ক্যান্সার কি? বিভিন্ন ক্যান্সারের কারণ ও প্রতিরোধে করণীয়

আর্টিকেল এর সূচিপত্র

ক্যান্সার বহু প্রাচীন একটি রোগ, যার ধ্বংসাত্মক প্রভাব সম্পর্কে আমরা প্রায় সকলেই অবহিত। ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং গোটা পরিবারের জন্য এটি একটি যুদ্ধ। আর্থিকভাবে অনেকে রোগীর চিকিৎসা করাতে ব্যর্থ। কারণ ক্যান্সারের চিকিৎসা অত্যাধিক ব্যয়বহুল। এমনকি অনেকে বাড়ির ভিটা পর্যন্ত বিক্রি করতে বাধ্য হয়। পৃথিবীতে হৃদরোগের পর ক্যান্সারের প্রভাবে মৃত্যুর হার সবচাইতে বেশি। তবে এ রোগ ছোঁয়াচে নয়। বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্লাড ক্যান্সার, পাকস্থলি ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার ইত্যাদি।

ক্যান্সার কি?

বেশ কিছু আদিম কোষের সমষ্টিগত রোগ হলো ক্যান্সার। যা ভ্রূণদশায় স্থানান্তরিত হয় এবং বছরের পর বছর সুপ্ত থাকার পর ক্যান্সারকারক পদার্থ দ্বারা উত্তেজিত হয়ে কোষগুলোকে অস্বাভাবিক করে তোলে এবং অস্বাভাবিক কোষগুলো সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্যান্সার পরিবেশগত কারণে হয়ে থাকে। পারিবারিক বা জন্মগত কারণে খুব কমই হতে দেখা যায়। এই রোগের আরেক নাম কর্কটরোগ।

ক্যান্সারের কারণঃ

ক্যান্সার কেন হয় তার আসল কারণ এখনও জানা যায় নি। তবে গবেষণা করে এতোটুকু জানা গেছে যে বহিরাগত কিছু কারণ, যেমন – ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবাণু বা ভাইরাস, জিনঘটিত পদার্থ, খাদ্যবস্তু, নেশার সামগ্রী, শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, পানি বা বাতাসের তেজস্ক্রিয় পদার্থ, ওষুধ, সূর্যের অতি বেগুনি রশ্নি, প্রসাধনী, পোকামাকড়ের বিষ, অপুষ্টি এবং দীর্ঘদিন গভীর চিন্তা এই রোগের জন্য দায়ী। কিছু বিষাক্ত ওষুধ আছে, যা শরীরের প্রতিরোধক কোষ বিশেষ করে লসিকা কোষকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা হ্রাস পায়। তিল, আঁচিল, দীর্ঘদিন চুলকানির ফলে ক্যান্সার হতে পারে। এমনকি এইডস এর কারণেও ক্যান্সার হয়ে থাকে, যার শেষ পরিণতি মৃত্যু। প্রতিনিয়ত মানসিক অস্থিরতা, অতিরিক্ত চা, কফি পান ও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও ক্যান্সার হয়ে থাকে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে খাওয়া-দাওয়াঃ

শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখার ক্ষেত্রে খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে আমরা একেবারে উদাসীন। শরীর সুস্থ রাখার মূল চাবিকাঠি হলো – প্রাকৃতিক নিয়মের সাথে তাল মিলিয়ে সঠিক নিয়মে খাদ্য গ্রহণ, বিশ্রাম, শরীরচর্চা করা। খেয়াল রাখতে হবে যেন প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে শর্করা, প্রোটিন, ফ্যাট, খনিজ পদার্থ থাকে। যারা বসে কাজ করেন, যেমনঃ- চিকিৎসক, আইনজীবি, শিক্ষাবিদ ইত্যাদি পেশার মানুষ। তাদের নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য ২৪০০ ক্যালরি গ্রহণ করা বরাদ্দ।

 

যাদের কাজ হাঁটা-চলার মাধ্যমে, যেমন – দোকানদার, গায়ক, নৃত্যশিল্পী, তাদের মধ্যে পুরুষদের ২৮০০ ক্যালরি ও নারীদের ২২০০ ক্যালরি গ্রহণ করা উচিত। আর যারা ভারী কাজ করেন, যেমন – শ্রমিক, দিনমজুরদের ক্ষেত্রে পুরুষরা ৩৯০০ ক্যালরি এবং নারীরা ৩০০০ ক্যালরি গ্রহণ করা আবশ্যক। গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে ৩০০ ক্যালরি অতিরিক্ত গ্রহণ করতে হবে। সঠিক খাদ্য গ্রহণ করে আমরা অপুষ্টি ও ভিটামিনজনিত অনেক রোগ থেকেও বাঁচতে পারি।

ক্যান্সার রোগের প্রতিরোধে যা করণীয়ঃ

শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্যান্সার দেখা দিতে পারে। এটি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন – ত্বকের ক্যান্সার, স্তন, মস্তিষ্ক, থাইরয়েড ক্যান্সার, টনসিল ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার, লিভার, পাকস্থলীর ক্যান্সার, রক্তের ক্যান্সার ইত্যাদি। কয়েক প্রকারের ক্যান্সার সম্পর্কে অবহিত হওয়ার জন্য লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে তুলে ধরা হলোঃ

১. পাকস্থলীর ক্যান্সারঃ

বর্তমান বিশ্বে ভয়ংকর একটি রোগ হলো পাকস্থলি ক্যান্সার। পাকস্থলীর ক্যান্সারের কারণ এখনও অজানা। যত কম বয়সে এই ক্যান্সার হয়, তত বেশি মারাত্বক হয়। গ্যাস্ট্রাইসিস ও গ্যাসট্রিক কারসিনোমা, হাইপোক্লোরহাইডিয়ার এই ক্যান্সারের পূর্ব লক্ষণ। প্রায় এই রোগ বংশগত কারণেও হয়ে থাকে। খাবারের সাথেও এর সম্পর্ক রয়েছে। রান্নার পদ্ধতি, গুণাগুণ ও সংরক্ষণের উপর নির্ভর করে। এ রোগ হলে প্রথমে কয়েক বছর বদহজম, পেটে অস্থির ভাব, ওজন হ্রাস, ক্ষুদা মন্দা, দুর্বলতা, রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। পাকস্থলী ক্যান্সারের প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতি হলো শল্যচিকিৎসা। তবে বাংলাদেশে বেশির ভাগ হাসপাতালে কেমো থেরাপির মাধ্যমে ক্যান্সারের কোষ গুলো ছোট করে অপারেশন করা হয়ে থাকে। বিকিরণ ও ওষুধের মাধ্যমে বেশি সুফল পাওয়া যায়। 

২. মুখের ক্যান্সারঃ

গাল, জিহ্বা, তালু ও ঠোঁটে এই ক্যান্সার বেশি দেখা যায়। যারা তামাক, মদ্যপান ও ধুমপান করেন, তাদের মধ্যে এই রোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি। প্রাথমিক অবস্থায় সাদা দাগ বা লিউকোপ্লাকিয়া, চকচকে লাল দাগ বা এরিথ্রোপ্লাসিয়া, সাদা ঘা ইত্যাদি দেখা যায়। মুখের কিছু অংশ শক্ত বোর্ডের মতো হওয়া, জ্বালা ভাব বা যন্ত্রণা, রঙ পরিবর্তন ইত্যাদি সাবমিউকায়া ফাইবোসিস নির্দেশ করে। এ রোগে প্রথমে যন্ত্রণা না থাকলেও পরে যন্ত্রণা দেখা দেয়। যা প্রায়ই রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর বোঝা যায়। অপারেশন, বিকিরণ ও ওষুধ তিন পদ্ধতির মাধ্যমেই এ রোগ নিরাময় করা সম্ভব।

৩. ব্লাড ক্যান্সারঃ

অনেক ক্যান্সারের ক্ষেত্রেই শুরুতে রোগ সম্পর্কে বোঝা যায় না। কারণ ক্যান্সার রোগটি আগাম কোন সংকেত পাঠায় না। রক্তের ক্যান্সারও তেমন, আর লক্ষন বোঝা গেলেও মানুষ খুব একটা সচেতন না বলে রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত থাকে। তবে ঠিক সময়ে চিকিৎসা করালেও রোগী পুরোপুরি সুস্থও হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যাদের ঘন ঘন ঠান্ডা লেগে থাকে এবং অ্যালার্জির পরিমাণ বেশি, তাদের শ্বেত রক্তকণিকা বেশি পরিমাণে উৎপন্ন হয়৷ তখন আর সেই কণিকা ঠিক মতো কাজ করতে পারে না। তার সাথে ব্যাঘাত ঘটে রক্তের অন্যান্য উপাদানের অনেক ক্রিয়ার। এটি ধীরে ধীরে ব্লাড ক্যান্সারে রূপ নেয়। এছাড়াও জন্মগত ভাবেও অনেকে ছোট বয়সেই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এর লক্ষণ গুলো হলো – কাপুনি দিয়ে জ্বর, ইনফেকশন, ত্বকে লাল দাগ, অ্যালার্জি বেড়ে যাওয়া, দূর্বল হয়ে পড়া ইত্যাদি।

প্যাসিভ ইনকাম কি? প্যাসিভ ইনকাম করার সেরা ৫ টি উপায়

৪. টনসিল ক্যান্সারঃ

টনসিল ক্যান্সার হলে ঘা ছাড়াও কানে যন্ত্রণা, ঘাড়ের উপর দিকে লসিকাগ্রন্থি ফুলতে দেখা যায়। এই ক্যান্সার খুব তাড়াতাড়ি ছড়ায় এবং কোষগুলো চেনা যায় না। কখনো কখনো টনসিলটি ছোট থাকে, দ্রুত ছড়ায় কিন্তু ঘা থাকে না। বিকিরণ দ্বারা চিকিৎসা করা হলেও সুফল পাওয়া যায় না সহজে।

৫. শ্বাসনালীতে ক্যান্সারঃ

শ্বাসনালীতে ক্যান্সার পুরুষদের বেশি হয়ে থাকে। প্রধান কারণ হলো – অতিরিক্ত ধুমপান, মদ্যপান, বংশগত প্রভাব, শব্দতন্ত্রের উপর চাপ বা পুরোনো শ্বাসনালীর প্রদাহ। প্রধান উপসর্গ হলো গলে বসে যায় এবং তা তিন সপ্তাহের বেশি থাকে। গরম ও লেবুজাতীয় খাবার খেলে গলায় জ্বালা ভাব থাকে। পরে শ্বাসকষ্ট, গলার লসিকাগ্রন্থি ফুলে যায়। এ রোগের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী লেরিঙ্গোগ্রাফি, লেরিঙ্গোস্কোপি, জিরোরেডিওগ্রাফি, টোমোগ্রাফি, বায়োপসি ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়।

৬. থাইরয়েড ক্যান্সারঃ

থাইরয়েড ক্যান্সার সব বয়সেই হয়, বিশেষ করে যাদের গলায় বিকিরণ দেওয়া হয়েছে, তাদের প্রবণতা বেশি। এই ক্যান্সার লসিকাগ্রন্থি ও রক্তের মাধ্যমে হাড়, লিভার এবং ফুসফুসে ছড়ায়। চিকিৎসা না করালে খুব তাড়াতাড়ি হাড়, লিভার ও কিডনিতে ছড়ায়। লক্ষণ গুলো হলো ওজন হ্রাস, ক্ষিদা মন্দা, পাতলা পায়খানা, বিরক্তিভাব ইত্যাদি। এই ক্যান্সারে শল্যচিকিৎসা বা বিকিরণে কোনো সুফল পাওয়া যায় না, চিকিৎসকরা অন্য অনেক পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকেন।

৭. চোখের ক্যান্সারঃ

উভিয়া, রেটিনা বা আইরিসের মেলানোসাইট থেকে মেলানোমা হয়। ৫০ – ৬০ বছরের মানুষের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি থাকে। আইরিসে মেলানোমা হলে প্রায়ই প্রাথমিক ভাবে কোনো লক্ষণ থাকে না। হঠাৎ চোখ পরীক্ষার সময় চিকিৎসকরা চোখের সামনের কক্ষে রক্তপাত লক্ষ্য করেন। আবার কখনও বা বর্ণময় অংশে আকার ও রঙের পরিবর্তন হয়। আইরিসে বর্ণময় মাংসল বা পুরু অংশ দেখা যায়। পার্শ্ববর্তী কোনো কিছু দেখতে অসুবিধা হয়। পরবর্তী পর্যায়ে গ্লুকোমা দেখা যায়। রোগ টা ঠিক কোথায়, তার উপর চিকিৎসা নির্ভর করে। ছোট টিউমার হলে লেজার থেরাপি, ক্রায়ো সার্জারি করা হয়। আর আইরিসে টিউমার হলে আইরিডেকটমি প্রয়োজন।

৮. স্তন ক্যান্সারঃ

মেয়েরা স্তনের ক্যান্সারে বেশি ভুগে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ৩৫ বছরের বেশি বয়সের নারীদের এই ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা বেশি। বংশগত প্রবণতা, দীর্ঘ মাসিক, দেরিতে বাচ্চা গ্রহণ, মনের উপর চাপ ইত্যাদি কারণে স্তন ক্যান্সার হয়ে থাকে। তবে যারা বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়ান তাদের এই ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কম। এ রোগের লক্ষণ হলো স্তনের মুখ চুলকানো, জ্বালাভাব, ঘা, বগলের নিচে বেশি যন্ত্রণা, স্তনের চামড়ার পরিবর্তন, রঙের পরিবর্তন ইত্যাদি। এ রোগের ক্ষেত্রে হাড় স্ক্যান, যকৃতের কার্যকারীতা পরীক্ষা, বায়োপসি করানো প্রয়োজন।

৯. বৃহদন্ত্র-মলাশয় ক্যান্সারঃ

বৃহদন্ত্র – মলাশয় ক্যান্সারের প্রাদুর্ভাব খুবই বেশি। কিন্তু পঞ্চাশ বছরের বেশি সময়ে নারী ও পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা করালে সুফল পাওয়া যায়। মলাশয় ক্যান্সারে প্রথম উপসর্গ হলো পায়খানার অভ্যাসে পরিবর্তন। পায়খানা করার পরও বেগ থাকে,কিন্তু পায়খানা হয় না। চিকিৎসার ক্ষেত্রে অপারেশনের আগে ও পরে বিকিরণ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। 

১০. কিডনি ক্যান্সারঃ

পুরুষদের কিডনি ক্যান্সার নারীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এবং পঞ্চাশ থেকে ষাট বছর বয়সী লোকেদের এই ক্যান্সার হয়ে থাকে। এর লক্ষণ গুলো হলো জ্বর, রক্তচাপ, ওজন হ্রাস, পা ফুলে যাওয়া ইত্যাদি। এক্ষেত্রে লসিকাগ্রন্থি সহ আক্রান্ত কিডনি পুরোপুরি কেটে বাদ দিতে হয়। যেহেতু এই ক্যান্সার বিকিরণ বিমুখ, তাই প্রাথমিক টিউমারের পাশাপাশি লসিকাগ্রন্থিতেও বিকিরণ পদ্ধতি প্রয়োগ করা প্রয়োজন। ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে শল্যচিকিৎসা দ্বারা আর আরোগ্য লাভ সম্ভব নয়। তখন উচ্চশক্তির বিকিরণ প্রয়োগ করা হয়। 

১১. লিভার ক্যান্সারঃ

লিভার ক্যান্সার যদিও বা কম দেখা যায়, কিন্তু তা খুবই মারাত্মক। পুরুষদের ষাট বছরের পর এই রোগ বেশি হয়ে থাকে নারীদের তুলনায়। লিভার ক্যান্সার প্রায় ছয় মাসের মধ্যে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। তবে তার আগে খাদ্যনালী থেকে রক্তপাত, ধীরে ধীরে রুগ্নতা ও দুর্বলতা, যকৃতের কার্যকারীতা বন্ধ হয়ে যায়। যেহেতু অধিকাংশ রোগিঈ শেষ পর্যায়ে এসে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, তাই খুব কম রোগীর ক্ষেত্রেই অপারেশন করা সম্ভব। লিভারের যেহেতু বিকিরণ সহ্য ক্ষমতা কম,তাই এই রোগের শেষ সময়ের যন্ত্রণা উপশম করার জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। ক্যান্সার লিভারে ছড়ালে লিভার আংশিক কেটে বাদ বা ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। তবে তেমন সুফল পাওয়া যায় না।

আর্টিকেল লেখার নিয়ম – বাংলা আর্টিকেল লিখে টাকা ইনকাম করার সেরা ১০ টি নিয়ম

ক্যান্সার হলে কি কি গ্রহণ এবং বাদ দেওয়া উচিৎ তার বিবরণ দেওয়া হলোঃ

  • খাদ্যনালীঃ

খাদ্যনালীর ক্যান্সারের রোগীদের ক্ষেত্রে কম চর্বিযুক্ত খাবার, যেমন – তেল, দুধ, পনির বেশি করে গ্রহণ করা উচিৎ। উচ্চ আশযুক্ত খাবার, যেমন – শাকসবজি, বীন, মটরশুঁটি, চিনাবাদাম, ফল, রুটি ও পর্যাপ্ত আয়োডিন গ্রহণ করতে পারলে শরীরের জন্য ভালো। ভাঁজাপোড়া, চটজলদি ও বাইরের খাবার পরিত্যাগ করতে হবে। 

  • অন্ত্রঃ

অন্ত্রের ক্যান্সার রোগীদের বাজারের প্যাকেটজাত ইন্সট্যান্ট খাবার ও ভাঁজাপোড়া খাবার ত্যাগ করতে হবে। কম কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার, মিষ্টি আলু, আটা, ময়দা, ফল, শাকসবজি, চিনাবাদাম, ভিটামিন এ, বি, সি, ডি, ই, কে ও বিভিন্ন ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার খেতে হবে। রক্তচাপ ও মেদ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। 

  • জরায়ুঃ

জরায়ু ক্যান্সারের রোগীদের কেরোটিনযুক্ত খাবার। যেমন – গাজর, মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলু, পাম তেল, দুধ, পনির, মাংস খাওয়া আবশ্যক। আর উচ্চ আশযুক্ত খাবার, যেমন – শাকসবজি, বীন, কড়াইশুঁটি, চিনাবাদাম, ফল, রুটি এগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

  • থাইরয়েডঃ

থাইরয়েড ক্যান্সার এমন একটি রোগ যা থাইরয়েড গ্রন্থির কলা থেকে বিকশিত হতে থাকে। ফলে কোষ সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং সারা শরীরের ছড়িয়ে যেতে পারে। এসকল রোগীদের তেল, দুধ, পনির, শাকসবজি, বীন মটরশুটি, ফল, রুটি, চিনাবাদাম গ্রহণ করতে হবে। 

  • স্তনঃ

কম চর্বিযুক্ত খাবার, উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার এবং ভিটামিন ই গ্রহণ করতে হবে। এক্স রে থেকে বিরত থাকতে হবে এবং মেদ বৃদ্ধি ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে হবে।

  • পাকস্থলীঃ

মাছ, মাংস, দুধ, শাকসবজি, ফল, রুটি খেতে পারবে। মাদকদ্রব্য ও চটজলদি খাবারের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। 

  • মুখঃ

মুখের ক্যান্সার রোগীদের জন্য সহজপাচ্য প্রোটিন খাদ্য, যেমন – মিষ্টি আলু, চাল, ময়দা, ফল, শস্যখাদ্য, মুরগীর মাংস খাওয়া ভালো। 

  • শ্বাসনালীঃ

সঠিক সহজপাচ্য এবং উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে এবং তামাক, ধুমপান ও মাদকদ্রব্য সেবন বন্ধ করতে হবে।

ক্যান্সার এমন একটি ব্যাধি যা মৃত্যু এনে দেয়। শুধু মৃত্যৃ নয় বরং একটি পরিবারের আর্থিক অবস্থা নড়বড় হয়ে যায়। পৃথিবীতে দিনদিন এর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। চারপাশের পরিস্থিতি লক্ষ্য করলে দেখা যায় ক্যান্সার দিনের পর দিন মারাত্বক রুপ ধারণ করছে। আমাদের দেশে উন্নত চিকিৎসা না থাকার কারণে প্রতিবছর অনেক মানুষ মারা যায়। অতএব, রোগ সৃষ্টির আগে সতর্ক থাকা জরুরি। অন্যথায় সামান্য অসতর্কতা জীবনে যুদ্ধ নিয়ে আসতে পারে।

আশা করি আজকের স্বাস্থ্য বিষয়ক আর্টিকেলটি আপনার ভালো লেগেছে। আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। কথা হবে আবার কোনো নতুন আর্টিকেলে। ধন্যবাদ।

গুগল নিউজে পড়ুন- পাঠক বিডি

যোগ দিন পাঠক ফোরাম কমিউনিটিতে

আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন নতুন বিষয় জানুন, আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং সমমনা পাঠকদের সাথে আলোচনা করুন।

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
Twitter
Email
Print
সাবস্ক্রাইব
নোটিফিকেশন
guest
Ratting
1 মতামত
মতামত
নতুন পুরাতন
Arif Hosen
Arif Hosen
অতিথি
February 7, 2024 8:38 am
Ratting :
     

আল্লাহ সবাইকে এমন মারাত্বক রোগ থেকে মুক্তি দান করুন।

Copyright © 2024 PathokBD.com