কর্পোরেট জব হলো এমন একটি ভালো বেতনের চাকরি যা একটি বড় কোম্পানিতে করা হয়। অনেক চাকরির মধ্যে কর্পোরেট জবের চাহিদা ব্যাপক। দক্ষতা বৃদ্ধি করে যারা এই সেক্টরে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারে তারাই সফল। বর্তমান সময়ে কর্পোরেটের চাহিদা এতো বৃদ্ধি পাবার কারণ কি? আসুন তবে জেনে আসি কর্পোরেট জব সম্পর্কে বিস্তারিত –
কর্পোরেট জব কি?
কর্পোরেট শব্দটা শোনা মাত্র স্মার্টনেসের একটি ভাবসাব উপলব্ধি হয় আমাদের সবার। ঠিক তেমনি কর্পোরেট চাকরিটা। কর্পোরেট” শব্দটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি সম্পর্কিত একটি শব্দ যা ব্যবসায়িক সেবা বা উৎপাদনে নিজস্ব একটি শ্রেণিকে বোঝায়। “কর্পোরেট” শব্দটি প্রধানত বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হয় যেখানে ব্যবসায়ের বিষয়বস্তু এবং পরিচালনা সম্পর্কিত নীতি, নীতিমালা এবং পদক্ষেপগুলি কার্যকরী হয়। সহজে বলতে গেলে কর্পোরেট চাকরি মানে কোনো বড় কোম্পানির অধীনে চাকরি করা।
বর্তমান বাজারে কর্পোরেট চাকরির চাহিদা:
আগে প্রায় কিংবা বর্তমানে শোনা যায় শুধু মাত্র সরকারি চাকরি মানে সোনার হরিণ। আসলেই কি তাই? আমি বলি তাই না। আমি মনে করি কর্পোরেট সেক্টরের চাকরিও বর্তমান সময়ে সোনার হরিণে মতো রূপ লাভ করেছে। এসব সেক্টরের উচ্চমান সেলারি, উচ্চমানের সুযোগ-সুবিধার জন্য সময়ের সাথে সাথে কর্পোরেট সেক্টরে বেড়ে চলছে চাকরি পাবার প্রতিযোগিতা। নির্দিষ্ট যোগ্যতা নিয়ে এবং সঠিক মাপপথে আপনি যদি যোগ্যস্থানে চাকরি করতে পারেন তাহলে মাস শেষে আপনার সেলারি হয়ে যাবে পাঁচ / ছয় সংখ্যার কিংবা তারও বেশি এবং সাথে তো থাকছেই অন্য সব সুযোগ-সুবিধা। আর এজন্যই বর্তমানে কর্পোরেট চাকরি চাহিদা তুঙ্গে রয়েছে।
কর্পোরেট সেক্টরের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা:
বর্তমান তরুণ কিংবা চাকরি প্রত্যাশী ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা শেষ করে মস্তিষ্কে তাদের একটি চিন্তা জমে থাকে তা হলো সরকারি চাকরি করা এবং সেটার জন্য চেষ্টা করা।রাতদিন জেগে পড়াশোনা করা। কিন্তু এসব ছেলেমেয়েরা সরকারি চাকরি না পেয়ে সর্বশেষে এসে যুক্ত হতে চায় কর্পোরেট সেক্টর কিংবা কোম্পানি গুলো তে। কিন্তু তারা সেখানে এসেও ব্যর্থ হয় দক্ষতা না থাকার জন্য মানসম্মত সিভি না থাকা, পাবলিক স্পিকিং, গ্রুপিং, কম্পিউটার স্কিল,এক্সেল, মার্কেটিং দক্ষতা, পাওয়ার পয়েন্ট সহ নানান সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য।
‘আপনাকে জানিয়ে রাখি’ এসব সেক্টরে চাকরি পেতে প্রথমে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপায় একজন চাকরি প্রাপ্তির সিভি বা Resume এবং পরবর্তীতে অন্যসব দক্ষতা। আপনি যদি প্রথমেই বাদ হয়ে যান তাহলে বাকি সব জেনেও লাভ নেই।
আপনি অনার্স শেষে করে সরকারি চাকরির জন্য পড়াশোনা করে গেলেন কিন্তু শিখলেন না মানসম্মত সিভি তৈরি করা কিংবা জানলেন না পাবলিক স্পিকিং আসলে কি? তাহলে আপনি একজন যোগ্য প্রার্থী নয় কর্পোরেট সেক্টর গুলোর জন্য। আপনি যোগ্য তখনি হবেন যখন আপনার কাছে এ্টি মানসম্মত সিভি / Resume থাকবে। এরপরে আসবে আপনার বাকি সব দক্ষতার বিষয়বলি। যেমন হতে পারে-
পাবলিক স্পিকিং
মনে করুন, আপনার যে কোম্পানিতে চাকরি হলো সেটা একটা ভলেন্টিয়ার অর্গানাইজেশন। তারা মূলত সেবা বিষয়ক কর্মশালা করে থাকে। এখন আপনাকে দায়িত্ব দেওয়া হলো প্রতিদিন দশ জন করে মানুষ সিলেক্ট করা এবং তাদের কে ” বাংলাদেশ ” সম্পর্কে বুঝানো। এখন আপনি দশজন মানুষ সিলেক্ট করেছেন ঠিকই কিন্তু একটি রুমে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছেন না, আপনার হাঁটু কাঁপছে, কথার মধ্যে জড়তা তাহলে কিন্তু আপনি পরিপূর্ণ নয়। তাই “পাবলিক স্পিকিং ” ও মানসম্মত সিভির মতোই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য রয়েছে, গ্রুপিং, কম্পিউটার স্কিল,এক্সেল, মার্কেটিং দক্ষতা, পাওয়ার পয়েন্ট, ভাষাগত মাধুর্য সহ নানান সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কর্পোরেট চাকরি পাওয়ার উপায়:
উপরে তো জানা হলো কর্পোরেট সেক্টরে টিকে থাকবেন কি করে। এখন জানতে হবে কোথায়, কিভাবে চাকরি পেতে পারেন।
লিঙ্কডইন
বর্তমানে চাকরি পাবার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো “লিঙ্কডইন (LinkedIn)”। এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মতোই একটি প্লাটফর্ম। এখানে প্রতিদিন বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন পদে নিয়োগ সম্পর্কিত তথ্য দিয়ে থাকে। আপনি যদি নিজেকে নিয়োগ দেওয়া পোস্টে যোগ্য মনে করেন তাহলে আপনার সিভি প্রেরণ করতে পারবেন। এছাড়াও পাবেন কর্পোরেট জগতের প্রায় সবাইকে। হতে পারে সেটা কোম্পানির এমডি কিংবা পরিচালক। তাই আপনার একটি সচল ” লিঙ্কডইন (LinkedIn) থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
জব ফেয়ার
জব ফেয়ারের নাম কিংবা ক্যারিয়ার ফেস্টের কথা নিশ্চিত আপনি শুনেছেন। এখানে কি হয় কিংবা কখনো কি গিয়েছেন? হয়তো যাওয়া হয়নি আপনার। তবে জেনে রাখুন এখন – এইসব জব ফেয়ার কিংবা ক্যারিয়ার ফেস্টের আয়োজন করে থাকেন বিভিন্ন কর্পোরেট কোম্পানি কিংবা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে সিভি নেওয়ার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে চাকরির ব্যবস্থা করা হয়। আপনি চাইলে এখানে আপনার সিভি জমা দিয়ে চাকরি প্রত্যাশা করতে পারেন।
দৈনিক জাতীয় পত্রিকা
আপনার হাতে একটি স্মার্ট ফোন থাকা মানে আপনি অনেক এগিয়ে। আপনি খোঁজ রাখতে পারেন দৈনিক জাতীয় পত্রিকা গুলোতে। যেখানে প্রায় সময় বিভিন্ন কোম্পানি চাকরির অফার কিংবা নিয়োগ দিয়ে থাকেন। আর অবশ্যই নিয়োগটি সঠিক কিনা যাচাই করে নিবেন।
কর্পোরেট সেক্টরে যারা কাজ করে
আপনি যোগাযোগ রাখতে পারেন, আপনার আগে কর্পোরেট সেক্টরে কাজ করা বড় ভাইয়া কিংবা আপুদের সাথে। যাদের কাছে থাকে চাকরি সম্পর্কিত তথ্য। তাদের সাথে যোগাযোগ করেও চাকরি পেতে পারেন আপনি।
এ্যান্ড্রয়েড এ্যাপ্লিকেশন
বিভিন্ন Apps এ বর্তমান সময়ে চাকরি সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় “বিডিজবস ডট কম “। এখানে প্রতিদিন শত শত চাকরি বিষয় বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়। এখানে আপনি একটি একাউন্ট খুলে আপনার পছন্দ মতো, আপনার যোগ্যতার ভিত্তিতে আবেদন করতে পারেন। এছাড়াও সাপ্তাহিক চাকরি বাজার অনলাইন প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির গুলো নোটিশ করুণ এবং খোঁজ খবর রাখুন। যদি মনে হয় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি আপনার যোগ্যতার মধ্যে তাহলে আবেদন করুন।
কর্পোরেট চাকরির ভবিষ্যত:
বলা যায়, কর্পোরেট চাকরির ভবিষ্যত খুবই ভালো এবং আশানুরূপ সাফল্য রয়েছে। বর্তমান সময়ে তরুণের পছন্দের তালিকায় থাকে মাল্টিনেশনাল কোম্পানি গুলোতে জব করা। কেনো বলছি এ-কথা তাহলে শুনুন, সেদিন আমার ক্লাসে সবাইকে স্যার এক এক করে দাঁড় করিয়ে জানতে চাইলেন তোমরা ভবিষ্যতে কি করতে চাও বা কি হতে চাও? এদের মধ্যে ৬০% উত্তর ছিলো তারা বড় কোম্পানিতে জব করতে চায়। এদের মধ্যে কারো উত্তর ছিলো, আমি আমার মামার মতো কোম্পানিতে জব করতে চায়। স্যার প্রশ্ন করলেন কেন এমন চাওয়া তোমার? ছাত্র উত্তর দিলো, আমার মামা মাসিক ৭০/৮০ হাজার টাকা বেতন পায়।
তাহলে আমরা ধারনা করতেই পারি কর্পোরেট চাকরির ভবিষ্যত অবস্থা কতটা সাফল্য রয়েছে। আর এটার কারণ উচ্চমান সেলারি এবং সুযোগ সুবিধা থাকায় আকর্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক। এছাড়াও বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন রকম ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থান। যার ফলে এই সেক্টরেটর ভবিষ্যত উজ্জ্বল বলাই চলে।
সরকারি চাকরি নয় বলা যায়, কর্পোরেট চাকরি এখন সোনার হরিণ হয়। বর্তমান সময়ে এসে সরকারি চাকরির জন্য অপেক্ষা করে জীবনের অর্ধেক বয়স পার না করে, কর্পোরেট চাকরির জন্য দক্ষতা বৃদ্ধি করে জীবনে সাফল্য অর্জন করা যায়।
প্রিয় পাঠক, আশা করছি সম্পূর্ণ আর্টিকেল পড়ে আপনি কর্পোরেট জব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করেছেন।