লাইলাতুল কদর এর ফজিলত ও আমল সমূহ

আর্টিকেল এর সূচিপত্র

লাইলাতুল কদর মুসলমানদের কাছে বা ইসলাম ধর্মে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলত পূর্ণ একটি রাত। মুমিন ব্যক্তিগণ সারা রাতব্যাপী ইবাদত বন্দেগীতে কাটিয়ে দেন। পবিত্র রমজান মাসের বিজোড় দিনগুলো যেমনঃ ২১/২৩/২৫/২৭/২৯ রমজানে লাইলাতুল কদর তালাশের কথা বলা হয়েছে। তবে ২৭ রমজানের রাতকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়।

পবিত্র শবে কদর মহান রবের পক্ষ থেকে তাঁর বান্দার জন্য বিশেষ এক পুরস্কার। ইবাদতের সর্বোত্তম এক সময়। খুব স্বল্প সময়ে বান্দা অর্জন করে নিতে পারে অসংখ্য সওয়াব। এই সুবর্ণ সুযোগ আল্লাহ তায়ালা একমাত্র উম্মতে মুহাম্মাদিকেই দান করেছেন। অন্য কোনো নবীর উম্মতকে এ সুযোগ দান করেননি। লাইলাতুল শব্দের অর্থ- রাত এবং কদর অর্থ সম্মান, মর্যাদা। একত্রে লাইলাতুল কদর অর্থ অতিশয় সম্মানিত রাত, মহিমানিত রাত বা পবিত্র রজনী।

লাইলাতুল কদর এর ফজিলত

মূলত শবে কদরের রাতের আমল হাজার মাসের আমলের থেকে শ্রেষ্ঠ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পবিত্র কুরআনে সূরা কদর নাযিল করা হয়েছিল। শবে কদরের রাত তথা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম এই রাতে ফেরেস্তাগণ ও রুহ তাদের প্রভুর অনুমতি ও নির্দেশে সমভিব্যাহারে অবতরণ করেন। বিশ্ববাসীর জন্য শান্তির বার্তা নিয়ে আসে, যা ফজরের পূর্ব সময় পর্যন্ত চলতে থাকে।

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কতিপয় সাহাবীকে স্বপ্নের মাধ্যমে রমজানের শেষের সাত রাত্রে লাইলাতুল ক্বদর দেখানো হয়। (এ শুনে) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাকেও তোমাদের স্বপ্নের অনুরূপ দেখানো হয়েছে। (তোমাদের দেখা ও আমার দেখা) শেষ সাত দিনের ক্ষেত্রে মিলে গেছে। অতএব যে ব্যক্তি এর সন্ধান প্রত্যাশী, সে যেন শেষ সাত রাতে সন্ধান করে। (১১৫৮, মুসলিম ১৩/৪০, হাঃ ১১৬৫, আহমাদ ৪৫৪৭)  (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৮৮৫)

শবে কদরের রাতে পবিত্র কুরআন নাযিল করার জন্য এই রাতকে আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ করা হয়েছে। এই রাতে ইবাদত বন্দেগী ও আমলের জন্য উম্মাতে মুহাম্মাদিকে হাজার মাসের সওয়াব দান করা হবে। কুরআনের সাথে যেসব বান্দাদের সবচেয়ে বেশি সম্পর্ক মূলত এই রাত তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং আল্লাহ তায়ালা এসব বান্দাদের সবচেয়ে বেশি সম্মানিত ও মর্যাদার অধিকারী করবেন ।

শবে কদরের দোয়া

হাদিসে এসেছে, হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন- একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বলে দিন লাইলাতুল কদরের রাতে কোন দোয়া পড়বো? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যন, ‘তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি “।

অর্থ হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করে দেন। (মুসনাদে আহমদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

লাইলাতুল কদরের মর্যাদা এতই বেশি যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ দশকে আজীবন ইত্তেকাফ করেছেন এবং তার উম্মতের উদ্দেশ্যে বলে গেছেন যে, আমি কদরের রাতের সন্ধানে রমজানের দশ দিন ইত্তেকাফ করলাম। রমজানের মধ্যবর্তী দশদিন ইত্তেকাফ করলাম। তারপর আমার ওপর ওহী নাজিল করে জানানো হলো যে, তা শেষ দশ দিনে রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন রমজানের শেষ ১০ দিনে তোমরা শবে কদরের রাত তালাশ করো। (বুখারী)

শবে কদরের আলামত

তাফসীরে মাযহারীদের এসেছে, লাইলাতুল কদর শব্দটি আরবিতে নয়টি শব্দে গঠিত। সূরা কদর লাইলাতুল কদর শব্দটি তিনবার এসেছে। ৯ ও ৩ কে গুন করলে ২৭ হয়। তাই শবে কদর সাতাশ রমজানের রাতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। লাইলাতুল কদর রমজান মাসের শেষের ১০ দিনে যে কোন একদিন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেকোনো বিজোড় রাতে শবে কদরের রাত হতে পারে। তবে হাদিসে নির্ভরযোগ্যতায় ২৭ রোজায় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই সবার কর্তব্য, মহিমান্বিত এ রাতের গুরুত্ব অনুধাবন করা ও এর কদর করা।

ইত্তেকাফ এর উদ্দেশ্যে হাদিসে এসেছে,

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি বিশ্বাসের সঙ্গে সাওয়াবে লাইলাতুল কদর এ জেগে ইবাদত করবে, তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে (বুখারী)

লাইলাতুল কদরের আমল

১। দুই রাকাত করে নফল নামাজ পড়া
২। তারাবির নামাজ পড়া
৩। জিকির করা এবং তওবা ইস্তেগফার পড়া
৪। দুরুদ শরীফ পড়া এবং কোরআন পড়া
৫। পরিবারের সবার জন্য এবং মৃতদের জন্য জন্য দোয়া করা
৬ । তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া

তা ছাড়া কিছু ফজিলতপূর্ণ দোয়া পড়া যেতে পারে, “রাব্বানা আমারনা ফাকফিল আন্না ওয়ার হামনা ওয়া আমতা খাইরুন রাহিমীন “।

অর্থ- হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি রহম কর। তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। (সূরা মুমিনুন আয়াত :১০৯)

“রাব্বানা জালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাকফিলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খসরিন “।

অর্থ হে আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব (সূরা আরাফ: আয়াত ২৩)

লাইলাতুল কদরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত হলো এই রাতে মহানবী (সা.) এর সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনঃনির্ধারণ করা হয়। এটি সকল মুমিন ব্যক্তিদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে।

আরোও বলা হয়েছে যে, তোমার রবের কাছ থেকে রহমত হিসেবে; নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। যিনি আসমানসমূহ, জমীন ও এ দুয়ের মধ্যবর্তী সব কিছুর রব; যদি তোমরা দৃঢ় বিশ্বাস পোষণকারী হও। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু দেন। তিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পিতৃ পুরুষদের রব। (দুখান ৩-৮)

লাইলাতুল কদরের এক রাতের হাজার মাস (৪৩ বছর) নেক আমল করার সওয়াব পাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: (লাইলাতুল কদর এক হাজার মাস থেকে উত্তম।) [সূরা আল কদর: ৩] অর্থাৎ লাইলাতুল কদরে আমল করা লাইলাতুল কদরের বাইরে এক হাজার মাস আমল করার চেয়েও উত্তম। লাইলাতুল কদর হলো শান্তির রাত, আল্লাহ তাআলা বলেন: (শান্তিময় সেই রাত, ফজরের সূচনা পর্যন্ত) [সূরা আল কদর আয়াত:৫]

আশা করি আজকের আর্টিকেলটি ভালো লেগেছে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। পাঠক বিডি’র পাঠক হয়ে সাথে’ই থাকুন। ধন্যবাদ আপনাকে।

গুগল নিউজে পড়ুন- পাঠক বিডি

যোগ দিন পাঠক ফোরাম কমিউনিটিতে

আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন নতুন বিষয় জানুন, আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং সমমনা পাঠকদের সাথে আলোচনা করুন।

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
Twitter
Email
Print
সাবস্ক্রাইব
নোটিফিকেশন
guest
Ratting
1 মতামত
মতামত
নতুন পুরাতন
Ahsan kabir
Ahsan kabir
অতিথি
April 6, 2024 3:26 pm
Ratting :
     

সুন্দর লেখনী। লাইলাতুর কদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ফুটে উঠেছে

Copyright © 2024 PathokBD.com