ব্যায়াম করার উপকারিতা – ৭ টি উপকারী দিক জেনে নিন

আর্টিকেল এর সূচিপত্র

ব্যায়াম করার উপকারিতা সম্পর্কে জানার কৌতূহল না থাকা এক ধরণের বোকামি বটে। কারণ নিজের দেহ ও মন সুস্থ না থাকলে সবকিছু অচল হয়ে পরে। আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে দুটি বিষয় মেনে চলতে হয়। একটি হলো পুষ্টিকর খাদ্য আরেকটি হলো ব্যায়াম করা। খাদ্য নিয়ে সকলে সচেতন হলেও ব্যায়াম করা নিয়ে সন্দিহান থাকেন। তাই প্রত্যেক মানুষের উচিত নিয়মিত শরীরচর্চা করা। ব্যায়াম না করার ফলে রোগ হবার সম্ভবনা বেড়ে যায়। শরীর চর্চার ফলে মানুষ সুস্থ মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে পারে। মর্নিং এক্সারসাইজ ডিপ্রেশন ও স্ট্রেসের জন্য ওষুধ হিসেবে কাজ করে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের শরীরে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। তাই আমাদের উচিত ব্যায়ামের মাধ্যমে আমাদের শরীর ফিট রাখা। যাতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি। তাই জেনে নিন ব্যায়াম কি? কেন ব্যায়াম করা আমাদের জন্য এতো গুরুত্বপূর্ণ?

ব্যায়াম (Exercise) কি?

ব্যায়াম হলো শারীরিক কার্যক্রম যা শারীরিক সুস্থতা বৃদ্ধি করে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত আন্দোলন করা মূলত ব্যায়াম। কায়িক শ্রম করা ব্যায়ামের মধ্যে অন্তভূক্ত। নিয়মিত ব্যায়াম করার কারণে মাংসপেশী ও সংবহন তন্ত্র সবল হয়। শারীরিক ওজন হ্রাস পায়। এটি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা হতে মুক্তি দেয়। এছাড়াও মানসিক অবসাদ দূর করে, হতাশা মুক্ত রাখে, আত্মমর্যাদা বৃদ্ধিতে, শরীরের সঠিক অনুপাত অর্জন সহ সামগ্রিক মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় শারীরিক ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীরা শরীরচর্চাকে ‘অলৌকিক’ঔষুধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

ব্রণ দূর করার উপায়, ১০ টি কার্যকরি ঘরোয়া পদ্ধতি

এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লেখার নিয়ম – সেরা ১৫ টি টিপস

ব্যায়াত মূলত তিন প্রকার- অ্যারোবিক ব্যায়াম, অ্যানরোবিক ব্যায়াম, ফ্ল্যাক্সিবিলিটি/ স্ট্রেচিং ব্যায়াম। শরীরের ধরন ও প্রয়োজন অনুসারে ব্যায়াম নির্ণয় করতে হয়। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, পুশ আপ ইত্যাদি যা ভালো লাগে তা বেছে নিতে পারেন।

ব্যায়ামের উপকারিতাঃ

দেহ ও মন সুস্থ রাখতে ব্যায়ামের গুরুত্ব অনেক। শারীরিক ব্যায়ামের অনেক উপকারিতা রয়েছে। যা আমাদের অনেকের হয়তো অজানা।  আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ব্যায়াম করার উপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত জানবো। তাহলে চলুন জেনে নেই ব্যায়াম করার ৭টি উপকারিতা।

১) ওজন নিয়ন্ত্রণ করে

সুস্থ থাকার জন্য অতিরিক্ত ওজন ও মেদ ঝরিয়ে ফেলা খুবই প্রয়োজন। সে কারণে শরীরচর্চার বিকল্প নেই। ব্যায়াম করার ফলে শরীরে জমে থাকা বাড়তি ক্যালরি খরচ হয়। শরীরের গঠন হয় সুন্দর এবং আকর্ষনীয়। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম করা ওজন কমাতে সব থেকে বেশী কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। জোরে জোরে হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বাড়তি ক্যালরি পোড়াতে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। এভাবে আমরা ব্যায়ামের মাধ্যমে ক্যালরি খরচ করে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি।

২) শরীর সুস্থ রাখে ও রোগ প্রতিরোধ করে

রোগ আমাদের প্রধান শত্রু। পৃথিবীতে এমন কোন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। যিনি কোন প্রকার রোগে ভোগেন নি। তাই আমাদের সব চেয়ে বড় প্রচেষ্টা হচ্ছে রোগমুক্ত থাকা। আর এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ব্যায়াম। নিয়মিত ব্যায়াম ভালো স্বাস্থ্য ও শারীরিক ফিটনেস নিশ্চিত করে। এটি বড় বড় রোগ। যেমনঃ  ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সার সহ বিভিন্ন রোগ হওয়ার ঝুকি কমায়। শরীরে অক্সিজেন বেড়ে যায়। ব্যায়াম আপনার চেহারার আবেদন বাড়ায়। চেহারার বলি রেখা দূর করে দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়া ঠেকাতে সাহায্য করে। তাই সুস্থ থাকতে ব্যায়ামের বিকল্প নেই।

৩) সহনশক্তি বৃদ্ধি করে

শারীরিকচর্চা মানসিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। ব্যায়াম করার সময় আপনার শরীর শক্তি ব্যয় করে। আপনার শরীর চর্বিযুক্ত বা মোটা হয়ে থাকলে অল্প শারীরিক শ্রমে আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। যখন নিয়মিত ব্যায়াম করবেন, তখন কম ক্লান্তিতেই অধিক কাজ করার ক্ষমতা অর্জন করবেন। কঠিন কাজটিও তখন সহজেই করে ফেলতে পারবেন। ব্যায়াম করার উপকারিতা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সহনশক্তি বৃদ্ধি এটি অন্যতম একটি।

৩) ঘুমের সমস্যা দূর করে

আপনি হয়ত দেখেছেন যে, যখন আপনি ক্লান্ত থাকেন তখন গভীর ও সাউন্ড স্লিপ হয়। তাই ঘুমের সমস্যার জন্য ব্যায়াম অত্যন্ত উপকারি। রাতে ঘুমের সমস্যা অনেকের হয়ে থাকে। রাতে ঘুম না হওয়ার জন্য অনেকে ঘুমের ওষুধ খেয়ে থাকেন। যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। ব্যায়াম অনিদ্রা দূর করে ও অতি নিদ্রা হ্রাস করে। তবে ঘুমানোর আগে ব্যায়াম করা উচিত নয়। কারণ ব্যায়ামের ফলে তাতক্ষনিক ভাবে মানসিক সহনশক্তি বৃদ্ধি পায় যা ঘুম আসতে বিলম্বিত করে। তাই নিয়ম করে নির্দিষ্ট সময় বের করে ব্যায়াম করুন।

৪) শরীর শক্তিশালী করে

শরীরচর্চা শারীরিক সুস্থতা রক্ষা বা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। যার মাংসপেশী যতো সবল সে ততোবেশী শক্তিশালী। আর ব্যায়ামের মাধ্যমে মাংসপেশী সংকোচন হয়ে থাকে এবং মাইয়োকিন নামক রাসায়নিক পদার্থ  শরীরে নিঃসৃত হয়। এটি মাংসপেশীকে সবল করে তোলে। এছাড়া মাইয়োকিন শরীরে নতুন টিস্যু তৈরি করতে এবং টিস্যু মেরামত করে শরীরে শক্তি বজায় রাখে। ব্যায়াম শরীরে নাইট্রাইটের পরিমান বৃদ্ধি করে তা নাইট্রিক অক্সাইডে পরিনত করে। এর ফলে শরীরে কাজ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া শরীর শক্তিশালী করতে ব্যায়ামের পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশগ্রহন করতে পারেন।

৫) মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করে

শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।বর্তমান  সময়ে মানসিক সমস্যা একটি মহামারী রূপ ধারন করেছে। ব্যায়ামের মাধ্যমে রাসায়নিক পদার্থ মস্তিষ্ক থেকে নির্গত হয়। এই সব রাসায়নিক উপাদান মনকে চিত্ত ও প্রফুল্ল করে তোলে। শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি ঘটায়। চেহারায় লাবণ্য ঔজ্জ্বল্যতা বাড়ায়। যিনি নিয়িমিত ব্যায়াম করেন তাকে বিষন্নতা বা হতাশা সহজে গ্রাস করতে পারে না। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করেন, তারা অন্যদের চেয়ে ৫০ শতাংশ কম মানকিস চাপে ভোগেন। শরীরে স্ট্রেস হরমোনের পরিমান কমিয়ে দেয়। ব্যায়াম শরীরকে আরাম দেয় ও ‘ন্যাচারাল ফিল গুড’হরমোন নিঃসৃত করে। যার জন্য মন থাকে সতেজ ও ফুরফুরে।

৬) কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে

আমরা সবাই কর্মক্ষেত্রে দক্ষ হতে চাই। আর তাই আমাদের মন ও শরীরকে প্রস্তুত রাখতে হবে। নিজের শক্তি ও স্বাস্থকে নিয়মে মাঝে আনতে হবে। কাজের দক্ষতা বাড়াতে ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। টানা ৩০ মিনিট ব্যায়াম করার ফলে শরীরে অনেক এনার্জি তৈরি হয়। যার কারণে কাজ করতে আমরা শক্তি পাই। শরীরচর্চার মাধ্যমে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় ফলে শরীর সতেজ হয়।

৭) স্মৃতিশক্তি বাড়ায়

আমাদের মাঝে অনেকেই নাম, ঠিকানা, নাম্বার মনে রাখতে পারেন না। বয়স বাড়ার সাথে দ্রুত জবাব দেওয়ার ক্ষমতা কমতে থাকে ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়। এই সকল সমস্যায় পড়লে নিরাশ না হয়ে ব্যায়াম করা যেতে পারে। আর বয়স বাড়ার সাথে এই ব্যায়াম হয়ে উঠে আরো প্রয়োজনীয়। কারণ, ব্যায়ামের ফলে শরীরের পেশীর সাথে সাথে মস্তিষ্কের আকার বৃদ্ধিও পায়। মস্তিষ্কে সিন্যাপসের সংখ্যা বাড়ে। এই কারণে মস্তিষ্কে নতুন কোষ তৈরি হয়। আর অ্যারোবিক ব্যায়ামের ফলে মগজে বেশী হারে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ সরবারহ হয়। আর খোলা জায়গায় রোদে ব্যায়াম করলে আপনার বাড়তি পাওনা হিসেবে ভিটামিন- ডি পাবেন। গবেষনায় প্রমাণিত হাঁটাচলা করে কোনো জিনিস মুখস্ত করার চেষ্টা করলে তা বহুকাল আপনার মনে থাকবে। আপনার খাবারের ২০% শর্করা আপনার মস্তিষ্কে যায়। মস্তিষ্কের কাজ নির্ভর করে গ্লুকোজের উপর। আর ব্যায়াম শরীরের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে থাকে। তাই স্মৃতিশক্তি বাড়াতে শরীরচর্চা কারুন। স্মৃদি শক্তি বৃদ্ধি ব্যায়াম করার উপকারিতা গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি।

অনলাইন থেকে ইনকাম করার সেরা ১০টি পদ্ধতি

ব্যায়াম করতে হলে আমাদের কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আপনার শরীরের ক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়ামের ধরন বেছে নিয়ে হবে। সেক্ষেত্রে আপনার বয়স ও ওজন দিয়ে সহজেই BMI বের করতে পারেন। ব্যায়াম করার সময় ঢিলেঢালা ও আরাম দায়াক পোষাককে প্রাধান্য দিন। সকাল বেলা শরীরচর্চা সব থেকে উপকারী তাই চেষ্টা করবেন সকালে ব্যায়াম করতে। খাবার গ্রহনের সাথে সাথে শরীরচর্চা করবেন না। কমপক্ষে ১ ঘন্টা অপেক্ষা করুন। স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে নিয়মিত ব্যায়াম করুন, ভালো থাকুন। ধন্যবাদ প্রিয় পাঠক পরিবার।

যোগ দিন পাঠক ফোরাম কমিউনিটিতে

আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন নতুন বিষয় জানুন, আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং সমমনা পাঠকদের সাথে আলোচনা করুন।

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
Twitter
Email
Print
সাবস্ক্রাইব
নোটিফিকেশন
guest
Ratting
1 মতামত
মতামত
নতুন পুরাতন
Kaniz Fatema
Kaniz Fatema
অতিথি
January 15, 2024 8:56 pm
Ratting :
     

Thanks for share

Copyright © 2024 PathokBD.com