ব্রণ দূর করার উপায় নিয়ে মানুষ প্রতিনিয়ত অনেক সার্চ করে। মুখের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয় ব্রণ। সাধাণত টিনেজার মেয়েরা ব্রণ ও ব্রণের দাগের সমস্যার সম্মুখীন বেশী হয়। এছাড়া সকল বয়সের নারী পুরুষ এ সমস্যায় ভুগে থাকেন। মূলত আমাদের ত্বকের তৈলগ্রন্থি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে এর আকার বৃদ্ধি পায়।
ব্রণ কি?
অ্যাকনি ভালগারিস (ইংরেজি: Acne vulgaris বা Acne) বা ব্রণ। যা মুখে দানার মতো ফুটে ওঠে। মানব ত্বক সেবাসিয়াস গ্রন্থি সেবাম নামক একপ্রকার তৈলাক্ত পদার্থ নিঃসরণ করে ত্বককে মসৃন রাখে। যদি কোনো কারণে সেবাসিয়াস গ্রন্থি সেবাম নিঃসরণে বাধাপ্রাপ্ত হয়, মুখ বন্ধ থাকে। তাহলে ভেতরে জমা হয়ে ফুলে উঠে যা ব্রণ (acne) নামে পরিচিত।
ব্রণ কেনো হয়?
অনকে মুখে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকে।অনেক সময় বংশগত কিংবা পরিবেশগত কারণেও অনেকের ব্রণ হয়ে থাকে। মূলত propionibacterium acne (প্রোপিওনিব্যাকটেরিয়াম অ্যানস) নামের একটি ব্যাকটেরিয়া এই ব্রণের জন্য দায়ী। এছাড়াও কিছু ওষুধ যেমনঃ- কর্টিকোস্টেরয়েড, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, লিথিনামও মানব ত্বকে ব্রণ তৈরি করে।
ব্রণ দূর করার উপায় সমূহঃ
মুখের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয় ব্রণ। সাধাণত টিনেজার মেয়েরা ব্রণ ও ব্রণের দাগের সমস্যার সম্মুখীন বেশী হয়। এছাড়া সকল বয়সের নারী পুরুষ এ সমস্যায় ভুগে থাকেন। মূলত আমাদের ত্বকের তৈলগ্রন্থি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে এর আকার বৃদ্ধি পায়। যা ধীরে ধীরে ব্রণের আকার ধারণ করে। ব্রণের সাথে কালো দাগ মুখে পরে যায়। যা সহজে মুছতেও চায় না। ত্বকের ব্রণ ঠিক করতে ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করুন।
স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক কি? লক্ষণ ও প্রতিকার |
বাজারের কসমেটিক্সের বদলে ঘরোয়া পদ্ধতি সহজেই আপনার ব্রণ দূর করতে সাহায্য করবে। এই ঘরোয়া, প্রাকৃতিক সামগ্রীই সবথেকে নিরাপদ এবং এর কোনো পাশ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই মুখের ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার সহজ কিছু ঘরোয়া টিপস শেয়ার করা হলো-
১) ডিমের সাদা অংশ
ডিমের সাদা অংশ ব্রণ তাড়াতে খুবই কার্যকর। ডিমের সাদা অংশ ব্রণে লাগিয়ে ম্যাসেজ করতে পারেন। এটি আধা ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি আপনার ত্বক কোমল করতেও সাহায্য করে। সব থেকে ভালো হয় সারা রাত মুখে ডিমের সাদা অংশ রেখে সকাল বেলা তা ধুয়ে ফেললে। মুখ ভালো করে ধুয়ে ফেলার পরে পছন্দ মতো ময়েশ্চার ক্রিম লাগাতে পারেন।
২) শশার রস ও টমেটো
প্রতিদিন শশার রস দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে পারেন। এছাড়া শশার রসের আইস কিউব করে রেখে তা ব্রণে লাগাতে পারেন। এটি আপনার ব্রণের সাথে সাথে ওপেন পোরসের সমস্যা ও দূর করতে কার্যকরী। একটি টমেটোতে রয়েছে আমিষ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন- এ, বি, সি এবং কে সহ আরো অনেক ভিটামিন। এতে লাইসপিন নামক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এন্টি-অক্সিডেন্ট আছে। যা শুধু মাত্র টমেটোতেই পাওয়া যায়। তাই এটি ত্বকের বলি রেখা দূর করতে সাহায্য করে। একটি টমেটো নিয়ে তার রস বের করতে হবে। তারপর তার সাথে শশার রস মশিয়ে মুখে লাগাতে হবে। শুকিয়ে গেলে তা ১০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে ৩-৪ বার লাগালে ব্রণের সমস্যা দূর তো হবেই, সাথে আপনার রোদে পোড়া ত্বকও সুন্দর হবে।
৩) আপেল ও মধু
আপেল ও মধুর মিশ্রণ সব থেকে কার্যকর ও গ্রহনযোগ্য পদ্ধতি। প্রথমে আপেলের পেষ্ট তৈরি করে এতে ৪-৬ ফোটা মধু মিশিয়ে নিন। মিশ্রনটি মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষন অপেক্ষা করুন এবং পানি দিয়ে ভালো মতো ধুয়ে ফেলুন। এটি মুখের টানটান ভাব বজায় রাখে। সপ্তাহে ৩ বার ব্যবহার করলে নিজেই পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন। ব্রণ ও ব্রণের দাগ দুটোই দূর করবে এই যাদুকরী মিশ্রন।
৪) মুলতানি মাটি
ত্বকের বেশির ভাগ সমস্যা থেকে মুক্তির অন্যতম একটি প্রাকৃতিক সমাধানের উপায় হচ্ছে মুলতানি মাটি। এর অপর নাম Fuller’s Earth। পাকিস্তানের মুলতান শহর থেকে এর উৎপত্তি। মুলতানি মাটি পানি দিয়ে পেষ্ট করে মুখে লাগালে মুখের তেলতেলে ভাব দূর হয়। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল বের হওয়া বন্ধ করতে সাহায্য করে। এর ফলে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা কমে যায়।
৫) তুলসি পাতা
তুলসি পাতা ব্রণের জন্য খুবই উপকারী। কারণ, তুলসি পাতা আইয়ুর্বেদিক গুণে সমৃদ্ধ। তুলসি পাতার রস ব্রণের উপর লাগাতে হবে এবং তা শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে তা ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে কয়েকদিন করার পর আপনি অনেকটা পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন। ব্রণ দূর করার উপায় এর মধ্যে এটি অন্যতম একটি পদ্ধতি।
৬) কাঁচা হলুদ ও চন্দন কাঠের গুড়া
মুখের জন্য কাঁচা হলুদ ও চন্দন কাঠের গুড়ো অনেক উপকারি। সমপরিমান বাটা কাঁচা হলুদ ও চন্দন কাঠের গুড়ো মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করে তা ব্রণ আক্রান্ত জায়গায় লাগাতে হবে। শুকিয়ে গেলে তা ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এটি ব্রণ ও ব্রণের দাগ সারাতে অধিক কার্যকার।
৭) গোলাপ জল ও লেবুর রস
লেবুর রসে থাকা ভিটামিন- সি যে কোনো দাগ দূর করতে সাহায্য করে। এটাকে প্রাকৃতিক ব্লিচও বলা হয়ে থাকে। গোলাপ জলের সাথে চন্দন কাঠের গুড় মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করতে হবে। এরপর এতে ৩-৪ ফোঁটা লেবুর রস দিতে হবে। লেবুর রস অনেক সময় মুখের জন্য উপযোগী হয় না। সেক্ষেত্রে লেবুর রসের পরিবর্তে মধু ব্যাবহার করতে পারেন। সপ্তাহে ৩-৪ বার ব্যবহারে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
8) পুদিনা পাতা
অতিরিক্ত গরমের কারনে মুখে বিভিন্ন ফুটকুনি ও ব্রণ উঠে। এইগুলো দূর করতে পুদিনা পাতা খুব উপকারি। পুদিনা পাতা বাটা ব্রণের উপরে দিতে হবে ও রস মুখে দিতে হবে। ২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। যা আপনার মুখের ব্রণ দূর করতে সহায়ক হবে।
৯) পেঁপে ও চালের গুড়া
অপরিষ্কার ত্বকের কারণে ব্রণ বেশী হয়ে থাকে। ত্বক পরিষ্কার রাখতে নিয়মিত স্ক্রাব করতে হয়। পাকা পেঁপে চটকে নিতে হবে। এর সাথে ১ চামচ লেবুর রস এবং প্রয়োজন মতো চালের গুড় মিশাতে হবে। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে মাসাজ করতে হবে। এর ফলে মুখ পরিষ্কার থাকবে এবং ব্রণ হবে না। এছাড়া মুখের মৃত কোষ দূর করতে চালের গুড়া অনেক কার্যকর এবং নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্যকারি একটি উপাদান।
১০) মুলতানি মাটি ও নিম পাতা
মুলতানি মাটি ও নিম পাতা প্রকৃতির উপহার স্বরূপ। কিছু নিমের পাতা নিয়ে ভাল করে ধুয়ে পিষে নিতে হবে। এর মধ্যে ১ চামচ মুলতানি মাটি ও ৫-৬ ফোঁটা গোলাপ জল মিশিয়ে নিতে হবে। প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন। প্যাকটি শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফলাফলের জন্য সপ্তাহে ৩-৪ বার ব্যবহার করুন।
ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করতে কিছু টিপসঃ
- প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমানে পানি খেতে হবে এবং সুস্থ থাকতে হবে।
- বাহির থেকে আসার পরে সব সময় ফেসওয়াস দিয়ে মুখ ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
- অনেকের নখ দিয়ে ব্রণ খোটানোর বাজে অভ্যাস রয়েছে। নখ দিয়ে ব্রণ খোটানো যাবে না। এতে ব্রণ বেশী হয় এবং দাগ মুখে বসে যায়। নখ দিয়ে ব্রণ চেপে কিছু বের করার চেষ্টা করেন না।
অনলাইন থেকে ইনকাম করার সেরা ১০টি পদ্ধতি |
- মুখ তেল মুক্ত রাখতে নিয়মিত স্ক্রাব ব্যবহার করতে হবে।
- মুখে ব্রণ থাকা অবস্থায় দুধ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
- সূর্যের আলো ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সূর্যের আলো ব্রণে পরলে তার দাগ মুখে বসে যায়। তাই সর্বদা সান্সক্রিম লাগিয়ে বাহিরে বের হতে হবে। তাছাড়া হ্যাট, মাস্ক, স্কার্ফ ইত্যাদি মুখ কে রোদ থেকে বাঁচাতে ব্যবহার করতে পারেন ।
আশা করি লেখাটি আপনার ভালো লেগেছে। আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। কথা হবে আবার কোনো নতুন আর্টিকেলে। ধন্যবাদ।
আমাদের সাথে সোশ্যাল মিডিয়াতে যুক্ত থাকুন- পাঠক বিডি
খুব ভালো লাগলো, ধন্যবাদ
অনেক ধন্যবাদ। এত সুন্দর করে উপায় গুলো বুঝিয়ে লিখার জন্য।
অনেক কিছুই ব্যবহার করলাম। দেখি শেষবার কি হয়।
(মুখে ব্রণ থাকা অবস্থায় দুধ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন) এটার মাধ্যমে কি দুধ পান করতে নিষেধ করা হয়েছে নাকি মুখে ব্যাবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে?
মুখে ব্যাবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে
ব্রণের সমস্যা