ত্বকের যত্ন সকলেই নেই। হয়তো কেউ কম কিংবা বেশি। গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীত সারাবছরই ত্বকের যত্ন নেওয়া আবশ্যক। শীতের মতো করে গরমের সময় ত্বকের যত্ন না নিলেও কিছু বিষয়ে অবশ্যই সচেতন হতে হয়। গরমে ত্বকের যত্ন ঘরোয়া ভাবেও নেওয়া যায়। এতে করে ফলাফল পেতে সময় একটু বেশি লাগতে পারে। ধৈর্য্য ধরে ত্বকের যত্ন নিতে থাকলে ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করবে। এছাড়া বাজারে অনেক পণ্য পাওয়া যায় যা ব্যবহারে ইন্সট্যান্ট ত্বকের সমস্যার সমাধান হয়। চাইলে এক্ষেত্রে আপনি লেডিস পার্লার বা স্যালনে গিয়েও রূপচর্চা করতে পারেন। দেশের নামকরা রূপসচেতন বিশেষজ্ঞ ও বিউটি এক্সপার্টদের শরণাপন্ন হতে পারেন। এছাড়াও খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখতে হবে, নিজেকে ফিট রাখতে হবে। আরোও অনেক রকমের নিয়ম মেনে চলে ত্বক ও শরীরের যত্ন নিতে হবে। কেননা শরীর সুস্থ ও মন ভালো না থাকলে কখনোই সুন্দর ও প্রাণবন্ত ত্বক পাওয়া সম্ভব নয়। গরমে ত্বকের যত্নে সেরা ১২ টি টিপস নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ
১। মুখ ধোওয়াঃ
প্রচন্ড গরমে মুখ ঘেমে যেতে পারে বা অস্বস্তি বোধ হতে পারে। এজন্য কিছু সময় পর পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিলে বা মাঝে মধ্যে ঠান্ডা পানির ঝাপটা চোখে – মুখে দিলে আরাম বোধ করবেন। এতে করে মুখে জ্বালা ভাব থাকলে সেটাও কমে যাবে।
২। পানি পানঃ
বেশি বেশি পানি পান করতে হবে। পরিমিত পানি পান না করলে শরীর ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্যতায় ভুগতে পারে। সেই সাথে আপনার ত্বকও শুষ্ক হওয়াসহ আরোও অনেক ধরনের ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ত্বকে পানিশূন্যতা দেখা দিলে ত্বকের ক্ষতি হয়, ত্বক অত্যন্ত শুষ্ক হয় ও উজ্জ্বলতা হারায়। এজন্য প্রতিদিন কমপক্ষে দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করা আবশ্যক।
৩। অন্যান্য তরল পানীয়ঃ
শুধু পানি পান করলেই যে ত্বকের পানিশূন্যতা হ্রাস পাবে, অনেকের ক্ষেত্রে তা সত্যি নাও হতে পারে। এজন্য পুষ্টিকর খাদ্য তালিকার মধ্যে রসালো ফল ও ফলের রস যোগ করা যায়। পানি খাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ফলের জুস বা শরবত বা স্যালাইনও খাওয়া যেতে পারে। এতে করে পানির চাহিদা মিটবে, পুষ্টিগুনও পাওয়া যাবে। নয়তো পানিস্বল্পতা দেখা দিলে চোখের চারপাশে কালো দাগ ও মুখে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা থাকে।
৪। মুখ পরিষ্কার করাঃ
গরমের দিনে মুখের ত্বক পরিষ্কার করার জন্য ভালো মানের ওয়াটার বেজড ফেসওয়াস বা ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিৎ। এটি ত্বককে তেলতেলে বা চিটচিটে করবে না, ত্বক ভালো রাখবে। দুই থেকে তিন ঘন্টা পর পর মুখে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিলে ভালো।
৫। গোসলের সময় সতর্কতাঃ
গরমে প্রতিদিন অন্তত একবার গোসল করা আবশ্যক। প্রয়োজনে কেউ কেউ দুই থেকে তিনবারও গোসল করতে পারে। গোসলের সময় ত্বকের ময়লে পরিষ্কারের জন্য আমরা সবাই সাবান ব্যবহার করে থাকি। আমরা জানি, সাবানে ক্ষার বিদ্যমান থাকে, যা আমাদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। তবে ক্ষারের মাত্রা যেন অতিরিক্ত না হয়। অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান এড়িয়ে চলতে হবে। এছাড়া বাজারে বিভিন্ন ধরনের ভালো মানের শাওয়ার জেল পাওয়া যায়, যা ব্যবহারে ত্বক বেশি শুষ্ক হয় না। সেই সাথে গোসলের পর লোশনও ব্যবহার করা যেতে পারে।
৬। এক্সফোলিয়েশনঃ
গরমের স্কিন কেয়ারে সপ্তাহে কমপক্ষে দুই থেকে তিন দিন মুখ ও হাত – পায়ের ত্বকে এক্সফোলিয়েশন করা ভালো। এতে করে ত্বকের ময়লা কাটবে এবং মৃত কোষ দূর হবে। ক্লিনজিং এর পর পছন্দের স্ক্রাব মুখে বা হাতে – পায়ে লাগিয়ে নিন। ধীরে ধীরে সময় নিয়ে মাসাজ করুন। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। গোসলের সময় হাত – পায়ে ব্যবহার করার জন্য বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বাথ সল্ট পাওয়া যায়। প্রয়োজনে সেগুলোও ব্যবহার করা যেতা পারে।
৭। টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিংঃ
গরমে মুখে অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ হতে পারে। তেল নিঃসরণকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত যত্ন নেওয়া উচিৎ। শীতকালে ত্বক রুক্ষ হয়ে পড়ে, চামড়া টানটান থাকে তাই শুধু তখনই যত্ন নিতে হবে, গ্রীষ্মকালে তা একেবারেই দরকার নেই – এ ধারণা একেবারেই ভুল। ত্বকের আর্দ্রতা ঠিক রাখার জন্য মুখ পরিষ্কার করে টোনার লাগিয়ে দশ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর ত্বকের ধরন বুঝে ময়েশ্চারাইজার ক্রিম লাগিয়ে রাখুন। এক্ষেত্রে জেল বেজড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, ক্রিম বেজড ময়েশ্চারাইজার এড়িয়ে চলুন।
৮। রোদ থেকে দূরে থাকাঃ
গোসলের পর বা হাত – মুখ ধোওয়ার পর ময়েশ্চারাইজার ক্রিম লাগানোর পর ভালো মানের সানব্লক ক্রিম বা সানস্ক্রিন অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। দিনের বেলা যতটা সম্ভব সূর্যের আলোতে সরাসরি যাওয়া হতে দূরে থাকতে হবে। তা না হলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে পানিশূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে গরমেও ত্বক টানটান লাগতে পারে এবং শীতে ত্বক ফেটে রক্তক্ষরণও হতে পারে। সেই সাথে হারাবা ত্বকের উজ্জ্বলতা। ত্বকে মেছতা বা বর্ণের অসামঞ্জস্যতা দেখা দিতে পারে। এজন্য প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়াই ভালো। আর গেলেও অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করার পাশাপাশি হ্যাট বা টুপি, স্কার্ফ, রোদচশমাও ব্যবহার করতে হবে।
৯। মেকআপঃ
প্রয়োজনের তাগিদে অনেকেই দিনের বেশিরভাগ সময় বাইরে থাকেন। তাদের মধ্যে অনেকেই আবার সেজেগুজে থাকতে পছন্দ করেন। কিন্তু প্রচন্ড গরমে মেকআপ না করাই ভালো। একান্তই যদি করতেই হয়, তবে শুধু ফেস পাউডার বা কমপ্যাক্ট পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করবে। এক্ষেত্রে বাসায় এসে ডাবল ক্লিনজিং এর মাধ্যমে খুব ভালোভাবে ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। তা না হলে ধীরে ধীরে ত্বক ড্যামেজ হয়ে যাবে।
১০। মুলতানি মাটির ফেস প্যাকঃ
গরমে ঘাম থেকে নিস্তার পেতে মুলতানি মাটির গুণাবলি অনেক। মুলতানি মাটির সাথে শসার রস ও টমেটো পেস্ট করে ফেস প্যাক বানিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। এটি ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করবে।
১১। অ্যালোভেরা জেল ব্যবহারঃ
অতিরিক্ত গরমে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে অ্যালোভেরা জেল বেশ সহায়ক। এটি ত্বককে শীতল রাখতে সাহায্য করে। শুধু অ্যালোভেরা জেল হাতে নিয়ে ত্বকে মাসাজ করতে পারেন। আরোও ভালো কার্যকরী ফলাফল পেতে পারেন যদি এর সাথে আরোও কিছু প্রাকৃতিক উপাদান মিশিয়ে ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়াও সিরাম, ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন ও লোশনের সাথেও অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
১২। অতিরিক্ত চা-কফি পান পরিহারঃ
অনেকেরই দিনে কয়েকবার চা – কফি খাওয়ার অভ্যাস আছে। গরমে অতিরিক্ত চা – কফি খাওয়ার অভ্যাস যাদের আছে, দ্রুত অভ্যাসটি পরিহার করুন। এতে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। এর পরিবর্তে ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা স্যালাইন খেতে পারেন, যা আপনার শরীরকে ঠান্ডা রাখবে।
শীতের মতো গরমেও ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সারা সপ্তাহ কয়েকটি নিয়ম মেনে ত্বকের যত্ন নিলে অনেক সমস্যাই নিয়ন্ত্রনে থাকে। শুধু ত্বকের যত্ন নিলেই হবে না, শরীরের যত্নও নিতে হবে। এক্ষেত্রে বেশি করে রঙিন ফলমূল ও সবুজ শাকসবজি খাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সেই সাথে ডুবো তেলে ভাজা খাবার পরিহার করতে হবে।
পাঠক বিডি’র পাঠক হয়ে সাথে’ই থাকুন। ধন্যবাদ আপনাকে।
ধন্যবাদ