ঘরে বসেই পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে হলে জেনে নিন পাসপোর্ট করার নিয়ম ও খরচ সম্পর্কে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ই পাসপোর্ট এর যুগে প্রবেশ করেছে। এখন যে কেউ চাইলে ঘরে বসে পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারে। তবে পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে হলে জানতে হবে পাসপোর্ট করার নিয়ম সম্পর্কে, পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে, কতদিনে পাওয়া যায় ইত্যাদি সম্পর্কে। কারণ ই পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে আপনি যদি কোন ভুল তথ্য জমা দেন সে ক্ষেত্রে সংশোধনের কোন সুযোগ পাবেন না। এবং আপনি আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র ব্যবহার করে মাত্র একবারই ই পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন। তাহলে চলুন কথা না বাড়িয়ে বিস্তারিত জেনে আসা যাক পাসপোর্ট করার নিয়ম এবং খরচ সম্পর্কে।
পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে
সাধারণত আমরা পাসপোর্ট এর আবেদনের ভিত্তিকে তিন ভাগে ভাগ করে দেখাতে পারি নিচে সে সকল উল্লেখ করা হলো:
শিশুদের পাসপোর্টের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
- শিশুর অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ।
- পিতা-মাতার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি।
- অনলাইন আবেদনের সারাংশ।
- অনলাইন আবেদনের কপি।
- আবেদন ফি।
- টিকা কার্ড।
- 3R সাইজ ফটো।
২০ বছরের নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে অবশ্যই পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি এবং শিশুর জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হবে।
প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্টের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
- জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি।
- ইউনিয়ন অথবা পৌরসভার চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রাপ্ত নাগরিক সনদপত্র।
- ইউটিলিটি বিলের কাগজ।
- অনলাইন আবেদনের সারাংশ।
- অনলাইন আবেদনের কপি। ( 3 pages copy)
- আবেদন ফি ব্যাংক ড্রাফ্ট করে এ চালানের কপি।
- আবেদনকারী যদি স্টুডেন্ট হয় তবে তার সার্টিফিকেট অথবা আইডি কার্ড।
- বিবাহিত হলে নিকাহনামা।
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র তাদের জাতীয় পরিচয় পত্রের প্রয়োজন হয় এক্ষেত্রে গার্ডিয়ানের কোনো ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন নেই।
সরকারি চাকরিজীবীদের পাসপোর্ট আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
- আবেদনকারীর ভোটার আইডি কার্ডের কপি।
- নাগরিক সনদপত্র।
- ইউটিলিটি বিলের কাগজ।
- অনলাইন আবেদনের সারাংশ।
- অনলাইন আবেদনের কপি।
- বিবাহিত হলে নিকাহনামা।
- অভিভাবকের এনআইডি।
- NOC (NO OBJECTION CERTIFICATE)
- GO (GOVERNMENT ORDER)
সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে NOC এবং GO এই দুটি ডকুমেন্ট বেশি প্রয়োজনীয় হয়। যারা রাষ্ট্রীয় কাজের জন্য দেশের বাইরে যেতে চায় তাদের জন্য GO প্রয়োজন।
ই পাসপোর্ট করার নিয়ম ও খরচ
E-Passport করার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয় এবং কিছু অর্থ প্রদান করতে হয়। নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
ই পাসপোর্ট করার নিয়ম
ই পাসপোর্টের আবেদন পত্র অনলাইনে পূরণ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে কোন কাগজপত্র সত্যায়ন করার প্রয়োজন হয় না। ই পাসপোর্টের ফরমে কোন ছবি সংযোজন এবং সত্যায়নের প্রয়োজন পড়ে না। জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী ফরম পূরণ করতে হয়। ১৮ বছরের কম বয়সীদের পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর প্রয়োজন হয়। ১৮ বা তার ঊর্ধ্ব বয়সীদের জন্য জাতীয় পরিচয় পত্রের প্রয়োজন হয়। তারকা চিহ্নিত ক্রমিক নম্বর গুলো পূরণ করতে হবে। অনলাইন আবেদন সম্পন্নের পর প্রিন্টকপি হাইকমিশনারের নিকট দাখিল করতে হয়।
১৮ বছরের নিম্ন এবং ৬৫ বছরের উর্ধ্বে বয়সের পাসপোর্ট এর মেয়াদ হবে ৫ বছর এবং ৪৮ পৃষ্ঠার। টেকনিক্যাল সনদসমূহ যেমন (ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার) ইত্যাদি সংযোজন করতে হবে। বিবাহিতদের ক্ষেত্রে নিকাহনামা এবং বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তালাকনামা দাখিল করতে হবে। নতুন পাসপোর্ট এর ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। আবেদনের সময় জাতীয় পরিচয় পত্র, জন্ম নিবন্ধন, টেকনিক্যাল সার্টিফিকেট, সরকারি আদেশ GO অনাপত্তি NOC দাখিল করতে হবে। পাসপোর্ট রি ইস্যুর ক্ষেত্রে মূল পাসপোর্টটি প্রদান করতে হবে।
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে সেক্ষেত্রে পুলিশ রিপোর্ট প্রদান করতে হয়। ছয় বছর বয়সের নিচে আবেদন করতে গেলে 3R সাইজের ছবি প্রদর্শন করতে হয়। পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে দ্রুত থানায় জিডি করতে হবে। নতুন পাসপোর্ট আবেদনের সময় হারানো পাসপোর্ট এর কপি এবং জিডির কপি প্রদান করতে হবে।
ই পাসপোর্ট করার খরচসমূহ
বাংলাদেশী আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট এর জন্য ৪০২৫ টাকা জমা দিতে হয় (২১ কর্মদিবস)। পাঁচ বছর মেয়াদি জরুরী পাসপোর্ট এর জন্য ৬৩২৫ টাকা প্রদান করতে হয় (১০ কর্মদিবস)। এবং পাঁচ বছর মেয়াদী অতীব জরুরী পাসপোর্ট এর জন্য ৮৬২৫ টাকা প্রদান করতে হয় (২ কর্মদিবস)।
বাংলাদেশী আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট এর জন্য ৬৩২৫ টাকা প্রদান করতে হয়। পাঁচ বছর মেয়াদী জরুরী পাসপোর্ট এর জন্য ৮৬২৫ টাকা প্রদান করতে হয়। এবং অতীব জরুরী পাসপোর্ট এর ক্ষেত্রে ১২০৭৫ টাকা প্রদান করতে হয়।
৬৪ পৃষ্ঠার দশ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট এর জন্য ৮০৫০ টাকা প্রদান করতে হয়। দশ বছর মেয়াদী জরুরী পাসপোর্ট এর জন্য ১০৩৫০ টাকা প্রদান করতে হয়। দশ বছর মেয়াদী অতীব জরুরী পাসপোর্ট এর জন্য ১৩৮০০ টাকা প্রদান করতে হয়। এছাড়াও সকল ফী এর সাথে ১৫% ভ্যাট সংযুক্ত করতে হয়। 18 বছরের কম এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরা শুধুমাত্র ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট পেয়ে থাকে। উল্লেখ্য যে অতীব জরুরী পাসপোর্ট গুলোর ক্ষেত্রে পুলিশ প্রতিবেদন সঙ্গে আনতে হয়।।
১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট আবেদন
সাধারণত পাসপোর্ট পাঁচ বছর এবং 10 বছর মেয়াদের জন্য প্রদান করা হয়। দশ বছর মেয়েদের ই পাসপোর্ট এর আবেদনের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত কাগজপত্রাদি প্রয়োজন হয়:
- মূল জাতীয় পরিচয় পত্র বা এর অনলাইন প্রিন্টকপি।
- জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকলে জন্ম নিবন্ধন সনদ এর কপি।
- পুরনো মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) এর কপি, যদি থাকে।
- ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে প্রাপ্ত নাগরিকত্ব সনদ।
- ব্যক্তির পেশা নিরূপণের জন্য স্টুডেন্ট আইডি কার্ড/সার্টিফিকেট অথবা চাকরির পরিচয় পত্রের কপি।
- বিবাহিতদের ক্ষেত্রে নিকাহনামা।
- সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য NOC/ GO।
- এবং পাসপোর্ট এর জন্য আবেদনের ফি পরিশোধ সংক্রান্ত রশিদ।
১০ বছর মেয়াদী ই পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন ফী
- ৪৮ পৃষ্ঠার জন্য রেগুলার ডেলিভারির ক্ষেত্রে আবেদন ফি ৫৭৫০ টাকা। জরুরী ভিত্তিতে পাসপোর্ট প্রদানের জন্য আবেদন ফি ৮০৫০ টাকা। এবং অতীব জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট প্রদানের জন্য আবেদন ফি ১০৩৫০ টাকা।
- ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট এর জন্য রেগুলার ডেলিভারির ক্ষেত্রে আবেদন ফি ৮০৫০ টাকা। জরুরী ভিত্তিতে পাসপোর্ট প্রদানের জন্য আবেদন ফি ১০৩৫০ টাকা। অতীব জরুরী ভিত্তিতে পাসপোর্ট প্রদানের জন্য আবেদন ফি ১৩৮০০ টাকা।
সর্বাধিক জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১) পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে 2025?
উঃ ই পাসপোর্ট এর ক্ষেত্রে মূল পাসপোর্ট, মূল পাসপোর্ট এর প্রথম পাতার ফটোকপি, অনলাইনে ই পাসপোর্ট আবেদন ফরম, রেসিডেন্স কার্ড অথবা এমপাদ্রনামিয়েন্ত ফটোকপি, ৪৮ পাতার ১০ বছর মেয়াদের জন্য ১২৫ ইউরো এর প্রয়োজন হবে।
২) পাসপোর্ট কত দিনে পাওয়া যায়?
উঃ যেকোনো ব্যক্তি আবেদন করার 6 থেকে 8 সপ্তাহের মধ্যে পাসপোর্ট পাবেন। ই পাসপোর্ট এর ক্ষেত্রে ডেলিভারি স্লিপের বারকোডের নিচে Application ID পাওয়া যাবে
৩) পাসপোর্ট করতে কি জন্ম সনদ বাধ্যতামূলক?
উঃ আবেদনকারী যদি ১৮ বছরের নিচে হয় এবং তার যদি জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকে তাহলে অবশ্যই ১৭ সংখ্যার নম্বর সহ জাতীয় পরিচয় পত্র অবশ্যই প্রয়োজন।
শেষ কথা
প্রিয় পাঠক পাঠিকা, আজকের পোস্টে আমরা পাসপোর্ট করার নিয়ম ও খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। যারা ই পাসপোর্ট এর জন্য ঘরে বসে আবেদন করতে যাচ্ছেন তাদের জন্য আজকের আর্টিকেলটি গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে আশা করি। আর্টিকেলটি যদি আপনাদের কাছে তথ্যবহুল মনে হয় অবশ্যই আমাদেরকে কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন এবং এরকম তথ্যবহুল আর্টিকেল পাওয়ার জন্য আমাদের ওয়েবসাইটের সাথেই থাকুন।