স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক কে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। এর কারণ হলো এই দুটি রোগই সব সময় লক্ষণ বা প্রাথমিক উপসর্গ দেখায় না। ফলে এতে আক্রান্ত রোগীকে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না দেওয়া হলে মৃত্যু ঘটতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সুস্থ মানুষেরা এ দুটি রোগের লক্ষণ অবহেলা করেন কিংবা সাধারণ ভেবে এড়িয়ে যান। ফলে রোগীকে আর পরবর্তী সময়ে বাঁচানো যায় না।
অনেকের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক নিয়ে কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই হার্ট অ্যাটাককেই স্ট্রোক ভাবেন। এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম একটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন-
প্রশ্নঃ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মধ্যে কী কোনো পার্থক্য রয়েছে?
উত্তরঃ অনেকে রয়েছেন যাঁরা স্ট্রোককে হার্ট অ্যাটাক ভাবেন। অথবা অনেকে হার্ট অ্যাটাককে স্ট্রোক বলে মনে করেন। আসলে বিষয়টি তা নয়। হার্টের রক্তনালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে হার্টের কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক হয়।
যে কারণে হার্ট অ্যাটাক হয়, ঠিক একই কারণে স্ট্রোক হয়। আমাদের যে মস্তিষ্ক, যেটি সারা শরীরকে পরিচালনা করে, সেখানেও রক্ত চলাচলের এ রকম নালি রয়েছে সে নালিগুলোর কোনো একটি অংশ যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে মস্তিষ্কের কিছু অংশের ক্ষতি হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে শরীরের কোনো দিকের অংশ প্যারালাইসিস হয়ে যায় বা অবশ হয়ে যায়। একে সাধারণত স্ট্রোক বলে।
সুতরাং আমরা সাদামাটা ভাবে বলতে পারি, হার্টের রক্তচলাচল বন্ধ হয়ে হার্টের যে ক্ষতি হয়, একে হার্ট অ্যাটাক বলা হয়। আর মস্তিষ্কের রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে মস্তিষ্কের যে ক্ষতি হয় সেটাকে স্ট্রোক বলা হয়। ব্রেইন স্ট্রোকের ফলে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ বিকলাঙ্গ, অবস বা অকেজো হয়ে যায়। আজকে ব্রেইন স্ট্রোক নিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করবো। ইনশাআল্লাহ।
আরো পড়ুন- পাবলিক স্পিকিং স্কিল বৃদ্ধির জন্য কার্যকরী কিছু টিপস
স্ট্রোক কি?
ব্রেইনের রক্ত সরবরাহ কোন কারনে বিঘ্নিত হলে রক্তের অভাবে কিছু ব্রেইন টিস্যু মারা যায়, এটাই হল স্ট্রোক । বিশেষ করে রক্ত নালী ব্লক হয়ে কিংবা রক্তনালী ছিঁড়ে ব্রেইনের এই রক্ত সরবরাহ বিঘ্ন হয় । স্ট্রোক হয় ব্রেইনে ।
স্ট্রোক কত প্রকার?
সিডিসি (CDC= Center for Disease Control and Prevention) এর মত অনুযায়ী স্ট্রোক তিন প্রকার ধরনের-
১। ইশকিমিক স্ট্রোক (Ischemic stroke): মস্তিষ্কের রক্তনালীর ভিতরে রক্ত জমাট বেঁধে (blood Clot) রক্ত সরবরাহ বিঘ্ন ঘটালে কিছু ব্রেইন টিস্যু মারা যায়, এটাই ইশকেমিক স্ট্রোক। ৮৫% স্ট্রোকই ইশকেমিক স্ট্রোক। উচ্চরক্তচাপ ইশকেমিক স্ট্রোকের বড় কারণ।
২। হেমোরেজিক স্ট্রোক (Hemorrhagic Stroke): মস্তিষ্কের ভিতরে কোন রক্তনালী ছিঁড়ে গেলে হেমোরেজিক স্ট্রোক হয় । এই ধরনের স্ট্রোকে তিন মাসের মধ্যে মৃত্যু ঝুকি অনেক অনেক বেশি ।
আপনার পছন্দের সকল প্রকার বই কিনতে ভিজিট করুন- দিপান্তর.কম ওয়েবসাইটে।
৩। খুব ছোট স্ট্রোক (Mini Stroke or Transient Ischemic Attack- TIA): মস্তিষ্কের রক্তনালীতে অস্থায়ীভাবে অল্প কিছু সময়ের জন্য রক্ত সরবরাহ বিঘ্ন হলে এই ধরনের স্ট্রোক হয়! যেটা দ্রুতই আবার ভাল হয়ে যায়।
মিনি স্ট্রোক (TIA) হল বড় ধরনের স্ট্রোকের পূর্ব লক্ষন। ছোট স্ট্রোক (TIA) হওয়ার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ৫%, এক সপ্তাহের মধ্যে ৮%, এক মাসের মধ্যে ১২% এবং তিনমাসের মধ্যে ১৭% মানুষ বড় ধরনের স্ট্রোক করে । তাই এই ছোট স্ট্রোককে কোন ভাবেই অবহেলা করা উচিত না।
স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক এর ঝুঁকি বাড়ায় যে কারণঃ
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও একাকীত্ব হার্ট অ্যাটাক কিংবা স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে পারে।
স্ট্রোকের লক্ষনঃ
★হঠাৎ অচলতা, বিশেষ করে শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া।
★মুখ বাকা হয়ে যাওয়া কিংবা হাত ও পা এ শক্তি না পাওয়া।
★হঠাৎ বিভ্রান্তি, যেমন কথা বলা কিংবা বুঝতে অসুবিধা হওয়া।
★দৃষ্টি সমস্যা, এই ক্ষেত্রে এক চোখে কিংবা উভয় চোখে সমস্যা হতে পারে।
★শরীরের ভারসাম্য কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা।
★ হঠাৎ করে মাথা ঘোরা কিংবা হাঁটতে কষ্ট হওয়া।
★ আকস্মিক প্রচণ্ড মাথা ব্যাথা।
স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে করণীয়ঃ
সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও একাকীত্বে বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সঠিক জীবনযাত্রার প্রতিও গভীর মনোযোগ দিতে হবে। হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ানোর জন্য আরও দায়ী ভুল খাদ্যাভ্যাস, শারীরচর্চার অভাব ও অস্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাস। এ বিষয়ে গবেষকরা পরামর্শ দেন, স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খান। নিয়মিত ব্যায়াম করুন ও ধূমপান বা অ্যালকোহল সেবন ত্যাগ করুন। তাহলেই আপনি সুস্থ থাকবেন ও হার্ট অ্যাটাক কিংবা স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমবে।
আল্লাহ আমাদের বিপদ থেকে রক্ষা করুন
ধন্যবাদ তথ্য গুলো তুলে ধরার জন্য।
ekhon etar matra onek besi