বিন্দুর ছেলে গল্পটির লেখক হলেন- বাংলা সাহিত্য জগতের উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক হলেন কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | শরৎচন্দ্র ছিলেন একাধারে যেমন ঔপন্যাসিক, সেই সাথে ছিলেন একজন প্রাবন্ধিক ও গল্পকার | তাঁর বিখ্যাত কিছু উপন্যাস আজও বাঙালী পাঠকদের বিশেষভাবে মন কাড়ে | বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার জন্য তিনি “অপরাজেয় কথাশিল্পী” নামেও বিখ্যাত |
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
সংসারে যত অশান্তিই হোক না কেন, মাতৃত্বের খণ্ডন কখনো সম্ভব নয়। ছেলের খাওয়া-দাওয়া, স্কুলে যাওয়া, খেলতে যাওয়া সবকিছু নিয়েই অন্নপূর্ণার সাথে বিন্দুর প্রায়ই মনোমালিন্য হতে থাকে৷ বিশেষ করে নরেনের সাথে মিশে বখে যাওয়া নিয়েও বিন্দু অন্নপূর্ণার সাথেই রাগারাগি করে। তবুও অন্নপূর্ণা বিন্দুকে ভালোবাসে বলে ছেলেকে তার থেকে সরিয়ে নিজের কাছে নিয়ে যায় না। আবার বিন্দুও জায়ের সাথে মুখ ভার করে রাখলেও ছেলেকে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসে। এখানে তার যে মাতৃস্নেহ ফুটে উঠেছে, তা আমরা অনেকেই নিজের সন্তান ছাড়া অন্য কারোও প্রতি দেখাতে পারি না। কিশোরদের পড়ার মতো উপযোগী একটি বই হলো ‘বিন্দুর ছেলে’। অসাধারণ মাতৃত্ববোধের একটি উজ্জ্বল নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায় এই উপন্যাসটিতে। অসাধারণ একটি অনুভূতি টের পাওয়া যায় বিন্দু আর অমূল্যের ভালোবাসার মধ্যে।
মনে রাখার মতো কিছু লাইনঃ
১. “তোমার রণচণ্ডী মূর্তি দেখলে যার বুকের রক্ত জল না হয়ে যায় সে এখনো মায়ের পেটে আছে! কিন্তু অতো রাগ ভালো নয় ছোটোবউ! এখনো কি ছোটোটি আছিস?”
২. “একটিবার! আজ থেকে চিরকালের জন্যই মাপ করলুম। আর বলব না। আর কথা কব না। সে যে এমনি করে চোখের সামনে একটু একটু করে উচ্ছন্নে যাবে, তা সইতে পারব না – তার চেয়ে একেবারে যাক। ”
৩. “মাধব বলিল, বেশ তো, অন্তত যাও বৌঠানের কাছে। যাতে তার রাগ পড়ে, তিনি প্রসন্ন হন, তাই কর। আমার পা ধরে সমস্ত দিন বসে থাকলেও উপায় হবে না।”
৪. “বিন্দু মুখ ফিরাইয়া বলিল, দাও দিদি কি খেতে দেবে। আর অমূল্যকে আমার কাছে শুইয়ে দিয়ে তোমরা সবাই বাইরে গিয়ে বিশ্রাম কর গে। আর ভয় নেই – আমি মরব না।”
গল্প থেকে শিক্ষাঃ
১. অতিরিক্ত রাগের বশে মানুষ নিজের ক্ষতি করে ফেলে। তাই যে কোনো কাজে ধৈর্য্যধারণ করা শিখতে হবে। অন্নপূর্ণা ধৈর্য্যধারণ করতে পেরেছিল বলেই তাদের সংসার টিকেছিল।
সানট্যান কি? এর প্রভাব ও দূর করার কার্যকরী সব উপায় |
২. অন্যের সন্তানকে নিজেরই সন্তানতুল্য মনে করা। অমূল্যকে বিন্দু নিজের ছেলের মতো করেই মানুষ করেছিল। তাকে ঘিরেই সে বেঁচে ছিল, যা সবাই পারে না। নরেনের সাথে মিশে অমূল্য খারাপ পথে পা বাড়াবে বলে বিন্দু বেশ উদ্বিগ্ন ছিল।
গল্পটি কারা এবং কেন পড়বেনঃ
কিশোর – কিশোরীরা যারা মাত্র বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছে, তাদের জন্য অবশ্যই এটি সময়োপযোগী বই। এছাড়া বড়রাও এই বইটি পড়লে বেশ ভালো লাগবে আশা করি। সকলেরই মনে নাড়া দেওয়ার মতো বই এটি। তবে সাধু ভাষার বই বলে ছোটরা হয়তো বইটি পড়ে তেমন বুঝে উঠতে পারবে না।
রিভিউ শেয়ার করতে পারেন আপনার ব্যবহৃত সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে। এ ধরনের বিভিন্ন রিভিউ পেতে প্রতিদিন আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। পাঠক বিডির পাঠক হয়ে সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।