গৃহ সজ্জা – গৃহের অভ্যন্তরীণ সজ্জার ৯টি সহজ উপায়

আর্টিকেল এর সূচিপত্র

গৃহ সজ্জা সৃজনশীলতারই একটি বহিঃপ্রকাশ। কোনো বই পড়ে, মুখস্থ করে বা পুঁথিগত বিদ্যাকে কাজে লাগিয়ে ঘর সাজানো যায় না। এর জন্য দরকার রুচিশীলতা, বুদ্ধিমত্তা, সৃজনশীলতা। গৃহসজ্জার মাধ্যমে মানুষের রুচিবোধ প্রকাশ পায়।

গৃহ সজ্জা কী?

ঘর বা গৃহ সজ্জা বলতে বোঝায় ঘরের আসবাবপত্র, ছোট – বড় বিভিন্ন জিনিসপত্র সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে দৃষ্টিনন্দন করে তোলা। অনেকেই ভাবেন ঘর বড় হলেই কেবল সুন্দর করে সাজানো সম্ভব। ছোট ঘরে নাকি জিনিসপত্র সাজালে সুন্দর লাগে না। কিন্তু এ ধারণা একেবারেই ভুল। সুন্দর রুচির অধিকারী হলে যেকোনো আকারের ঘরকেই পরিপাটি করে রাখা সম্ভব। আবার আরেকটি ভ্রান্ত ধারণাও আছে। ঘর সাজানোর জন্য অনেকে ভাবে নতুন অনেক জিনিস কিনে আনতে হবে। তার জন্য অনেক টাকা খরচ হবে। বস্তুত, নতুন জিনিস দিয়ে ঘর সাজালে ঘরে নতুনত্ব আসবে ঠিকই, ঘর অবশ্যই সুন্দর দেখাবে। কিন্তু এর কোনো আবশ্যকতা নেই। ঘরে বিদ্যমান আসবাবপত্র দিয়েও ঘর সুন্দর করে সাজানো সম্ভব।

গৃহের অভ্যন্তরীণ সজ্জাঃ

একক পরিবার হোক কিংবা যৌথ পরিবার। ঘরের ভেতরকার অবস্থা নমনীয় হতে হয়। ঘরের ভেতরে পরিপাটি ও সুন্দর করে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিস গুছিয়ে রাখার কিছু নিয়ম আছে। যা আমাদের মনে প্রশান্তি এনে দেয়। আজকাল সরকার কর্তৃক ‘হোম ডেকোরেশন ‘ বা ‘ইন্টেরিয়র ডিজাইন’ নিয়ে অনেক কোর্সও চালু হয়েছে। যেখান থেকে গৃহের অভ্যন্তরীণ সাজ নিয়ে মানুষ ধারণা পেতে পারে। ঘরের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা হবে এমন, যেন যে কেউ প্রথমবার ঘরে এলে তার নজর কাড়ে। ঘরে বসবাসকারী মানুষেরও ঘর দেখলে যেন চোখ জুড়িয়ে যায়। সারাদিন অফিস করে ঘরে ঢুকলেই যেন চোখে প্রশান্তি লাগে।

 

ঘরকে আরোও সুন্দর ও রাঙিয়ে রাখা এবং দৃষ্টিনন্দন দেখাবার জন্য বিবরণ সহ দশটি টিপস নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ

১. সঠিক ঘরের জন্য সঠিক আসবাবপত্র বাছাইকরণঃ

আগে একসময় ছিল, এক ঘরে ঠাসাঠাসি করে যত বেশি আসবাবপত্র রাখা হতো, তত বেশি রুচির বহিঃপ্রকাশ ঘটতো। কিন্তু এখন দিন পাল্টেছে। ঘর সাজানোর জন্য আসবাবপত্র বাছাই করা অন্যতম প্রধান কাজ। বিশেষ করে ছোট ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে একটু বাড়তি খেয়াল রাখতে হয়। অনেক বেশি ভারী আসবাবপত্র দিয়ে ছোট ঘর সাজানো যাবে না। এতে দমবন্ধ লাগবে। এখন এমন এক ধরনের বেড পাওয়া যায়, যেটাকে প্রয়োজন অনুযায়ী ভাজ করে সোফা হিসেবে ব্যবহার করা যায়। মেহমান আসলে ব্যবহার করার জন্য বেডকাম সোফা রাখা যেতে পারে। আবার ঘরের জায়গা বাঁচানোর জন্য অনেকেই দেয়ালের সাথে ফিক্সড করা আলমারি, শোকেস ব্যবহার করেন।

২. দেয়াল রঙ করাঃ

গৃহ সজ্জার একটি অন্যতম বিষয় হলো দেয়ালের রঙ বাছাইকরণ। ঘরের অভ্যন্তরীণ সজ্জার জন্য সঠিক রঙ বাছাই করা জানতে হবে। সব রঙে মানুষের মনে প্রশান্তি আসবে না। কিছু রঙে মেজাজও খিটখিটে হতে পারে। এজন্য কালার সাইকোলজি বুঝতে হবে। ঘর বড় হলে যেকোনো রঙেই মানিয়ে যায়। ডার্ক কালার বেশি ফুটে ওঠে। তবে যদি সিলিং এর রঙ গাঢ় হয়, সেক্ষেত্রে দেয়ালের রঙ হালকা হতে হবে। আবার ছোট ঘরের দেয়ালের রঙ হতে হয় হালকা। যেমন – হলুদ, টিয়া, লাইট পিংক। কুল টোন আর ওয়ার্ম টোনের মধ্যে তফাত বুঝতে হবে। গাঢ় নীল, সবুজ, বেগুনী এই রঙ গুলো হলো কুল টোন, এগুলো মনে প্রশান্তি দেয়। আর যে রঙ গুলো দেখলে মনে উষ্ণতা তৈরি হয়, সেগুলো হলো ওয়ার্ম কালার। যেমন – ডার্ক অরেঞ্জ। তাছাড়া রঙ বাছাই না করতে পারলে সাদা হলেও সুন্দর লাগে। সাদা দেয়ালে যেকোনো আসবাবপত্রই সুন্দর মানায়।

৩. আলো প্রবেশঃ

গৃহ সজ্জা এর অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলো। ঘরে আলো যেন সর্বোচ্চ পরিমাণে থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। বাইরে থেকে পর্যাপ্ত আলো প্রবেশের ব্যবস্থা করতে হবে। তা সম্ভব না হলে কৃত্রিম আলোর বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ঘরে এস্থেটিক ডিজাইনের ল্যাম্প, কালারফুল মোমবাতি রাখা যায়। এগুলো ঘরের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

৪. ঘরের দেয়াল সাজানোঃ

দেয়ালকে রাঙানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ভাবে সাজিয়েও ঘরের সৌন্দর্য্যবর্ধিত করা যায়। বাহারি ডিজাইনের আয়না দিয়ে দেয়ালের সৌন্দর্য্য বাড়ানো সম্ভব। ফ্যামিলি ফটো, প্রাকৃতিক দৃশ্য বা অন্যান্য যে কোনো ধরনের ছবি বা ফটোফ্রেম লাগিয়ে ঘর সাজানো যায়। এছাড়া দেয়ালে এখন অনেকেই হ্যান্ডপেইন্ট করে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করে। হ্যান্ডপেইন্ট করতে না পারলে বাজারে স্টিকার কিনতে পাওয়া যায়। আজকাল অনেক অনলাইন পেজেও এসব বিক্রি করে।

৫. বিছানা ও পর্দাঃ

ঘর বড় হলে মাঝখানে বিছানা রাখা যেতে পারে, যেন বিছানার দু’পাশে হাটাচলা করা যায়। আবার আসবাবপত্রও রাখা যায়। আর ঘর ছোট হলে দেয়াল ঘেঁষে বিছানা রাখুন। এতে ঘরের অনেক জায়গা বেঁচে যাবে। বড় বিছানার ক্ষেত্রে গাঢ় রঙের এবং ফুল বা বেশি ডিজাইন আছে এমন বেডশিট ব্যবহার করলে দেখতে সুন্দর লাগে। আর বিছানা বড় না হলে কম ডিজাইন এবং লাইট কালারের বেডশিট ব্যবহার করলে ভালো দেখাবে। আর বেডশিটের সাথে মিল রেখে পর্দা লাগালে দেখতে সুন্দর লাগবে।

৬. ঘরের মেঝেঃ

পায়ের ময়লা যেন ঘরে বা বিছানায় না আসে তার জন্য আমরা পাপোশ ব্যবহার করি। এই পাপোশ গুলো রঙিন ও আধুনিক হলে ঘরের শোভা বৃদ্ধি পায়। ঘরের ড্রয়িং রুমে মাঝখানে বড় ম্যাট বিছালে ময়লাও কম হয় হয়, দেখতেও বেশ সুন্দর লাগে। আবার ঘরের ব্যালকনি বড় হলে ব্যালকনিতে অথবা ঘরের ভেতর বড় জানালার পাশে মাঝারি আকারের ঘাস বা ফুলের মতো দেখতে ডিজাইনের ম্যাট বিছিয়ে কিছু কুশন সাজিয়ে রাখলেও বেশ সুন্দর লাগে।

৭. বই দিয়ে সাজিয়ে তুলুনঃ

আপনি যদি বইপ্রেমী হয়ে থাকেন তাহলে, এভাবে ট্রাই করে দেখতে পারেন। আপনার পছন্দের বই দিয়ে ঘর সাজাতে পারেন। বাসায় যদি অনেক গুলো ঘর থাকে, তাহলে শুধু একটি ঘর বই পড়ার জন্য রাখতে পারেন। এ ঘরেই প্রয়োজন বুঝে চেয়ার, টেবিল, বই রাখার জন্য বুক শেলফ, আলমারি রাখতে পারেন। আর যদি ঘর ছোট হয়ে থাকে, তবে দেয়ালের খালি অংশে ছোট ছোট কয়েকটি তাক বা শেলফ লাগিয়ে কয়েকটি বই পরস্পর সাজিয়ে রাখতে পারেন। আপনার যদি বই পড়ার অভ্যাস নাও থাকে তবুও ঘরের শোভা বাড়াতে এই টিপস্ টি অনুসরণ করুন।

৮. মানি প্ল্যান্টঃ

আপনি যদি প্রকৃতিপ্রেমী হয়ে থাকেন, তাহলে এই পয়েন্টটি আপনার জন্য। ঘরের এক কোণায় টবসহ লম্বা কিন্তু কম ডালপালা সহ গাছ রাখতে পারেন। এছাড়া দেয়ালে শেলফ লাগিয়ে তাকে কয়েক প্রকারের ছোট ছোট প্ল্যান্ট লাগালে ঘরের সৌন্দর্য্য আরোও বেড়ে যাবে। আবার কাচের পাত্রে আপনি নিজেই মাটি, ফুল, ছোট দু’একটা গাছ, লতাপাতা নিয়ে বাগানের মতো তৈরি করতে পারবেন। বাইরের দেশের মানুষ ঘর সাজাতে এই টেরারিয়াম গুলো ইদানিং খুব ব্যবহার করছে।

৯. হুপ আর্টঃ

আজকাল অনেকেই সুঁই সুতা দিয়ে নান্দনিক কারুকাজ ফুটিয়ে তুলছে। এমব্রয়ডারি করা এই হুপ আর্ট গুলোতে মনের মাধুরি মিশিয়ে ঘরের শোভা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। জন্মতারিখ, বিবাহ বার্ষিকীর তারিখ দিয়ে হুপ ডিজাইন করা যায়। বিশেষ কোনো লাইন, কথা, সূরা বা আয়াত দিয়ে হুপ আর্ট করা যায়। ইদানীং সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজে এমব্রয়ডারি হুপ আর্ট গুলো বেশ জনপ্রিয়।

আবেদন পত্র লেখার নিয়ম । দরখাস্ত লেখার নিয়ম ২০২৪

আশাকরি উপরের ৯টি উপায় আপনার গৃহের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করুন বহুগুন। আমাদের প্রশান্তির জায়গা আমাদের নিজের গৃহ বা ঘর। যদি সেই ঘরের মধ্যে আমরা প্রশান্তি বা আরাম খুঁজে না পাই। তাহলে আমরা অনেকটা ব্যথিত হই। তাছাড়াও যখন কোনো মানুষ আমাদের গৃহে প্রবেশ করে তখন লজ্জিতবোধ করি। সুতরাং গৃহ সজ্জা নিয়ে আজকের টিউটোরিয়াল আপনাদের বেশ উপকারে দিবে।

ভালো লাগলে আর্টিকেলটি শেয়ার করতে পারেন আপনার ব্যবহৃত সোশ্যাল মিডিয়াতে। এই ধরনের বিভিন্ন তথ্য পেতে প্রতিদিন আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। পাঠক বিডির পাঠক হয়ে সাথে’ই থাকুন। ধন্যবাদ আপনাকে।

গুগল নিউজে পড়ুন- পাঠক বিডি

যোগ দিন পাঠক ফোরাম কমিউনিটিতে

আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন নতুন বিষয় জানুন, আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং সমমনা পাঠকদের সাথে আলোচনা করুন।

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
Twitter
Email
Print
সাবস্ক্রাইব
নোটিফিকেশন
guest
Ratting
1 মতামত
মতামত
নতুন পুরাতন
লাবনী আক্তার
লাবনী আক্তার
অতিথি
January 23, 2024 8:48 pm
Ratting :
     

sundhor bolcen

Copyright © 2024 PathokBD.com