পড়াশোনা নিয়ে চিন্তিত? পড়া মনে রাখার কার্যকরী ১০টি উপায়

আর্টিকেল এর সূচিপত্র

পড়াশোনা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে একটি। পড়াশোনা ছাড়া জীবনে উন্নতি করা কঠিন। ভালোভাবে পড়াশোনা করলেই শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারে। তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে এবং তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে পারে। পড়াশোনাকে কমন বা ধরাবাধা নিয়মের মধ্যে না ফেলে রুটিন মাফিক পরিকল্পনা অনুযায়ী পড়াশোনা করলে পড়াশোনা হয়ে উঠবে সহজ, সাবলীল এবং মজাদার। তাই পড়াশোনাকে আরও কার্যকর করার জন্য সেরা ১০টি টিপস দেওয়া হলো।

পড়াশোনা কি?

উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে পড়া ও লেখার মাধ্যমে জ্ঞান আহরণ করে নিজেকে একজন যোগ্য ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই হলো পড়াশোনা। একজন ব্যক্তিকে জ্ঞানী, দক্ষ এবং পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা পড়ালশোনার মূল উদ্দেশ্য।

১. নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করাঃ

পরিকল্পনা ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব নয়। একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনাই আমাদের যেকোনো কঠিন কাজকে পানির মতো সহজ করে দিতে পারে। সেজন্য আমাদেরকে প্রথমে দৈনিক পড়াশোনার একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা সাজাতে হবে এবং সে অনুযায়ী এগিয়ে যেতে হবে। রুটিন মাফিক অল্প অল্প পড়াশোনা করে এবং গতদিনের পড়াকে প্রতিদিন রিভিশন দিলে পড়াটা আমাদের মস্তিষ্কে বেশিদিন স্থায়ী হয়। আর পড়াশোনা শুধু করলেই হয় না। পড়াশোনা ভালোভাবে আয়ত্তও করতে হয়। না হলে শুধু শুধু এত পরিশ্রম আমাদের কোনো কাজে আসবে না। ধরুন, আপনি একটা যেকোনো কাজ করার টার্গেট নিয়েছেন। কিন্তু কোনো ধরনের পরিকল্পনা ছাড়াই এগোচ্ছেন। তাহলে দিনশেষে দেখবেন আপনার কাজের একাংশ আপনি সম্পন্ন করতে পারবেন না। কারণ কাজ বা পড়াশোনার ক্ষেত্রে পরিকল্পনা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বলা হয়ে থাকে কাজের অর্ধেক সফলতা পরিকল্পনায়।

২. শান্ত এবং মনোযোগী পরিবেশ তৈরি করাঃ

পড়াশোনার ক্ষেত্রে পরিবেশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের মস্তিষ্ক তখনই কোনোকিছু দ্রুত ধারণ করতে পারে, যখন কিনা মস্তিষ্ক শান্ত থাকে। আর মস্তিষ্ক শান্ত রাখার উপায় হলো সুন্দর, শান্ত ও মনোরম পরিবেশ। পড়াশোনার পরিবেশটাকে এমন নিবিড় ও গোছালো করা উচিত যেখানে পড়াশোনা করলে হাতের কাছে সবকিছু সহজেই পাওয়া যায়। যদি পড়ার ফাঁকে ফাঁকে উঠে এই বই সেই বই নিতে হয়, তাহলে পড়ার প্রতি মনোযোগ হারিয়ে যায়। সেজন্য হাতের নাগালের কাছে সবকিছু গুছিয়ে রাখা উচিত।

মাঝেমধ্যে শান্ত পরিবেশ থাকা সত্বেও হঠাৎ কোনো কারণে একটু-আধটু শব্দ হলে আমাদের পড়ার মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে পুনরায় মনোযোগ ফিরিয়ে আনা আমাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। সেজন্য আমরা চাইলে স্টাডি মিউজিক শুনতে পারি যাতে মনোযোগ দ্রুত ফিরে আসে।

৩. নিয়মিত পড়াশোনা করাঃ

পড়াশোনা শুধু করলেই হয় না। পড়াশোনা করতে হয় সুন্দর ও সুস্থ নিয়মে। যদি কোনোকিছুর নিয়মই না থাকলে তাহলে কীভাবে আগাবে মানুষ? কাকে বা কোন জিনিসকে ভিত্তি করে আগাবে? এসব প্রশ্নের একটাই উত্তর আছে সেটি হলো রুটিন করে পড়াশোনা করা। পড়াশোনা শুরু করার পূর্বে রুটিন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সবকিছুরই নিজস্ব একটি রুটিন থাকে। যেমন রুটিন করে সকাল বেলা সূর্য উঠে এবং নিয়ম করে সন্ধ্যে বেলায় অস্ত যায়। সেজন্য উচিত আগেই আমাদের একটি রুটিন করে ফেলা। এখন প্রশ্ন হতে পারে যে রুটিন কেমন হওয়া উচিত বা কীভাবে রুটিন করব?

প্রথমে সাবজেক্ট এবং বার ঠিক করে নিতে হবে। অর্থাৎ কোন কোন দিনে কী পড়বেন সেগুলো আগে সিলেক্ট করে নিন। এরপর আপনার রুচি অনুযায়ী প্রত্যেক সাবজেক্টের টপিকের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করুন। পড়ার সময় নিজ নিজ ব্রেইনের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী নির্বাচন ভালো। কেননা কেউ কেউ একটা জিনিস একবার অল্প সময় পড়েই আয়ত্ত করে ফেলে। আবার কেউ কেউ ৪০ মিনিট বা এক ঘন্টা একটা জিনিস পড়েও সহজে আয়ত্ত করতে পারে না।

৪. বিষয়গুলি বুঝে পড়াঃ

পড়াশোনার বিষয়কে পৃথক পৃথক করে ভাগ করে ফেলুন। এতে দেখবেন পড়াশোনার বিষয়বস্তু অনেকটা কমে এসেছে। আর পড়াশোনার বিষয়গুলোকে আগে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে বুঝে নিতে হবে। কারণ বিষয়ই যদি ক্লিয়ার না থাকে তাহলে বেশি বেশি পড়াশোনাও কোনো কাজে আসবে না। আপনি যা ই পড়বেন সবকিছু বুঝে পড়বেন এতে করে পড়াটা অল্প পড়লেই সহজে মুখস্থ হয়ে যাবে এবং দীর্ঘদিন মনে থাকবে। বিষয় বুঝে পড়াটা খুবই কার্যকরি আমাদের জন্য। কেননা গবেষণায় দেখা গেছে যে, আমাদের মস্তিষ্ক সর্বোচ্চ ৪০ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখতে পারে। এর বেশি পড়াশোনাটা আসলে জোর পূর্বক। সেজন্য যদি কোনো বিষয় বুঝে বুঝে পড়া যায় তাহলে সেই পড়ার স্থায়িত্ব অনেক বেশি হয়।

৫. বিভিন্ন সোর্স থেকে পড়াঃ

কোনোকিছু যদি বই থেকে শুধু মুখস্থই করতে থাকি। তবে সেটা বেশি কার্যকরী হয় না আমাদের জন্য। বরং আমরা যদি একটা বিষয়কে ভালোভাবে আয়ত্ত করার জন্য বিভিন্ন সোর্স ঘাঁটি তাহলে সহজেই বিষয়টা আমাদের মস্তিষ্কে গেঁথে যায়। পরবর্তীতে যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো করার একটা বিরাট সুযোগ থাকে। বিভিন্ন সোর্স থেকে বিভিন্ন তথ্য নিয়ে একটা বিষয়কে নিজের মতো সাজিয়ে গুছিয়ে নোট করে রাখলে অনেক সুবিধা হয়।

৬. কাউকে শেখানোর চেষ্টা করাঃ

আপনি যদি শুধু শেখার গন্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকেন। তাহলে জীবনে ভালো কিছু করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। যদি একটা জিনিস শিখে সেই জিনিসটা অন্যকে শেখানোর চেষ্টা করি তাহলে সেটা আমাদের স্মৃতিতে সারাজীবনের জন্য সেইভ হয়ে থেকে যায়। ছোট হোক বা বড় হোক যেকোনো বিষয় নিজে জানলে অন্যকে জানানের বা শেখানোর চেষ্টা করুন। এতে করে আপনার মধ্যে আত্নবিশ্বাস তৈরি হবে এবং পড়ার প্রতি আগ্রহ অনেক গুন বেড়ে যাবে। যদি শেখানোর জন্য কাউকে না পান তাহলে পারলে নিজেই নিজেকে ব্যবহার করুন টিচার এবং স্টুডেন্ট হিসেবে। আয়নায় একবার নিজেকে স্টুডেন্ট এবং আরেকবার টিচার বানিয়ে দুই চরিত্রের অভিনয় করে শেখানোর যাত্রা শুরু করুন। এভাবে কয়েকদিন করতে পারলে পরবর্তীতে নিজেই নিজের উন্নতি অনুধাবন করতে পারবেন।

৭. প্রশ্ন করতে শিখুনঃ

টিচারের সামনে বসে শুধু ঘন্টার পর ঘন্টা লেকচার শুনে গেলেই হবে না। শোনার সাথে সাথে পড়াটাকে তৎক্ষনাৎ ব্রেইন সাপ্লাই দেওয়ার জন্য নিজেকে তৈরি রাখতে হবে। আর একটা জিনিস ব্রেইনে তখনই পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে গেঁথে যায়, যখন কিনা একটা কিছু জানার আগ্রহ প্রকাশ করে কাউকে প্রশ্ন করা হয়। এতে করে খুটিনাটি সকল বিষয়ে আমাদের জানা হয় এবং আমাদের ব্রেইন অনেকটা ডেভেলপ হয়। বুলেট ছাড়া যেমন বন্দুকের দাম নাই, তেমনি প্রশ্ন ছাড়া পড়াশোনার দাম নাই। যত বেশি প্রশ্ন করা যায় পড়াশোনা তত বেশি সহজ হয়ে আমাদের কাছে ধরা দিতে থাকে।

৮. পড়ার ফাঁকে বিরতি নেওয়াঃ

পড়াশোনা মোটেও কোনো সহজ কাজ নয়। পড়াশোনা একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন কাজ। আর ইতিহাসে উল্লেখ আছে যে, কাজ যত বেশি কঠিন হবে ওই কাজের সমাধান তত বেশি চমৎকার হবে। আর তাই ধরাবাঁধা নিয়মে একটানা না পড়ে পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে বিরতি নেওয়া উচিত। যেহেতু আমাদের মস্তিষ্কের মনোযোগ ধারণ ক্ষমতা খুব বেশি না।তা ই আমাদের উচিত বিরতি নিয়ে আবার পড়াশোনায় ফিরে আসা। বিরতি নিলে ব্রেইনটা শান্ত ও সতেজ হয়। ফলে পূনরায় পড়াশোনায় ফিরে আসতে অনেক সহজ হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, পড়াশোনায় বিরতি নিলে, ফাঁকে ফাঁকে পানি খেলে এবং পায়চারি করে পড়লে পড়া বেশি টেকসই হয়।

৯. পর্যাপ্ত ঘুমানোঃ

দিনরাত জেগে পড়াশোনা করলে লাভের বিপরীতে আমাদের ক্ষতিই হয়ে থাকে। কেননা পর্যাপ্ত ঘুম আমাদের জন্য খুবই জরুরি। সজাগ থেকে পড়লে ব্রেইন শান্ত থাকে না এবং ব্রেইন তার ধারণক্ষমতা হারাতে থাকে ফলে রাত জেগে শত পড়লেও সেই পড়া আমাদের কোনো কাজে আসে না বললেই চলে।

পড়াকে সহজ ও সুন্দর করতে আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো উচিত। এতে শরীর ও স্বাস্থ্য ভালো থাকে। আর শরীর ও স্বাস্থ্য ভালো থাকলে আমাদের এমনিই পড়াশোনা মনে দীর্ঘদিন মনে থাকতে ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়তে থাকবে।

১০. স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করাঃ

শরীরের পুষ্টি আমাদের পড়াশোনায় অনেক প্রভাব ফেলে। শরীরে যদি প্রয়োজনীয় পুষ্টি গুনাগুনই না থাকে তাহলে আমাদের মস্তিষ্ক কীভাবে পড়া মনে রাখবে? পড়াশোনা মনে রাখার কার্যকরী ও অন্যতম উপায় হতে পারে নিয়মিত ঘুম, খাওয়া ও ব্যায়াম। যা একটা অলস মানুষকে করে তোলে সবল ও শক্তিশালী। নিয়মিত ব্যায়াম যেমন আমাদের শরীরের জন্য উপকারী তেমনি আমাদের মস্তিষ্কের জন্যও খুব প্রয়োজনীয়। স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে ব্রেইন সবসময় সুস্থ ও সবল থাকে। ফলে আমাদের চিন্তা শক্তিও দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাই পড়াশোনাকে সহজ, সুন্দর ও অনেকদিন মনে রাখার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম, খাওয়া ও পর্যাপ্ত ঘুম আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

ক্যান্সার কি? বিভিন্ন ক্যান্সারের কারণ ও প্রতিরোধে করণীয়

সর্বোপরি বলা যায় যে, উক্ত নিয়মকানুন গুলো ঠিকমতো মেনে চলতে পারলে পড়াশোনাকে খুব সহজেই মজার ছলে কব্জা করা যাবে। এভাবে এগিয়ে যেতে পারলে পড়াশোনার প্রতি আমাদের অসীম ভালোবাসা তৈরি হবে।

আশা করি পড়া মনে রাখা নিয়ে আজকের আর্টিকেলটি ভালো লেগেছে। এই ধরনের বিভিন্ন আর্টিকেল ও তথ্য পেতে প্রতিদিন আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। পাঠক বিডি’র পাঠক হয়ে সাথে’ই থাকুন। ধন্যবাদ আপনাকে।

গুগল নিউজে পড়ুন- পাঠক বিডি

যোগ দিন পাঠক ফোরাম কমিউনিটিতে

আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন নতুন বিষয় জানুন, আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং সমমনা পাঠকদের সাথে আলোচনা করুন।

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
Twitter
Email
Print
সাবস্ক্রাইব
নোটিফিকেশন
guest
Ratting
2 মতামত সমূহ
মতামত
নতুন পুরাতন
মাহমুদুল হাসান
মাহমুদুল হাসান
অতিথি
June 12, 2024 5:39 pm
Ratting :
     

সুন্দর তথ্য তুলে ধরেছেন।

লুবাবা তাসনিন লিয়া
লুবাবা তাসনিন লিয়া
June 12, 2024 9:26 pm

সুন্দর তথ্য দিয়ে উপস্থাপন করেছেন ধন্যবাদ। আর্টিকেলটি পড়ে অনেক উপকৃত হলাম।

Copyright © 2024 PathokBD.com