মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। পৃথিবীর বুকে যার রাজত্ব। মানুষ নামক সামাজিক জীবটি নিজের বুদ্ধির ছলে কত সুবিশাল প্রাণী, জীব-জন্তুকে নিজের বশ করে নেয়। বিশ্ব দরবারে মানুষ কভু মাথা নোয়াবার নয়। কিছু সময়ের এই রংধনু নামক জীবন এর কতই না বিক্রিয়া, কতই দেখি রং তামাশা। ক্ষমতা, শক্তি আর ব্যবহারে ফুটে উঠে সত্যিকারের মানুষ নামক পরিচয়টা। পথে-ঘাটে, হাট-বাজারে, গ্রামে-গঞ্জে সহ নানা চায়ের দোকানে বা রাস্তার পাশে, একদল বুদ্ধিজীবী বসে। কত না কথার সাথে রুপকথার সমাহার। কত যে রঙিন স্বপ্ন বুনে নিজ গুণে,দেখায় কত খেলা,কে জানে কার কত শক্তি আর আয়ুর জোরে বসাইছে রঙিন মেলা।
রাত পোহালে এমপি-মন্ত্রী, চেয়ারম্যান, মেম্বার এর বাড়ি কত লোকজন,কত যে আবদার আর আহাজারীর চিৎকার। বিচার হয়, রায় শেষে কত সাদাসিধে মানুষ অপরাধীর কাঁতারে দাঁড়ায়। কত বিচারপতি টাকার ঘুষে,না হয় জীবনের মায়ায় ফেঁসে উল্টো রায় দেয়, কারণ হৃদয়ে যে সত্য বলার সাহস সে হারায়।
সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে,প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে মানুষ কত উন্নতির পথে। দেশ ও দেশের বাইরে মহাজাগতিক আবিষ্কারের চেষ্টায় দিন দিন মানুষ অক্লান্ত পরিশ্রম আর বুদ্ধির ফসল হিসাবে কত কিছু সৃষ্টি করছে। এ যেনো এক আবিষ্কারের প্রতিযোগিতা, এ যেনো জীবনকে সহজ থেকে অধিক সহজতর করার প্রবল ইচ্ছা।
হারিয়ে যাচ্ছে কত যে প্রাচীন ঐতিহ্য। হারাবেই তো; কে চায় কষ্ট করতে যখন সহজ পথ নাকের ঠগায়? জীবন যখন রঙিন হয়, কে বা আবার সাদা-কালোতে ফিরে যায়? কে বা আবার মাথার ঘাম পায় ফেলে পরিশ্রমে যায়?
বর্তমানে মানুষ মরে না,মরে যায় পৃথিবীর অলৌকিক শক্তি,হারিয়ে যাচ্ছে বেঁচে থাকার আকুতি,বিলিন হতে যাচ্ছে প্রবল মনোবল আর বহু বছর বাঁচার ইচ্ছা। দেখুন আজ গড়ে বয়স ৬০+ বা তার কম। আসক্তি বা অসুদপায় অকাল মৃত্যু। সবই যেনো প্রযুক্তির ফসল। যুগের সাথে পাল্লা দিয়ে যত আবিষ্কার হচ্ছে ততই মানুষ অতি সহজে মৃত্যুর দিকে ঝুঁকে পরছে।
একটি কথা বলা যায়- “প্রকৃতির দান আর মানুষ হয়ে মানুষের জন্য কিছু করার অবদান,আকাশ থেকে মাটি সমান ব্যবধান”
আজ আমরা প্রকৃতির থেকে কৃত্তিম আবিষ্কারে আসক্ত,আজ আমরা জীবন বাঁচাতে চিকিৎসার চেষ্টা করছি উন্নত থেকে অধিক উন্নত। “বাঁচতে যে হবেই হায়, কিছু না পেলেও বেঁচে থাকাই যেনো পরম সুখ মনে হয়”
পৃথিবীর বুকে কত মানুষ,কত যে জীবজন্তু আর অগণিত প্রজাতির প্রাণী যার সঠিক হিসাব নেই। সবার প্রান আছে,জন্ম হয়, মৃত্যুর মুখোমুখী দাঁড়াতে হয়। জীবনের শেষ সময়ে এসে একটা সীমান্তে তার তরী নোঙর করতে হয়। সে যে কোন সময়, কখন ডাক আসে তীরে ফেরার, আজও অজানা এই পৃথিবীর সবার।
মুহূর্তেই হারিয়ে যায় এই পৃথিবীর রাজত্ব। হারিয়ে যায় দুচোখের আলো,হারিয়ে যায় দেহের সব শক্তি। ভাবতেই পারেনা তার শেষ সময়টা কেমন ছিলো,বুঝে উঠতে পারে না সর্বশেষ কি ভালো বা কি মন্দতে লিপ্ত ছিলো।
সে সময়টাতে নিজেকে দাঁড় করিয়েছি আজ,ভেবেছি কি হবে রাজত্ব, অহংকার,ক্ষমতা,টাকা-পয়সার বাহাদুরি দিয়ে। কি হবে ক্ষণস্থায়ী এই পৃথিবীকে এত সুন্দর করে সাঁজিয়ে? কই আমাকে তো কেউ সুন্দর করে সাঁজালো না,আমাকে তো ভালোবেসে কেউ আমার গড়া রাজত্বে রাখলো না। আমাকে আর কারো রাখার যে ক্ষমতা নেই। আমাকে যে আমার বাড়ি ফিরতে হবে।
বই পড়তে ভালোবাসেন অর্ডার করুন স্বল্পমূল্যে – ক্লিক করুন
আমাকে আমার রাজত্বের সূঁতা মাত্র দিচ্ছেনা,সাদা কাপনে, আতরের ঘ্রাণে,বরই পাতার গরম জলে, রাখবে দেখো বাঁশ বাগানে। বাড়ি ভর্তি মানুষ আসবে,দুচোখে সবারই অশ্রু ঝড়বে, না জানি কতজন মন্দ লোকের অপবাদে না আসে। না জানি আমার মৃত্যুতে কতজন হাসবে একান্তে।
রেখে আসবে অন্ধকার কবরে, সেখানে কেউ থাকবে না আমাকে পাহাড়া দিতে। ভেবেছিলাম পৃথিবীর মতো কতশত পাহাড়াদার থাকবে আমার চারপাশে। কিন্তু দুচোখ মেলিয়া দেখেছি চাহিয়া, ঘরখানি মোর আঁধারে ঢাকিয়া। ফুরালো সব সময়ের অবসান,নীড়ে ফিরলো আপনজন, জমিদার বাড়ি নয়,মাটির ঘরেই করলো দাফন।
দিন চলে যায়,রাত্রি আসে এভাবেই আমার অস্তিত্ব বিলিন হয়ে যায়। কিছুদিন মনে পড়বে,চোখে অশ্রু ঝড়বে। একটু একটু করে আমি যে কতদূর,সে তো আমি না থাকায় আর কারো জানার সাধ্যে নাই। আমি শুধু আমার। কেউ নয় আপন কাহার। ধূসর হবে যার শেষটা,রঙিনে মেতে কেনো তবে অর্জন করবে ভালো রেখে মন্দটা?