কল্পনা করুন, আপনি নিজের ঘরে আরাম করে বসে আছেন, অথচ একজন দক্ষ পাইলটের মতো বিমান চালিয়ে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে উড়ে বেড়াচ্ছেন! শুনতে কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও, এটি এখন আর কোনো স্বপ্ন নয়। গুগল আর্থ (Google Earth) তাদের নতুন পরীক্ষামূলক ফিচার ‘ফ্লাইট সিমুলেটর’ (Flight Simulator)-এর মাধ্যমে এই অসাধারণ অভিজ্ঞতাটি নিয়ে এসেছে আপনার হাতের মুঠোয়।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে আপনিও এই চমৎকার ফিচারটি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল পাইলট হয়ে উঠতে পারেন।
কীভাবে চালু করবেন গুগল আর্থ ফ্লাইট সিমুলেটর?
এই ফিচারটি ব্যবহার করা বেশ সহজ। তবে মনে রাখতে হবে, এটি আপাতত শুধুমাত্র Google Earth-এর ওয়েব সংস্করণে (Web Version) ব্যবহার করা যায়। নিচে ধাপে ধাপে ফ্লাইট সিমুলেটর চালুর নিয়ম তুলে ধরা হলো:
- গুগল আর্থ ওপেন করুন: প্রথমে আপনার কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে Google Earth-এর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন এবং Explore Earth অপশনে ক্লিক করুন।
- টুলস মেনুতে যান: মেনুবার থেকে Tools অপশনে ক্লিক করুন। এখানেই আপনি Flight Simulator চালু করার অপশনটি পেয়ে যাবেন।
- স্যাটেলাইট ভিউ নির্বাচন করুন: শুরুতে সিমুলেটরটি আপনাকে সাধারণ মানচিত্র (Map) দেখাতে পারে। তবে একদম বাস্তবসম্মত ও প্রাণবন্ত অভিজ্ঞতার জন্য ‘Map’-এর বদলে Satellite ভিউ বেছে নিন।
বিমান নিয়ন্ত্রণের নিয়মকানুন
আকাশে উড্ডয়নের পর বিমানটি ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে জরুরি। গুগল আর্থের এই সিমুলেটরে খুব সহজেই কিবোর্ড ও মাউস দিয়ে বিমান চালানো যায়:
- গতি নিয়ন্ত্রণ: বিমানের গতি বাড়াতে বা কমাতে কিবোর্ডের
Page UpএবংPage Downবাটন ব্যবহার করতে হবে। - দিক পরিবর্তন: বিমানটিকে ওপরে, নিচে বা দুই দিকে ঘোরাতে কিবোর্ডের তীর চিহ্নিত (Arrow) বাটনগুলো চাপুন।
- মাউস ব্যবহার: আপনি চাইলে কিবোর্ডের পাশাপাশি মাউস দিয়েও বিমান নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। সিমুলেশন স্ক্রিনের ভেতর একবার ক্লিক করলেই মাউস ও কিবোর্ড নিয়ন্ত্রণের মধ্যে পরিবর্তন (Switch) হয়ে যাবে।
দারুণ অভিজ্ঞতা: উড্ডয়নের সময় রিয়েল-টাইম থ্রিডি (3D) ভবন এবং উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লোড হতে থাকবে, যা আপনাকে সত্যিকারের আকাশে ওড়ার অনুভূতি দেবে।
উড্ডয়নের সময় কিছু সতর্কতা ও জরুরি বিষয়
যেহেতু এটি একটি পরীক্ষামূলক ফিচার, তাই ব্যবহারকারীদের কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে:
- বিমান ক্র্যাশ করলে: চালানোর সময় বিমানটি যদি দুর্ভাগ্যবশত মাটিতে আঘাত করে, তবে সিমুলেশনটি তাৎক্ষণিক থেমে যাবে। তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই! স্ক্রিনে আসা Restart অপশনে ক্লিক করলেই বিমানটি আবার একটি নিরাপদ উচ্চতা থেকে উড়া শুরু করবে।
- ভিজ্যুয়াল ত্রুটি বা গ্লিচ: সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচের কিছু এলাকায় খুব নিচু দিয়ে উড়ে গেলে মাঝে মাঝে গ্রাফিক্সে কিছু ভিজ্যুয়াল ত্রুটি চোখে পড়তে পারে।
- শর্টকাট বন্ধ থাকা: আপনি যখন ফ্লাইট সিমুলেটরে ব্যস্ত থাকবেন, তখন আপনার পাইলটিংয়ে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য সাধারণ ম্যাপ শর্টকাটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখা হয়।
গুগল আর্থের এই নতুন ফ্লাইট সিমুলেটর ফিচারটি ভার্চুয়াল ভ্রমণের ধারণাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। চমৎকার এই ফিচারের সাহায্যে এখন অবসর সময়ে খুব সহজেই আপনি বিশ্বভ্রমণে বেরিয়ে পড়তে পারেন। আজই ট্রাই করে দেখুন!