কন্টেন্ট রাইটিং হচ্ছে কোন একটি বিষয়কে সুন্দর বর্ণনায় লিখনির মাধ্যমে সবার সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা। যিনি এই কাজটি করে থাকেন তাকে বলা হয় কন্টেন্ট রাইটার। ইন্টারনেটের এই যুগে আমরা সবাই কন্টেন্ট শব্দটির সাথে অনেক পরিচিত। ছোট, বড় এবং সকল স্তরের কর্মজীবী বা পেশাজীবি মানুষেরাই কন্টেন্ট শব্দটির সাথে অনেক পরিচিত। বহুল ব্যবহৃত এই শব্দটির বিস্তারে মানুষ নানাভাবে উপকৃত হচ্ছে। সকল মানুষ আনন্দের সাথে উপভোগ করছে তো বটেই, তার সাথে মানুষদের কর্মসংস্থানেরও একটা সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাহলে চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক কন্টেন্ট রাইটিং সম্পর্কে।
কন্টেন্ট কী:
Content হলো একটি ইংরেজি প্রতিশব্দ। যার বাংলা অর্থ হচ্ছে বিষয়বস্তু। কন্টেন্ট মানে হচ্ছে নিজের সৃজনশীলতা প্রকাশ করার একটি মাধ্যম। কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের তথ্য বা উপাত্তকে তুলে ধরাই হলো কন্টেন্ট। কীভাবে নিজের সৃষ্টিশীলতাকে তুলে ধরা যায় বা মেলে ধরা যায় সেগুলো ফুটিয়ে তুলা হয় মূলত কন্টেন্টে। একজন মানুষের মননশীলতার ব্যাপারটি ফুটে উঠে তার কন্টেন্টে। কন্টেন্ট কথাটির সাথে আরও দুটি শব্দ জড়িত। যথা: কন্টেন্ট রাইটার ও কন্টেন্ট রাইটিং।
কন্টেন্ট রাইটার:
যিনি বিভিন্ন বিষয়বস্তু দিয়ে একটি সুন্দর ও সৃষ্টিশীল লিখা, ছবি, ভিডিও বা অডিও ক্লিপ ইত্যাদি তৈরি করেন তিনিই হলেন মূলত কন্টেন্ট রাইটার।
কন্টেন্ট রাইটিং:
সুন্দর ও আকর্ষণীয় বিষয়বস্তুগুলো বিবেচনায় রেখে যে সমস্ত লিখা তৈরি করা হয়ে থাকে তা-ই হলো কন্টেন্ট রাইটিং। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে কন্টেন্ট রাইটিং। বিভিন্ন সাইটে লিখালিখি বা সুন্দর তথ্য দিয়ে কোনোকিছু উপস্থাপনই হলো কন্টেন্ট রাইটিং। সর্বাধিক পরিচিত এই সাইটে নিজেকে যুক্ত করতে চাইলে অবশ্যই অন্যদের থেকে সৃজনশীল প্রতিভার অধিকারী হতে হবে।
কন্টেন্ট এর প্রকারভেদ:
কন্টেন্ট সাধারণ ৪ প্রকার হয়। যথা-
১। টেক্সট বা লিখিত কন্টেন্ট: লিখিতভাবে কোন তথ্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ করাই হলো লিখিত বা টেক্সট কন্টেন্ট। তথ্য গুছিয়ে যুক্ত করে লিখার মান ভালো করতে হয়। লিখাগুলো যে মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় সেগুলো হলো- সংবাদপত্র, ই-বুক, ব্লগপোস্ট ও রিপোর্ট ইত্যাদি।
২। ছবি না ইমেজ কন্টেন্ট: এই কন্টেন্ট সব ধরনের ছবিকে বুঝায়। যেমন: ফোনে তোলা ছবি, এআই (AI) দিয়ে বানানো ছবি, আকাঁ ছবি ইত্যাদি। এছাড়াও কম্পিউটার সফটওয়্যার এর মাধ্যমে তৈরি ছবি। কন্টেন্টের উদাহরণ হলো: Adobe, Photoshop, Adobe Illustrator ইত্যাদি। এছাড়াও কিছু এডিটিং টুলস হলো: Canva Image content creation.
৩। ভিডিও ও এনিমেশন কন্টেন্ট: বিভিন্ন ধরনের ভিডিও তৈরি করি এবং বিভিন্ন ধরনের ভিডিও আমরা দেখে থাকি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন রকমের ভিডিও দেখতে পাওয়া যায়। এগুলোই মূলত ভিডিয়ো কন্টেন্টের অন্তর্ভুক্ত। অনেক মাধ্যমে অনেক ধরনের কপিরাইট ফ্রি মিউজিক রয়েছে, সেটি দিয়ে নিজের বিভিন্ন আইডিয়া কাজে লাগিয়ে ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব বা যেকোনো মাধ্যমে সহজেই টাকা ইনকাম করা যায়।
৪। অডিও কন্টেন্ট: কোনো একটি বিষয়ের উপর একটি অডিও ফাইল তৈরি করাকেই অডিও কন্টেন্ট বলে। মূলত রেকর্ড করা অডিও ফাইল অডিও কন্টেন্ট এর অন্তর্ভুক্ত। যেটি শুধুই শোনা যায়। বিভিন্ন আর্টিকেল, মোটিভেশন কথাবার্তা ইত্যাদির ফাইল তৈরি করে আপলোড করলেই ঘরে বসে সহজে টাকা ইনকাম করা যাবে।
এছাড়াও আরও নানা ধরনের কন্টেন্ট আছে সেগুলো হলো-
- পত্রিকা ম্যাগাজিন লিখা
- ব্লগিং কন্টেন্ট
- ই-বুক রাইটিং
- কোনো বইয়ের রিভিউ লিখা
- কেস স্টাডি কন্টেন্ট
- পণ্যের বিবরণ নিয়ে কন্টেন্ট
- ভিডিও এর স্ক্রিপ্ট নিয়ে কন্টেন্ট
- ইনফো গ্রাফিক্স
- টেমপ্লেট এন্ড চ্যাকলিস্ট
- হোয়াইট প্যাপারস ইত্যাদি।
কন্টেন্ট রাইটিং করে আয়:
কন্টেন্ট রাইটিং করে আয় করার জন্য প্রথমে আপনাকে স্থির করতে হবে আপনি কোন কন্টেন্ট দিয়ে কাজ শুরু করতে চাচ্ছেন। যদি আপনার অডিও ভালো লাগে তাহলে অডিও কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করতে পারেন। এভাবে করে ভিডিও, ইমেজ, টেক্সট ইত্যাদি বিষয় আপনার পছন্দ অনুযায়ী কন্টেন্ট তৈরি করে আয় করেত পারেন। বর্তমানে কন্টেন্ট ইনকামের একটি বড় মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন সাইট থেকে মানুষ বিভিন্ন কন্টেন্ট বানিয়ে ইনকাম করতে পারছে।
Content Writing এর যাত্রা:
শুরুর দিকটা হয় সবচেয়ে জটিল ও কঠিন। সেজন্য প্রথমে নিজেকে স্থির রেখে ভেবেচিন্তে দেখতে হবে কোন কন্টেন্টের প্রতি আপনার আগ্রহ বেশি। সেই কন্টেন্টটি দিয়েই শুরু করতে হবে। কেউ কেউ কন্টেন্ট তৈরির জন্য ইউটিউবকে বেছে নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ফেসবুক প্লাটফর্মকে। পুরো ব্যাপারটিই হচ্ছে মানুষের নিজেদের ব্যক্তিগত রুচির উপর।
রাইটারদের ফিউচার যেমন হয়:
বর্তমানে সবচেয়ে বহুল প্রচলিত ইনকাম সোর্স হলো কন্টেন্ট ক্রিয়েট বা কন্টেন্ট রাইটিং। এটি একটি তূলনামূলক সহজ কাজ ও আরামের প্রক্রিয়া। চাইলেই সহজে ঘরে বসে ইনকাম করা যাচ্ছে। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো এখানে ইনকামের নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই। নিজের ইচ্ছে মতো যত খুশি ইনকাম করা যায়। সেজন্যই বোধহয় ১৯৬৬ সালে বিল গেটস বলেছিলেন -“কন্টেন্ট ইজ কিং।” কন্টেন্টের মাধ্যমে হাজারো বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ হচ্ছে আর তাই বলা যায়, কন্টেন্ট রাইটি এর ফিউচার খুব ভালো হয়।
কন্টেন্টে ভালো করতে হলে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়:
কন্টেন্টের উদ্দেশ্য ঠিক করা:
কোনো বিষয় নির্ধারণ ছাড়া কন্টেন্ট লিখা যাবে না।এবং শুধু বিষয় জানা থাকলেই হবে না। বরং বিষয়টি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে তবেই সেই বিষয়ের উপর কন্টেন্ট ক্রিয়েট করা যাবে বা কন্টেন্ট লিখা যাবে।
কন্টেন্ট কাদের জন্য সে বিষয়ে নিশ্চিত করা:
কন্টেন্ট কাদের জন্য বানানো হচ্ছে সেই বিষয়ের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। কেননা ছোটদের জন্য বানানো কন্টেন্ট বড়রা পছন্দ করবে না। ঠিক একই রকমভাবে বড়দের জন্য বানানো কন্টেন্ট ছোটরা পছন্দ করবে না। সেজন্য কন্টেন্ট গ্রহণকারীদের বিষয় বিবেচনায় রেখে কন্টেন্ট বানাতে হবে।
কন্টেন্টের গঠন পরিষ্কার:
লিখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। কোন জিনিসের পর কোন জিনিস আসবে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। ধারাবাহিকতা বজায় না থাকলে কন্টেন্টের কোনো গঠন থাকবে না ফলে পরবর্তীতে উক্ত কন্টেন্টটি গ্রাহণযোগ্যতা হারাবে।
নিজের মতো করে লিখা:
কোথাও থেকে বা কারো থেকে কপি করে কন্টেন্ট বানালে সেই কন্টেন্ট কেউ ই গ্রহণ করবে না। সেজন্য কন্টেন্ট লিখতে হবে বা কন্টেন্ট বানাতে হবে নিজের মতো করে। নিজের বানানো লাইন দিয়ে বা নিজের সৃষ্টিশীল কাজ দিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে।
কন্টেন্টের টার্গেট ঠিক করা:
কী নিয়ে বা কোন বিষয় নিয়ে কন্টেন্টটি বাননো হবে সেই বিষয়ের উপর একটি টার্গেট ঠিক করতে হবে। টার্গেট ঠিক না করলে নানান বিষয়ের প্রসঙ্গ একসাথে চলে আসে পরে কন্টেন্ট বানানোর ইচ্ছেটাই চলে যায়।
কন্টেন্টের মূল পয়েন্ট তুলে ধরা:
অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে বড় করে আলোচনা না করে বরং মূল পয়েন্টের দিকে জোর দিতে হবে। তবেই কন্টেন্টটি সুন্দর ও সাবলীল হবে।
আউটলাইন ঠিক করা:
কোন বিষয় লিখার ফলে কন্টেন্ট গ্রহণকারীদের প্রতিক্রিয়া কেমন আসতে পারে সে ব্যাপারেও গুরুত্ব দিতে হবে। বাজে প্রতিক্রিয়া যেন না আসে সেই বিষয়গুলো মাথায় রেখে একটি যুগোপযোগী কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে। যাতে করে কন্টেন্টের প্রতি কখনোই মানুষের অনীহা কাজ না করে। বরং কন্টেন্ট দেখতে যেন মানুষ আরও আগ্রহী হয়।
সহজ ভাষায় কন্টেন্ট লিখা:
কঠিন ও জটিল ভাষায় কন্টেন্ট লিখলে কন্টেন্ট বুঝা দুষ্কর হয়ে উঠবে। সেজন্য সহজ সাবলীল ভাষায় কন্টেন্ট লিখা উচিত।সহজ শব্দ ব্যবহার ও সহজ লাইন ব্যবহার করে কন্টেন্ট লিখা ভালো।
কন্টেন্ট এডিটিং:
একটা কন্টেন্ট লিখার পরে বা বানানো পরে কন্টেন্ট এডিটিং একটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা কন্টেন্ট সুন্দর ও পরিষ্কার না হলে কেউ সেটি পড়বে না। সেজন্য কন্টেন্টটিকে বার বার পড়ে সৌন্দর্য অনুযায়ী এডিটিং করতে হবে।
কন্টেন্টের মানের দিক খেয়াল রাখা:
কন্টেন্ট লিখার সকল নিয়ম ঠিক রাখার পরও যদি কন্টেন্টটি মানুষের উপযোগী না হয় তাহলে বুঝতে হবে কন্টেন্টের মান ভালো হয়নি। সেজন্য কন্টেন্টের মানের দিকে খেয়াল রাখাটাও জরুরি। গুরুত্বপূর্ণ ও সুন্দর শব্দচয়ণের মাধ্যমে কন্টেন্টের মানকে করা যায় আরও অধিক ও উন্নত।
পরিশেষে বলা যায়- কোনো কাজে সফলতার মূলমন্ত্র হলো কঠোর পরিশ্রম। এই সেক্টরে আপনাকে সফল হতে হলে অবশ্যই আপনাকে ধৈর্য, অধ্যাবসায় ও পরিশ্রম করতে হবে। একজন কনটেন্ট রাইটার হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে উন্ন মানের কন্টেন্ট লিখার কোনো বিকল্প নেই। আশা করি আজকের আর্টিকেলটি আপনার ভালো লেগেছে। আমাদের সাথে থাকুন, নিয়মিত নতুন নতুন আর্টিকেল পড়ুন।
thank you sir