিল ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত। পরবর্তীকালে তালিপাবাদ, কাশিমপুর, চাঁদপ্রতাপ, সেলিম প্রতাপ পরগনা নিয়ে ১৯৮৪ সালে গাজীপুর জেলা গঠিত হয়।
কৃষিঃ
গাজীপুরে সভ্যতার সূচনা ঘটেছিল প্রায় ৫০০০ বছর আগে। আর নদীমাতৃক কৃষি সভ্যতায় অন্যতম ক্ষেত্র ছিল ভাওয়াল। তখন দ্রাবিড় জনগোষ্ঠী প্রথম কৃষি সভ্যতার সূচনা করে। বর্তমানে উপজেলাভিত্তিক মাটির ভিন্নতা প্রকাশ করা সম্ভব। যেমন – গাজীপুর সদরে যে মাটি পাওয়া যায়, তার শতকরা ৫০ ভাগই এঁটেল মাটি, শতকরা ২৫ ভাগ দো – আশ মাটি, শতকরা ১৫ ভাগ বেলেমাটি ও শতকরা ১০ ভাগ কাঁকরের দেখা মিলে। শ্রীপুর উপজেলার মাটিতে ৭৫% দো – আশ, ২% বেলে, ১৫% এটেল ও ৮% কাঁকরের সন্ধান মিলে। আবার কাপাসিয়ায় শতকরা ২০% দো – আশ, ৫৫% বেলে ও ২৫% এঁটেল মাটি রয়েছে। সেখানে কাঁকর নেই বললেই চলে। গাজীপুর জেলার পলি সমৃদ্ধ জমিতে ধান, পাট, গম ও আখের চাষ হয়।
লাল মাটির এলাকায় ধান, হলুদ, আদা, শাকসবজি, পেয়ারা গাছ ভালো জন্মে। অপেক্ষাকৃত অনুর্বর ভূমিতে আনারস, কাঁঠাল, লিচু, আম, জাম গাছের বাগান করা হয় এবং বাসযোগ্য বাড়ি নির্মাণ করা হয়। বর্ষাকালে নিচু জমির পানিতে ভাসতে দেখা যায় শাপলা ও পদ্মফুল। হাড়িনাল ও লাঘালিয়া গ্রামে বর্ষাকালে প্রচুর পদ্মফুল ফোটে। এছাড়া তিতারকুলের মধ্যবর্তী নিম্নভূমি, কালিয়াকৈরের ডাকুরাই, চন্দ্রা ও মকশ বিলে কচুরিপানার সাথে এক ধরনের জলজ আগাছা জন্মে, যার স্থানীয় নাম ‘দাম’। এগুলো শীতকালে গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
গাজীপুরে উৎপাদিত ফসলঃ
খাদ্যশস্য এর মধ্যে আউশ ধানের আবাদ গাজীপুরে ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে। তবা রোপা আমন অনেক বেশি হয়ে থাকে, যা শাইল ধান হিসেবে পরিচিত। এছাড়া জেলার নিম্নাঞ্চলে বোরো ধান চাষ হয়। বহু প্রকারের ধানের জাত আজ বিলুপ্ত। ফলের রাজা কাঁঠালের জন্য গাজীপুরের বেশ খ্যাতি আছে। এছাড়া আম, জাম, কলা, লিচু, পেঁপে, পেয়ারা, বরই, লেবু ইত্যাদি ফল বেশ জন্মে। গ্রীষ্ম ও শীতকালে কুমড়া, পটল, করলা, বেগুন, ডাটা, বরবটি, লাউ ইত্যাদি সবজি উৎপাদিত হয়। আর শীতকালে বেশি জন্মে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, সিম, আলু, লাউ, শসা, গাজর, শাক ইত্যাদি।
|
আর্টিকেল লেখার নিয়ম – বাংলা আর্টিকেল লিখে টাকা ইনকাম করার সেরা ১০ টি নিয়ম |
তুলা চাষঃ
যতীন্দ্র মোহন রায়ের বর্ণনামতে, বানার নদী তীরবর্তী গ্রাম কাপাসিয়ায় এত বেশি পরিমাণে কার্পাস তুলা জন্মাতো যে এ কারণে ঐ স্থানের নামকরণ করা হয় কাপাসিয়া। কাপাসয়ার তিতবাটিতে কার্পাস তুলা হতে মসলিন তৈরি হতো।
গাজীপুরে নীল চাষঃ
নীল চাষের কথা শুনলেই ব্রিটিশদের দ্বারা কৃষকদের অত্যাচারের কথা মনে পড়ে যায়। গাজীপুরে এক সময় নীলচাষ শুরু হলেও তা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় নি। এক ধরনের বন্য গাছ নীল, এক্সার আদি বাসস্থান ছিল আরব – আফ্রিকা ও ভারতবর্ষের বনাঞ্চল। প্রাচীন ভারতের হিন্দু রাজাদের সময় থেকে নীল চাষের প্রচলন ছিল। তবে সারা ভারতবর্ষে যখন নীল চাষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন শুরু হয় অর্থাৎ নীলচাষের শেষদিকে ইংরেজরা তাদের সৌখিনতার বশবর্তী হয়ে গাজীপুর পৌরসভার নীলেরপাড়া ও কাশিমপুর ইউনিয়নের নীলনগর গ্রামে নীলের চাষের সামান্যই আয়োজন ছিল। নীলগাছ দেখতে পাটগাছের মতো, কিন্তু এর পাতা ছোট। নীল চাষ করা হলে সে জমির উর্বরতা কমে যেত, ফলে কৃষকেরা সে জমিতে আর অন্য কিছু চাষ করতে পারত না। এভাবে তাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যেত কিন্তু ইংরেজরা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য বাংলার কৃষকদের বাধ্য করতো নীলচাষ করাতে।
মৎস্য চাষঃ
গাজীপুরে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ত্রিশটি নদী ও পঞ্চাশটির মতো খাল। নদী – খাল – বিলে বর্ষাকালে বেশি পানি থাকায় মাছও থাকে যা শীতকালে কমে যায়। নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা হয়। গাজীপুরের বিল – বেলাইয়ে শিং, মাগুর, কৈ, মলা, ঢেলা, চান্দা, টাকি, বাইন, চাপিলা, টেংরা, বোয়াল, তেলাপিয়া, সিলবার কার্প ইত্যাদি মাছ পাওয়া যায়। জয়দেবপুর বাজার থেকে ঢাকা পর্যন্ত সর্বত্রই এসব মাছের ব্যাপক চাহিদা এদের স্বাদের জন্য।
এক নজরে গাজীপুরঃ
গাজীপুরে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সদর দপ্তর, পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় ও দু’টি ক্যান্টনমেন্ট রয়েছে। আরোও রয়েছে দেশের একমাত্র হাইটেক পার্ক, সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এর পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে বৃহৎ, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সিটি কর্পোরেশন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এর আয়তন ৩৩০ বর্গ কিলোমিটার। শুধু গাজীপুরের মধ্যেই সারাদেশের শতকরা পঁচাত্তর ভাগ গার্মেন্টস শিল্প অবস্থিত। গাজীপুরে টংগীর তুরাগ নদীর তীরে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইজতেমা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান হলো বাংলাদেশের একমাত্র জাতীয় উদ্যান, যা গাজীপুরে অবস্থিত। এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ সাফারি পার্ক গাজীপুরে অবস্থিত, যার নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। বাংলাদেশের একমাত্র টাকা তৈরির কারখানা টাকশাল গাজীপুরে অবস্থিত। এখানে দেশের সকল টাকা তৈরি করা হয়। বাংলাদেশের একমাত্র অস্ত্র তৈরির কারখানা সমরাস্ত্র কারখানাও গাজীপুরে অবস্থিত। গাজীপুরে রয়েছে কাশিমপুর কারাগার, যেটি বাংলাদেশের তেরটি কারাগারের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও গাজীপুরে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট, ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট ও তুলা গবেষণা ইন্সটিটিউট।
শিক্ষা ক্ষেত্রে গাজীপুরঃ
গাজীপুর জেলায় স্বাক্ষরতার হার শতকরা প্রায় আশি ভাগ। এখানে অনেক স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কার্যালয় গাজীপুরেই অবস্থিত। এছাড়া উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ রয়েছে। উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ সমূহের মধ্যে রয়েছে রানী বিলাসমনি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, জয়দেবপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, টংগী সরকারি কলেজ,ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ প্রভৃতি।
দর্শনীয় স্থানঃ
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ছাড়াও গাজীপুরে প্রচুর দর্শনীয় স্থান রয়েছে। যেমন – ভাওয়াল রাজবাড়ী (গাজীপুর সিটি), কাশিমপুর জমিদার বাড়ি (গাজীপুর সদর), আনসার একাডেমি (কালিয়াকৈর), শ্রীফলাতলী জমিদার বাড়ি (কালিগঞ্জ), নুহাশ পল্লি ( গাজীপুর সদর), বলিয়াদী জমিদার বাড়ি (কালিয়াকৈর) প্রভৃতি।
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গঃ
১। মেঘনাদ সাহাঃ
মেঘনাদ সাহার জন্ম ৬ অক্টোবর, ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার শেওড়াতলী গ্রামে। তার পিতার নাম জগন্নাথ সাহা ও মায়ের নাম ভুবনেশ্বরী দেবী। মেঘনাদ তাদের পঞ্চম সন্তান ছিল। জগন্নাথ সাহা ছিলেন একজন মুদি। মেঘনাদ এবং সত্যেন বোস যুগ্মভাবে সর্বপ্রথম আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব সহ তার বিভিন্ন নিবন্ধ ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করে প্রকাশ করেন। আইনস্টাইনের ১৯০৫ থেকে ১৯১৬ সাল পর্যন্ত মোট যতগুলি নিবন্ধ জার্মান ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল তার সবগুলো ইংরেজিতে অনুবাদ শুরু করেন মেঘনাদ সাহা ও সত্যেন্দ্রনাথ বসু। তাদের এই অনুবাদ ১৯১৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রিন্সিপাল্স অব রিলেটিভিটি নামে প্রকাশিত হয়। মেঘনাদ সাহা পরমাণু বিজ্ঞান, জ্যোতির্পদার্থবিদ্যা, নিউক্লিয় পদার্থবিদ্যা, আয়ন মণ্ডল, বায়ুমণ্ডল ও মহাকাশবিজ্ঞান, পঞ্জিকা সংস্কার, বন্যা প্রতিরোধ ও নদী পরিকল্পনা বিষয়ে গবেষণা করেন। তিনি তাপীয় আয়নবাদ (Thermal Ionaisation) সংক্রান্ত তত্ত্ব উদ্ভাবন করে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। (সোর্স- উইকিপিডিয়া)
২। তাজউদ্দীন আহমদঃ
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই গাজীপুর জেলার অন্তর্গত কাপাসিয়ার দরদরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৌলভী মোঃ ইয়াসিন খান এবং মাতা মেহেরুননেসা খান। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের দায়িত্ব যেমন অত্যন্ত সুচারুভাবে পালন করেছিলেন তিনি। তেমনি তার নেতৃত্বগুণেরও ছিল মোহনীয় ও জাদুকরী শক্তি। তার আদর্শের প্রভাব মুহূর্তেই বশ করে নিত দলীয় কর্মী, মুক্তিযোদ্ধা থেকে সাধারণ মানুষকে। আজীবন আদর্শের প্রতি এমন অটল থাকার উদাহরণ অতি বিরল।
দেশের জনগণ আর জনগণের ভালোবাসাই ছিল তার মূল শক্তি। ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর হত্যাকারীদের নির্দেশে তাজউদ্দীন আহমদকে গৃহবন্দী করা হয়। ২৩ আগস্ট সামরিক আইনের অধীনে তাজউদ্দীন আহমদ-সহ ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। ৩রা নভেম্বরে কারাগারের ভিতরে তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মুহাম্মদ মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে জেল হত্যা দিবস নামে পরিচিত। (সোর্স- উইকিপিডিয়া)
৩। আহসানউল্লাহ মাস্টারঃ
আহসানউল্লাহ ওরফে আহসানউল্লাহ মাস্টার (৯ নভেম্বর ১৯৫০ – ৭ মে ২০০৪) একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সদস্য হিসাবে তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১-এর জাতীয় সংসদে গাজীপুর-২ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদানের জন্য তাকে (মরণোত্তর) স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২১ এ ভূষিত করা হয়। (সোর্স- উইকিপিডিয়া)
৪। মোঃ শামসুল হকঃ
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
৫। ফকির শাহাবুদ্দিনঃ
ফকির শাহাবুদ্দীন (জন্ম: ১৯২৪ – মৃত্যু: ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৯) বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী ছিলেন। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গাজীপুরের কাপাসিয়ার ঘাগুটিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন ও ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৭২ সালে গঠিত খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন ও বাংলাদেশের সংবিধান রচনায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। সংবিধানের বিধি মোতাবেক ১৯৭৩ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম এটর্নি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন। (সোর্স- উইকিপিডিয়া)
আশা করি গাজীপুর জেলা নিয়ে আজকের আর্টিকেলটি ভালো লেগেছে। এই ধরনের বিভিন্ন আর্টিকেল ও তথ্য পেতে প্রতিদিন আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। পাঠক বিডি’র পাঠক হয়ে সাথে’ই থাকুন। ধন্যবাদ আপনাকে।
সুন্দর তথ্য তুলে ধরেছেন।
ধন্যবাদ আপনাকে।
নিজ জেলা সম্পর্কে অজানা তথ্য জানতে পেরে খুব ভালো লাগছে।
ধন্যবাদ আপু। পাঠক বিডির সাথে থাকুন।