ডাক ব্যবস্থা । প্রাচীন বাংলার ডাক ব্যবস্থা নিয়ে অজানা ও চাঞ্চল্যকর ২৫টি তথ্য

আর্টিকেল এর সূচিপত্র

ডাক ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের জানার কৌতুহল বেশ পুরনো। অনেক যুগ আগে থেকেই দূরের মানুষের সাথে যোগাযোগ সম্ভবপর হয়ে আসছে চিঠির মাধ্যমে। আর সেই চিঠির ব্যবহারের জন্য বাড়িতে বাড়িতে দেখা মিলতো লেটার বক্সের, যা এখন বিলুপ্তপ্রায়। চিঠির প্রচলনের আগে মানুষ পায়ে হেঁটে, পায়রার মাধ্যমে, হাতি, ঘোড়া ও উটের মাধ্যমে, ঢোল পিটানো সহ আরোও নানা পন্থায় খবর সরবরাহ করা হতো। যার বেশিরভাগই আমাদের অজানা। তাই আজকের আর্টিকেলে আমরা ডাক কি এবং প্রাচীন ডাক ব্যবস্থা সম্পর্কে জানবো।

ডাকঃ

ডাক বলতে বোঝায় এমন এক ধরনের পরিবহন ব্যবস্থা। যাতে নিজে সরাসরি উপস্থিত না হয়েও পোস্ট কার্ড, চিঠি ও পার্সেল পরিবহন করা সম্ভব। এটি কোনো না কোনো সরকারি, আধা সরকারি বা বেসরকারি যে কোনোটির’ই আওতাভুক্ত হতে পারে।

প্রযুক্তির যুগে ডাক ব্যবস্থাঃ

বর্তমান যুগে ডাক ব্যবস্থা তো প্রায় উঠেই গিয়েছে। কেউ আর এখন আগের মতো স্ট্যাম্প সংগ্রহ করে না। পোস্ট অফিসে গিয়ে চিঠি জমা দেয় না। কেউ আর দিনের পর দিন আপনজনের চিঠির জন্য অপেক্ষাও করে না। কারণ এখন প্রযুক্তির যুগে এক মুহূর্তের মধ্যেই অপরজনের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব। আমরা আশি – নব্বইয়ের দশকে যে রকম ডাক ব্যবস্থা দেখেছি, প্রাচীন যুগে তার চিত্র ছিল পুরাই ভিন্ন। তখন না ছিল পোস্ট অফিস, না ছিল চিঠি আদান প্রদান। ভিন্ন উপায়ে তারা খবর সরবরাহ করতো।

অনেক যুগ আগে থেকেই দূরের মানুষের সাথে যোগাযোগ সম্ভবপর হয়ে আসছে চিঠির মাধ্যমে। আর সেই চিঠির ব্যবহারের জন্য বাড়িতে বাড়িতে দেখা মিলতো লেটার বক্সের, যা এখন বিলুপ্তপ্রায়। চিঠির প্রচলনের আগে মানুষ পায়ে হেঁটে, পায়রার মাধ্যমে, হাতি, ঘোড়া ও উটের মাধ্যমে, ঢোল পিটানো সহ আরোও নানা পন্থায় খবর সরবরাহ করা হতো। যার বেশিরভাগই আমাদের অজানা। প্রাচীন বাংলায় যেভাবে খবর আদান-প্রদান করা হতো তা আমাদের অনেকেরই অজানা। সেই বিষয় নিম্নে বিবরণ দেওয়া হলোঃ

ডাক ব্যবস্থা নিয়ে ২৫টি তথ্যঃ

১. কুরআন শরীফের সূরা হুদ এ বর্ণিত আছে যে, হজরত সুলায়মান (আঃ) হুদ পাখির মাধ্যমে রানী বিলকিসকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন ইসলাম কবুল করার জন্য। প্রাচীন লিখিত তথ্য হিসেবে এটিই ডাক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রথম উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়।

২. চীনে প্রাথমিক ভাবে বাঁশ বা কাঠের পাতলা পাতের উপর সংবাদ বা নির্দেশ লেখা হতো। পরবর্তীতে রেশমের প্রচলনের সাথে সাথে রেশমের কাপড়ের উপর সংবাদ লিখা হতো। চীনে কাগজ আবিষ্কারের পর থেকে শিক্ষার ব্যাপকতা লাভ করতে থাকে। এভাবে কাগজে চিঠি লিখার প্রচলন সারা বিশ্ব ছড়িয়ে পড়ে।

৩. ১৩৪১ সালে আরবের বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা ভারত পরিভ্রমণে আসেন। তখন ভারতের শাসনকর্তা ছিলেন সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক। তার বিভিন্ন কার্যাবলির মধ্যে সারা রাজ্য জুড়ে তথ্য ও সংবাদ আদান প্রদান চলতে থাকে। ইবনে বতুতা তার ভ্রমণ কাহিনিতে সুলতানের ডাক ব্যবস্থার বিস্তারিত ও সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন।

৪. ডাক যোগাযোগের সম্পূর্ণ কার্যক্রম মানুষকে ঘিরে। তাই সংবাদ বাহক হিসেবে মানুষ প্রথম স্থান দেওয়া হলেও আরো প্রানীকে সংবাদ বাহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। পৃথিবীর প্রায় সব দেশে, সব সভ্যতায়, সব যুগেই দ্রুততম সংবাদ বাহক হিসেবে ঘোড়ার চল ছিল। এছাড়াও আরব দেশ সমূহে ঘোড়ার পাশাপাশি উটেরও ব্যবহার ছিল।

৫. প্রাচীন বাংলায় ‘চতুর্বাটিকা’ নামে একটি শব্দ প্রচলিত ছিল। গ্রাম প্রধানের বাড়ির সামনে চৌচালা একটি ঘরে গ্রামের সকলে সমবেত হতো। এখানে গ্রাম্য সালিশ বসতো, বিচার করা হতো। ধারণা করা হয়, ‘চতুর্বাটিকা’ থেকেই ‘চটি’ কথাটির উদ্ভব হয়েছে, যার অর্থ বাংলার প্রাচীনতম হোটেল ব্যবস্থা। সেখানে রাত কাটানোর জন্য মানুষ ঘর বানিয়ে থাকতো, তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও ছিল।

পাবলিক স্পিকিং স্কিল বৃদ্ধির জন্য কার্যকরী কিছু টিপস

৬. মেসোপোটেমিয়ার যুগে বর্তমান ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী অঞ্চলের অধিবাসীদের সংবাদ আদান প্রদানের পদ্ধতি প্রাচীন ইতিহাসের অন্যতম নিদর্শন। খ্রীষ্টের জন্মের ৩৫০০ বছর আগে তারা মাটির পাতলা পাত তৈরি করে কাঁচা অবস্থায় তার উপর সংবাদ খোদাই করে আগুনে পুড়িয়ে ইটের মতো শক্ত করে নিতো। এই চিঠির পাতাটি খামের মধ্যে পুরে মুখ বন্ধ করে দিতো আর চিঠির উপরে প্রেরক এবং প্রাপক এর নাম পরিচয় লিখা হতো। অবশ্য এগুলো রাজকার্যে ব্যবহার করা হতো, এই পদ্ধতি সাধারণ মানুষের জন্য ছিল না। এরকম বেশ কিছু চিঠি ও খামের নিদর্শন বিভিন্ন যাদুঘরে রাখা আছে।

৭. ৩২১-২৯৭ খ্রিষ্টপূর্বে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য এর শাসনামলে সংবাদ আদান প্রদানের জন্য রাজকর্মচারীরা সারা রাজ্যে কাজ করতো।

৮. ১২৯৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতে পরিভ্রমণে এসে সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি রাজত্বের বিবরণ লিখতে গিয়ে পর্যটক জিয়াউদ্দিন বারুনী ঘোড়ায় চড়া এবং পায়ে হাঁটা এই দুই ধরনের সংবাদ বাহকের কথা উল্লেখ করেন।

৯. আব্বাসীয় খলিফাদের আমলে প্রচলিত ডাকব্যবস্থাকে বলা হতো ‘বারীদ’। এই পদ্ধতির বিশেষত্ব হলো ডাক চলাচলে ব্যবহৃত ঘোড়াগুলোকে অন্যদের থেকে আলাদা করে চেনার জন্য এদের লেজ কেটে ফেলা হতো।

১০. ইউরোপের প্রায় সকল দেশের ডাকব্যবস্থার প্রতীক হিসাবে শিঙ্গাকে গ্রহণ করা হয়েছে। সংবাদ বাহকরা গ্রামে গ্রামে শিঙ্গা বাজিয়ে গ্রামবাসীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতো।

১১. শেরশাহের রাজত্বকালে পারস্যবাসী ফরিস্তা ভারতে আসেন। তার দেওয়া বর্ণনায় উল্লেখ ছিল যে, তার রাজত্বকালে শেরশাহ বাংলাদেশের প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁও থেকে সিন্ধু নদীর তীর পর্যন্ত সুদীর্ঘ এক হাজার মাইল রাস্তা তৈরি করেন। আর এই রাস্তার প্রতি দুই মাইল পর পর সরাইখানা স্থাপন করা হয়। এগুলো প্রধান লোকালয়ের সাথে সংযুক্ত ছিল এবং এই পথ গুলোই শেরশাহের আদেশ নির্দেশ পরিবহনের জন্য ডাক ব্যবস্থা হিসেবে প্রচলিত ছিল।

সহজে ইংরেজি শেখার সেরা ১০টি উপায়

১২. শেরশাহের মৃত্যুর পর পুনরায় মোঘল রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত হলে সম্রাট আকবর প্রতি দুই মাইলের জন্য দ্রুতগামী তুর্কী ঘোড়ার ব্যবস্থা করেন। ঘোড়ার লেজ সাধারণ দৈর্ঘ্যের চেয়ে কিছুটা খাটো করে রাখা হতো যাতে অন্য ঘোড়াদের থেকে তাদের আলাদা করা যায়। আবার মরুভূমি অঞ্চলে তথ্য পরিবহনের জন্য উটের ব্যবস্থা রাখা হতো।

১৩. সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের দ্বারা স্থাপিত সংবাদ বাহক দল পরিচালিত ডাক ব্যবস্থা ভারতের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী ডাক ব্যবস্থা হিসেবে প্রসিদ্ধ হয়। তবে সাধারণ জনগণ এই সুবিধা ভোগ করতে পারতো না। একমাত্র শিক্ষিত জনগোষ্ঠীই এই সুবিধা পেতো।

১৪. ১৬৩০ সালের পরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কিছু কিছু এলাকায় ডাক পরিবহন ব্যবস্থা চালু রাখেন। মুর্শিদাবাদ ও কলকাতার পাশাপাশি ঢাকা, রংপুর, দিনাজপুর ও চট্টগ্রামের সাথে সংযোগ রক্ষার জন্য এ ব্যবস্থা চালু করা হয়।

১৫. ১৬৩৩ সালে ভারতবর্ষে সমুদ্র ডাক প্রথম চালু হয়। আর ১৭৮৪ সালে ঘোড়ার গাড়ির মাধ্যমে খবর আদান প্রদান করা শুরু হয়। আর প্রথম মুদ্রিত খামের মাধ্যমে চিঠি আদান – প্রদান করা হয় ১৮৩০ সাল থেকে।

১৬. ১৭৬৬ সালে রবার্ট ক্লাইভ ভারতবর্ষে প্রথম বারের মতো যথাযথ ডাক যোগাযোগের ব্যবস্থা করেন, যা ‘ক্লাইভের ডাক’ নামে পরিচিত ছিল। তখন কলকাতার সাথে ঢাকা ও পাটনার দাপ্তরিক কাজের জন্য ডাক ব্যবস্থার সরাসরি যোগাযোগ ছিল।

১৭. ১৭৮৫ সালে প্রথম পোস্টাল পার্সেল সার্ভিস চালু হয়। এক্ষেত্রে পালকি ডাকের মাধ্যমে চিঠিপত্র বহন করা হতো। বর্ষা মৌসুম ছাড়া প্রায় সারাবছর এ ব্যবস্থা চালু ছিল। এভাবে পূর্ব বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে পোস্টাল পার্সেল পরিবহন করা হতো।

১৮. ১৭৯৩ সাল থেকে স্থানীয় ডাক যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্ব পরে স্থানীয় জমিদারদের উপর। সেখান থেকে ‘মহাজনি ডাক ব্যবস্থা ‘ শুরু হয়। এখানে শুধু শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গ চিঠি বা খবরাখবর পাঠাতে পারতেন।

১৯. ১৮৫৮ সালে প্রথম ‘লেটার বক্স’ পদ্ধতি চালু হয়। সেখানে চিঠি ফেলা হতো এবং সরবরাহ করা হতো। পরবর্তীতে এ পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। সারা ভারতে এই বক্সের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে, যার ফলে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ সহজ হয়ে ওঠে।

২০. ১৮৮৩ সালে পোস্ট অফিসের সাথে টেলিগ্রাফ যুক্ত করে দেওয়া হয় এবং ১৯০৯ সালে যুক্ত করা হয় টেলিগ্রাম। বঙ্গভঙ্গের কারণে ভারত – বাংলাদেশে আলাদা করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম ডাক সার্কেল গঠিত হয়, যেন দুই বাংলার মানুষের মধ্যে যোগাযোগ অবিচ্ছিন্ন থাকে।

২১. ১৯৪৭ সালে হিন্দুস্তান ও পাকিস্তান আলাদা হওয়ার পরে ভারত ও পাকিস্তানে ব্যাপক অভিবাসন ঘটে। অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির পাশাপাশি অভাব দেখা দেয় ডাকটিকিট এবং ডাক সামগ্রীর। ফলে মাসের পর মাস চিঠি ডাক বাক্সে পড়েছিল।

২২. ১৯৫৬ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ডাকটিকেটে বাংলা অক্ষর লেখা শুরু হয়। এক্ষেত্রে চট্রগ্রাম ও খুলনায় নতুন সাধারণ ডাকঘর স্থাপিত হয়।

বাংলা শব্দের পার্থক্য, যা আপনার কথা/লিখার ভাষাকে সুন্দর করে তুলবে

২৩. ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালিরা বিজয় লাভ করার পর পশ্চিম পাকিস্তানিদের আওতাধীন ডাক ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়। উত্তরাধিকার সূত্রে বাংলাদেশ একটি স্বাধীনতা যুদ্ধ বিধ্বস্ত ডাক লাভ করে। সেখানে ডাক যোগাযোগের নির্দিষ্ট যন্ত্রপাতির পাশাপাশি কোনো প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত লোকও পাওয়া যায় নি। যা ডাক ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য কাজ করবে। কেননা পশ্চিম পাকিস্তানিরা ডাকঘর ও সেখানকার কাগজ – পত্র পুড়িয়ে ফেলেছিল। তাতে প্রায় দেড় কোটি টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই সাথে প্রায় ২০০ জন ডাক যোগাযোগ কর্মকর্তা ও কর্মচারিকে হত্যা করা হয়। ফলে ডাক ব্যবস্থা নতুন করে চালু করতে বাংলাদেশ সরকারকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল।

২৪. ১৯৮০ সালে ডাক বিভাগের বেশ উন্নয়ন ঘটে। বেশ কিছু নতুন ডাকঘর ও নতুন সেবা চালু হয় ১৯৮৬ সালের শেষের দিকে ডাক কোড ব্যবস্থা চালু করা হয়। ১৯৮০ সালে ঢাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ডাক জাদুঘর ‘ স্থাপিত হয়েছিল। যেখানে ডাক বিভাগের পুরোনো নিদর্শন ও ঐতিহ্য আজও সংরক্ষিত আছে।

২৫. বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতি ১৩০০০ জন নাগরিকের জন্য একটি করে ডাকঘর বরাদ্দ আছে। ২০১০ সালে ডাক বিভাগে ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিস চালু হয়েছে। যার মাধ্যমে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আমরা ঘরে বসেই মুহূর্তের মধ্যে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে অর্থ লেনদেন করতে পারছি।

আশা করি আর্টিকেলটি আপনার ভালো লেগেছে। আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আবার কোনো নতুন আর্টিকেলে কথা হবে। ধন্যবাদ।

গুগল নিউজে পড়ুন- পাঠক বিডি

যোগ দিন পাঠক ফোরাম কমিউনিটিতে

আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন নতুন বিষয় জানুন, আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং সমমনা পাঠকদের সাথে আলোচনা করুন।

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার পরিচতদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
WhatsApp
Telegram
Twitter
Email
Print
সাবস্ক্রাইব
নোটিফিকেশন
guest
Ratting
1 মতামত
মতামত
নতুন পুরাতন
Tasnia Jahan
Tasnia Jahan
অতিথি
February 5, 2024 12:36 am
Ratting :
     

প্রাচীন সেই ডাক ব্যবস্থা কত সুন্দর ছিলো

Copyright © 2024 PathokBD.com