আউটসোর্সিং কি? আউটসোর্সিং শেখার উপায়

আর্টিকেল এর সূচিপত্র

আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে কিভাবে আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করবেন তা জানার জন্য আজকের আর্টিকেলটি পড়ুন। বর্তমান তরুণ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং চাহিদা পূর্ণ ক্যারিয়ার হল আউটসোর্সিং। কোন একটি প্রযুক্তি বিষয়ক কাজ শিখে ঘরে বসে নিজের ক্যারিয়ার উন্নতি করতে চাইলে আউটসোর্সিং সবচেয়ে ভালো পেশা। তবে এই প্রতিযোগিতামূলক ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার জন্য আপনাকে হতে হবে দক্ষ, ধৈর্য্যশীল, এবং সৃষ্টিশীল। আউটসোর্সিং ক্যারিয়ারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে আপনাকে অবশ্যই সৎ এবং আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। প্রতিনিয়ত ইন্টারনেটের সাথে কানেক্টেড থাকতে হবে এবং ক্লায়েন্ট ডিল করার জন্য প্রতিবার নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। আজকের আর্টিকেলে আমরা আউটসোর্সিং কি? আউটসোর্সিং কিভাবে শিখব তা নিয়ে খুঁটিনাটি আলোচনা করব। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি জুড়ে সাথে থাকার জন্য অনুরোধ করছি।

Outsourcing কি?

আউটসোর্সিং বলতে একটি কোম্পানি তার নিজস্ব কাজ বা সেবা অন্য কোনো কোম্পানিকে দিয়ে করানোকে বোঝায়। অর্থাৎ, কোনো কোম্পানি নিজে যে কাজগুলি করে থাকে, সেগুলি অন্য কোনো বিশেষজ্ঞ কোম্পানিকে দিয়ে যখন করিয়ে নেয় তখন তোকে আউটসোর্সিং বলে। উদাহরণস্বরূপ: একটি সফটওয়্যার কোম্পানি তার অ্যাকাউন্টিং কাজ অন্য কোনো অ্যাকাউন্টিং ফার্মকে দিয়ে করিয়ে নিতে পারে।

আবার, একটি বড় কোম্পানির কাস্টমার কেয়ার সেবা অন্য কোনো কল সেন্টারকে দিয়ে করিয়ে নেওয়া হতে পারে। আরো সহজ ভাবে বলতে গেলে, আপনি যখন একটি কাজে দক্ষ হবেন এবং তখন সে কাজটি অন্য কোন কোম্পানির জন্য করতে চাইবেন তখন তাকে আউটসোর্স বলে। এক্ষেত্র ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির আউটসোর্সিং করছে এবং ফ্রিল্যান্সাররা ওই কোম্পানিগুলোর আউটসোর্স করার চেষ্টা করছে।

আউটসোর্সিং করতে হলে কোন বিষয়গুলো শিখবেন?

ফ্রিল্যান্সিং ইন্ডাস্ট্রিতে শক্ত পায়ে উঠে দাঁড়ানোর জন্য আউটসোর্সিং এর বেশ কিছু জিনিস অহরহ প্রয়োজন হয়ে থাকে। কাজ করার সময় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলেই আপনি প্রমাণ হয়ে একজন দক্ষ ফিন্যান্সার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারবেন। চলুন প্রথমে এক নজরে দেখে আসি আউটসোর্সিং করতে হলে কোন বিষয়গুলো জানতে হবে: 

  • যে বিষয়ে আপনি দক্ষ সেই প্ল্যাটফর্মে আবেদন করার যোগ্যতা থাকতে হবে, 
  • নির্দিষ্ট বিষয়ে ভালো দক্ষতা থাকলেই আপনি ওই কাজে ভালো করতে পারবেন, 
  • ক্লায়েন্ট যখন আপনার আবেদন এপ্রুভ করবে তখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ জমা দেওয়ার তাগিদ থাকতে হবে, 
  • এবং শুধুমাত্র কাজ শেষ হওয়ার পরেই ক্লায়েন্টের কাছ থেকে পেমেন্ট পেতে পারেন।

যারা নতুন আউটসোর্সিং পেশার সাথে জড়িত হচ্ছেন তাদেরকে ধৈর্য ধরে কাজ চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। আউটসোর্সিং এর একটি কাজ আরেকটির সাথে কানেক্টেড। তাই, প্রতিনিয়ত এই ক্ষেত্রে নিজেকে আপডেট রাখার জন্য নতুন নতুন কাজ শেখার আগ্রহ থাকতে হবে।

আউটসোর্সিং কিভাবে শিখবেন?

আউটসোর্সিং শেখার আগে ভালোভাবে জেনে নিতে হবে কোন মার্কেট প্লেসে কাজ করলে আপনি ভালো করতে পারবেন এবং অন্যান্য ফ্রিল্যান্সাররা কোথায় কাজ করে এবং কি ধরনের কাজ করে মোটা অংকের অর্থ ইনকাম করছে। প্রত্যেকটি মার্কেট প্লেসে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের নিজস্ব কিছু কাজ উপস্থাপন করে রাখি ক্লায়েন্টের উদ্দেশ্যে। ক্লায়েন্ট যখনই তার প্রোফাইলে ক্লিক করে তখন সে ওই ফ্রিল্যান্সারের স্কিল সম্পর্কে ধারণা পায়। 

আপনি এমন বড় ফ্রিল্যান্সারদের কাজের তালিকা খুঁজে পাওয়ার জন্য আউটসোর্সার হিসেবে সার্চ করতে পারেন। সার্চ করার পরে যে তালিকা আসবে সেখান থেকে আপনি খুঁজে নিতে পারেন কোন কাজগুলো আপনাকে দিয়ে সম্ভব এবং গুন গুলো করলে আপনি খুব দ্রুত উন্নতি করতে পারবেন। তবে ফ্রিল্যান্সিং এর যে ক্ষেত্রে আপনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান সে বিষয়ে অবশ্যই বিস্তারিত জ্ঞান আপনার থাকতে হবে। ফ্রিল্যান্সারদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বর্তমানে বড় বড় আইটি ফার্ম কাজ করে চলেছে। আউটসোর্সিং শেখার জন্য যে বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা হল: 

১) দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করুন

ফ্রিল্যান্সিং জগতে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য প্রতিনিয়ত আপডেট থাকতে হবে। এক্ষেত্রে youtube দেখে বিভিন্ন বিষয়ে সহজে জ্ঞান আহরণ করতে পারেন এবং google সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে আপনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজেই জেনে নিতে পারেন।

২) পোর্টফলিও তৈরি করুন

আপনি যে সব কাজে পারদর্শী তার কয়েকটি ডেমো একসাথে সংগ্রহ করে পোর্টফোলিও তৈরি করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি যদি একটা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনার ডেমো কাজ গুলো সবার করতে পারেন তাহলে ক্লায়েন্টের জন্য সবচেয়ে সুবিধা জনক হয়। মনে রাখবেন আপনার পোর্টফোলিও যদি প্রফেশনাল এবং সুবিধাজনক হয় তাহলে কাছে পেতে খুব বেশি অসুবিধা হবে না।

৩) প্রোফাইল তৈরি করুন

যে মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে চান সেখানে প্রফেশনাল অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। একাউন্ট তৈরি করার পর আপনি গিগ তৈরি করতে পারেন। Fiverr, Upwork, Freelancer, Guru, People Per Hour ইত্যাদি মার্কেটপ্লেস গুলোতে আপনি গিগ দেওয়ার পর ক্লায়েন্ট আপনার পোর্টফোলিও দেখে আপনাকে কাজের অফার করবে এবং সেখান থেকে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

৪) কাজের জন্য আবেদন করুন

আপনার প্রোফাইল তৈরি করা হয়ে গেলে বিভিন্ন তে কাজের জন্য আবেদন করতে হবে। এক্ষেত্রে Upwork আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো একটি মাধ্যম হতে পারে। এখানে আপনি প্রতিনিয়ত জব পোস্ট দেখতে পারবেন এবং সেখানে আপনি আপনার পছন্দমত এবং দক্ষতা অনুযায়ী কাজের জন্য আবেদন করতে পারবেন। মনে রাখবেন, প্রথম অবস্থায় আপনি কাজের জন্য আবেদন করলেই কাজ করবেন না। এক্ষেত্রে ধৈর্য নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে এবং নিজেকে আরও বেশি অপেক্ষা করতে হবে।

৫) ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ করুন

ক্লায়েন্টের কাছ থেকে কাজ পাওয়ার পর প্রতিনিয়ত ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। ক্লায়েন্টের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর সময়মতো দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সর্বদা মনে রাখবেন, ক্লায়েন্টের সাথে আপনাকে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমদিকে ক্লায়েন্টের অল্প কিছু কাজ যদি আপনি ফ্রিতে করে দিতে পারেন এটা তার সাথে আপনার সম্পর্কের আরও বেশি উন্নতি ঘটাবে।

৬) নতুন নতুন কাজ শিখুন

আউটসোর্সিং পেশায় আপনাকে সর্বদা সিনিয়রদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। এবং তারা কখন কি কাজ করছেন সে বিষয়ে টুকটাক গবেষণা করে সেই অনুযায়ী কাজ শেখার চেষ্টা করতে হবে। এখানে আপনার নেটওয়ার্ক যত বেশি শক্তিশালী হবে ততো আপনি ইনকামের নতুন নতুন রাস্তা খুঁজে পাবেন। এই বিষয়ে আপনি যত বেশি নতুন কাজ শিখতে পারবেন তত বেশি আপনি অন্যদের থেকে এগিয়ে যেতে পারবেন। নতুন কাজ শেখার জন্য এখন বিভিন্ন ধরনের অনলাইন কোর্স হয়েছে, যেখানে ভর্তি হয়ে আপনি কম সময়ে অনেক দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।

শেষ কথা 

আজকের পোস্টে আমরা আউটসোর্সিং কি এবং আউটসোর্সিং কিভাবে শিখব তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আউটসোর্সিং সম্পর্কিত যদি আপনাদের আর কোন জিজ্ঞাসা থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন এবং এরকম তথ্যবহুল আর্টিকেল পাওয়ার জন্য আমাদের ওয়েবসাইটের সাথেই থাকুন।

সর্বাধিক জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১) আউটসোর্সিং এর সুবিধা কি?

উঃ আউটসোর্সিং এর প্রধান সুবিধা হল ঘরে বসে অর্থ উপার্জন করা যায়।

২) আউটসোর্সিং কি ঘরে বসে কিভাবে আয় করা যায়?

উঃ আউটসোর্সিং এর প্রায় সকল কাজই ঘরে বসে করা সম্ভব, এবং ঘরে বসে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। মার্কেটপ্লেসে ফ্রিল্যান্সিং, ব্লগিং করে আয়, ঘরে বসে গুগল অ্যাডসেন্স, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্ট, ঘরে বসে ইউটিউব থেকে আয়, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, কন্টেন্ট রাইটার/ আর্টিকেল লিখে আয় করুন আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে।

৩) আউটসোর্সিং এর কাজ গুলো কি কি?

উঃ আউটসোর্সিং এ প্রচুর পরিমাণে কাজ রয়েছে যেগুলো একটি আরেকটি থেকে ভিন্ন। আউট সোর্সিং এর কাজগুলো হলো:

  • কাস্টমার সার্ভিস
  • ডিজিটাল মার্কেটিং
  • কপিরাইটিং
  • ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
  • ক্রিয়েটিভ ডিজাইন
  • এডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস
  • ওয়েবসাইট মেইন্টেইনেন্স
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন ইত্যাদি।

গুগল নিউজে পড়ুন- পাঠক বিডি

যোগ দিন পাঠক ফোরাম কমিউনিটিতে

আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন নতুন বিষয় জানুন, আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং সমমনা পাঠকদের সাথে আলোচনা করুন।

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
Twitter
Email
Print
সাবস্ক্রাইব
নোটিফিকেশন
guest
Ratting
2 মতামত সমূহ
মতামত
নতুন পুরাতন
Md Maruf Hossain
Md Maruf Hossain
অতিথি
January 31, 2025 9:10 am

Hlw

Md Maruf Hossain
Md Maruf Hossain
অতিথি
January 31, 2025 9:11 am

নগদ দাওয়া হয়ে গেছে

Copyright © 2024 PathokBD.com