ফিটনেস বা সক্ষমতা হলো শারীরিকভাবে কাজকর্ম করার যে সামর্থ্য বা সক্ষমতা। সুতরাং আমাদের দৈহিক কাজের ভিন্নতা অনুসারে শারীরিক সক্ষমতা বিভিন্নরুপ। যার ফলে দৈনন্দিন জীবনের হাঁটা-চলা, বসা ও অন্যান্য কাজের জন্য শারীরিক সক্ষমতা এবং একজন প্লেয়ারের শারীরিক সক্ষমতা সমান নয়। তাই কাজের ধরনের উপর শারীরিক সক্ষমতার ধরনও ভিন্ন হয়।
ফিটনেস কি?
ফিজিক্যাল ফিটনেস বা শারীরিক সক্ষমতা বলতে আমরা বুঝি কোনো কাজ করার জন্য শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতাকে। যা শরীর ও মন ভালো রাখার একটি অবস্থা। এটি হলো মূলত কায়িক পরিশ্রম করার ক্ষমতা। যা পুষ্টিকর খাদ্য, নিয়মিত ঘুম এবং আরো কিছু কাজের মাধ্যমে আয়ত্ত করা সম্ভব।
শরীর ও মন ভালো রাখার এবং ফিটনেস বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাঃ
দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত আমরা বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকি। এসকল কাজ হতে পারে আমাদের পেশাগত কারণে, শখের বশে কিংবা অন্য যে কোনো কারণে। যে কারণেই হোক না কেন, সুষ্ঠুভাবে যে কোনো কাজ করার জন্য আমাদের প্রয়োজন সুস্থ শরীর এবং সুন্দর মন। প্রবাদে আছে “সুস্থ শরীর ও সুন্দর মন”। শরীর ও মনকে একে অপরের পরিপূরক বলা যেতে পারে। শরীর সুস্থ না থাকলে যেমন মন ভালো থাকে না। তেমনি মন ভালো না থাকলেও শরীর চলে না। এভাবেই চলতে থাকলে কোনো কাজে মন বসে না। জীবনে আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায় না।
- আসল Vidmate Apk Download করুন খুব সহজেই
- ছাত্রজীবনে ইনকাম করার সহজ ১০ টি উপায়
- এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লেখার নিয়ম – সেরা ১৫ টি টিপস
- সহজে ইংরেজি শেখার সেরা ১০টি উপায়
- আবেদন পত্র লেখার নিয়ম । দরখাস্ত লেখার নিয়ম ২০২৪
এজন্য শারীরিক ও মানসিক ক্ষেত্রে ফিটনেস অত্যন্ত জরুরি। শারীরিক সক্ষমতা বা সুস্থতা গড়ে তুলতে অনেক সময় লাগে। ফিটনেস বজায় রাখা কোনো সহজ বিষয় নয়। এর জন্য চর্চা চালিয়ে যেতে হয় প্রতিদিন। মাঝে মধ্যে অনিয়ম হলেই ফিটনেস ধরে রাখতে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। সুতরাং ফিটনেস বজায় রাখার নিয়মিত চর্চা জরুরী। অন্যথায় ফিটনেস ঠিক রাখা সম্ভব হবে না। যেহেতু শরীর ও মন ভালো রাখার জন্য ফিটনেসের গুরুত্ব অপরিশীম। তাই আমাদের উচিত ফিটনেসের প্রতি গুরুত্বারোপ করা।
কিভাবে আমরা ফিটনেস বজায় রাখতে পারবোঃ
কিছু কার্যক্রম আছে, যা প্রতিদিন একইভাবে চর্চা করতে থাকলে ফিটনেস বজায় রাখা সম্ভব। শুধু শারীরিক যত্নই নয়, এর পাশাপাশি আমাদের মনের যত্ন নেওয়াও বাঞ্চনীয়। যে সকল উপায় অবলম্বন করে আপনিও নিজের প্রতিটি দিন করে তুলতে পারেন সুন্দর এবং নিজেকে রাখতে পারেন সুস্থ। অতএব ফিটনেস বজায় রাখতে আমাদের কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। যা আমাদের ফিটনেসকে সতেজ রাখবে। ফিটনেস বজায় রাখার জন্য দশটি সেরা ও কার্যকরী নিয়ম নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ
১। সঠিক সময়ে সঠিক খাবার গ্রহণঃ
বর্তমান শহুরে জীবনে আমরা নিজেরাই অজান্তে বড় একটা ভুল করে ফেলি খাবারের সময় নিয়ে। সকালে দেরি করে ঘুম থেকে উঠার কারণে অনেকেই সকালের নাস্তাটা ঠিকঠাক মতো করে না। যা আমাদের শরীরকে অনেকটা দূর্বল করে দেয়। অথচ শরীর সুস্থ রাখতে হলে সারাদিনের খাবারের মধ্যে সকালের নাস্তা সবচেয়ে ভারী হওয়া উচিত। খাবার হজম হওয়ার জন্য পাচনতন্ত্রের (digestive system) বা পৌষ্টিকতন্ত্রের প্রায় চার ঘন্টার মতো সময় লাগে। তাই সকালের খাবার যদি খাওয়া হয় আটটায়। তাহলে দুপুরের খাবার খেতে হবে বেলা বারোটা থেকে একটার মধ্যে। আর রাতের খাবার রাত সাতটা থেকে আটটার মধ্যে খাওয়া উচিত। অর্থাৎ ঘুমাতে যাওয়ার আনুমানিক দুই ঘন্টা আগে। এতে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে। এ অভ্যাস এক মাসের জন্য আয়ত্ত করতে পারলে বেশ ভালো উপকার হবে।
২। সঠিক সময়ের মধ্যে ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলাঃ
যান্ত্রিক জীবনে আমরা ঘুমাতে যাই রাত বারোটার পরে। ফলে ঘুম থেকে উঠা হয় অনেক দেরিতে। যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এভাবে অলস জীবন যাপন করতে থাকলে কোনো কাজ’ই আনন্দ নিয়ে করা যায় না। বিজ্ঞানের গবেষণা অনুযায়ী রাতে যত দ্রুত ঘুমানো ও সকালে যত তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠা সম্ভব। ততই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। ঠিকমতো ঘুম না হলে মাথাব্যথা, চোখের সমস্যা সহ অনেক জটিল রোগ প্রকাশ পায়। এজন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ছয় থেকে আট ঘন্টা ঘুমানো আবশ্যক। আর ঘুমানোর জন্য অবশ্যই অন্ধকার আর নিরিবিলি পরিবেশ বেছে নিতে হবে। বিশেষ করে সাউন্ড স্লিপ (এক কথায় আরামদায়ক এবং ঘুমের পরিপূর্ণ তৃপ্তি) খুব গুরুত্বপূর্ণ।
৩। নিয়মিত পানি পান করাঃ
আমরা জানি পানির অপর নাম জীবন। সারাদিন আপনি যতই হেলদি লাইফ পরিচালনা করুন না কেন, নিয়মিত পানি পান না করলে আপনার সকল চেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। শরীর সুস্থ রাখতে পানি অপরিহার্য। প্রতিদিন কমপক্ষে তিন লিটার পানি পান করা আবশ্যক। তা না হলে আপনি ডিহাইড্রেশনে ভুগতে পারেন। প্রতিদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করুন। এসিডিটি সমস্যা থাকলে এ পদ্ধতি খুব ভালো কাজে দিবে। দৈনন্দিন খাওয়া – দাওয়ার সময় পানি না খেয়ে। খাওয়া শেষ করার পনেরো থেকে বিশ মিনিট পর পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। প্রতিদিন আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করলে শরীর সতেজ থাকবে। সহজে রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। পানি আমাদের শরীরে অনেকটা প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে থাকে।
৪। নিয়মিত শরীর চর্চা করাঃ
শরীর সুস্থ – সবল রাখার জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ ও পরিমিত ঘুমের পাশাপাশি শারীরিক ব্যায়াম এবং শরীর চর্চাও করা প্রয়োজন। যেমন – হাঁটা, দৌঁড়ানো, সাঁতার, সাইকেলিং, বুক ডন, পুশ আপ সহ আরোও নানান কার্যক্রম। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে সহজ ব্যায়াম হচ্ছে হাঁটা। প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘন্টা হাঁটলে শরীর সুস্থ থাকে, ওজন কমে, ক্লান্তি ও একঘেয়েমি কমে আসে। ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকি কমে এবং আরও অনেক রোগের উপশম ঘটে। এছাড়া সবচাইতে কার্যকরী ব্যায়াম হচ্ছে সাঁতার। এক্ষেত্রে হাত ও পায়ের উভয়েরই পেশির সঞ্চালন ঘটে। তাছাড়া সম্ভব হলে ব্যায়ামাগারে গিয়ে ট্রেইনারের নির্দেশমতো ব্যায়াম করলে শরীর ভালো থাকে। ক্ষুদা বাড়ে এবং ভালো ঘুম হয়।
৫। পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহণঃ
সারাদিন কর্মব্যস্ততার পর পর্যাপ্ত ঘুম আবশ্যক। এছাড়াও কাজের ফাঁকে ফাঁকেও বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। অনেকক্ষণ একটানা বসে যাদের কাজ করতে হয়। তাদের কাজের ফাঁকে দশ থেকে পনেরো মিনিটের একটি ছোট বিরতি নিয়ে হাঁটাচলা করা প্রয়োজন। এতে করে কোমর, ঘাড়, কাঁধ ও মাথার যন্ত্রণা হওয়ার সম্ভাবনা কমে আসবে। সমস্ত কাজের শেষে নিজের জন্যও একটু ব্যক্তিগত সময় বের করা প্রয়োজন। এ সময় টুকুতে আপনি বই পড়তে পারেন, গান শুনতে পারেন। এছাড়াও আপনি আপনার পরিবারকে সময় দিতে পারেন, বন্ধু – বান্ধবদের সাথে আড্ডা দিতে পারেন। এতে করে দেহ ও মন প্রফুল্ল থাকবে।
৬। ধুমপান ও অ্যালকোহল হতে বিরত থাকুনঃ
অকালে জীবন নষ্ট করতে না চাইলে ধুমপান, মাদক ও বিভিন্ন ধরনের অ্যালকোহল নেওয়া হতে বিরত থাকুন। এসবের প্রতি আসক্ত হলে ধীরে ধীরে আপনার স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস নষ্ট হয়ে যাবে। স্মৃতিশক্তি কমতে থাকবে। মস্তিষ্ক ও শ্বাসযন্ত্রের ক্ষমতা কমে আসবে, শরীরের সূক্ষ্ম অনুভূতি হ্রাস পাবে। হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন। ফুসফুস, বৃক্ক ও লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই এসব বদভ্যাস থাকলে এক্ষুনি তা ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন এবং সুস্থ – সুন্দর জীবন যাপন করুন। অ্যালকোহল জাতীয় কোনো খাবারই গ্রহন করা উচিত নয়। যা নিশ্চিত মৃত্যু ডেকে আনে তা থেকে দূরে থাকা বাঞ্চনীয়।
- গৃহ সজ্জা – গৃহের অভ্যন্তরীণ সজ্জার ৯টি সহজ উপায়
- বিন্দুর ছেলে গল্পের রিভিউ – লেখকঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লেখার নিয়ম – সেরা ১৫ টি টিপস
- সহজে ইংরেজি শেখার সেরা ১০টি উপায়
- আবেদন পত্র লেখার নিয়ম । দরখাস্ত লেখার নিয়ম ২০২৪
৭। অতিরিক্ত চা-কফি, মিষ্টি পরিত্যাগ করুনঃ
প্রতিদিন সকালে বা বিকালে নাস্তায় চা – কফি খাওয়া যায়। তবে তা যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়ে যায়। চা- কফিতে থাকা অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত চা-কফি খেলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। কারণ আমরা প্রায় সময় রাত জাগতে কিংবা পড়ার টেবিলে চা রাখি ঘুম তাড়ানোর জন্য। যাতে সহজে ঘুম না আসে এবং বেশি সময় জেগে থাকতে পারি। বিশেষ করে মিষ্টি খেলে জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। আর অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে শরীরের ওজন বাড়ে। এছাড়াও আরও নানা রোগ ব্যাধি শরীরে বাসা বাধে। তার মধ্যে কৃমির যন্ত্রনা একটি মহারোগ। যা থেকে শুরু না ধরণের রোগ।
৮। ভ্রমণের জন্য বেরিয়ে পড়ুনঃ
হাজারো কাজের মধ্যেও বছরে দুই-একবার দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়া যায়। পরিবারের সাথে বা বন্ধুদের সাথে অথবা নিজে একাই মন ও মস্তিষ্কের স্বস্তির জন্য বেরিয়ে পড়ুন। জীবনের প্রতি অনীহা ও একঘেয়েমি কেটে যাবে। যদি প্রতিমাসেই এক – দু’বার সম্ভব হয়, কাছেই কোথাও ঘুরতে বের হন। ফিরে এসে কাজে যোগ দিন। দেখবেন সারা মাসের বিরক্তি চলে যাবে। নতুন স্পৃহা নিয়ে কাজে মনোনিবেশ করতে পারবেন।
৯। বছরে একবার ডাক্তারের কাছে রুটিন চেক আপঃ
বাইরের দেশে সকলেই প্রায় স্বাস্থ্য সচেতন। তারা বছরে অন্তত একবার নিয়মিত সারা শরীরের চেক আপ করায়। অনেক দেশের সরকার কর্তৃক চিঠি পাঠানো হয়। সে দেশের সকল নাগরিকদের বাসায়, যেন তারা চোখ, মাথা, ঘাড়, বুক, পিঠ, ব্রেস্ট, কোমর, হাত, পা, ক্যান্সার, টিউমার সকল ধরনের পরীক্ষা করিয়ে নেয়। ফলে তাদের কোনো অসুখ ধরা পড়লেও দ্রুত চিকিৎসা করা শুরু করা সম্ভব হয়। এতে করে অনেক মানুষ মরণের ফাঁদে পা বাড়ানো থেকে বিরত থাকে। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ এসব বিষয়ে একেবারেই উদাসীন। তাদের শরীরে ভয়ংকর রোগ বাসা বাধলেও তারা সহজে ডাক্তারের কাছে যেতে চায় না। ফলে রোগটি অনেক গুরুতর হয়ে পড়ে এবং প্রাণনাশও হতে পারে। এজন্য বছরে একবার আপনার উচিত নিজ দায়িত্বে আপনার ‘ফুল বডি চেক আপ’ করানো।
১০. নিজের জন্য সময় বের করুনঃ
অন্যান্য সকল দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি নিজের জীবনের কথাও একটু ভাবুন। নিজের শরীরের যত্ন নিন, মনের যত্ন নিন। বলা হয়ে থাকে “স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল”। শরীর সুস্থ না থাকলে কোনো ভালো কিছুই সম্ভব হবে না। যেহেতু শরীর ও মন একে অপরের পরিপূরক তাই শরীর ও মনের যত্ন নিন। স্বাস্থ্য ঠিক থাকলে শরীর ঠিক। আর শরীর ঠিক থাকলে মনও ভালো থাকে।
আজকের আর্টিকেলে আলোচিত ১০টি উপায় অবলম্বন করার মাধ্যমে আপনার ফিটনেসকে ঠিক রাখুন। ফিটনেস ঠিক থাকার মাধ্যমে ঠিক থাকবে দেহ ও মন। পাঠক বিডি’র সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। আবার দেখা হবে নতুন কোনো আর্টিকেলে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
মোটা হতে চাই, টিপস বলেন।
বট