কম্পিউটার হলো একটি ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস যা খুব দ্রুত ও নির্ভুলভাবে বিভিন্ন ধরনের গাণিতিক ও যৌগিক সমাধান করতে পারে। শুরুর দিকে প্রাচীন গণনাকারী যন্ত্র হিসেবে আবিষ্কার করা হলেও, বর্তমানের আধুনিক কম্পিউটারগুলো দিয়ে শুধু গণনা ছাড়াও, বিভিন্ন ধরণের কাজ করা যায়।
বর্তমান সময়ে মানুষের জীবন যাপনের সাথে অতি প্রয়োজনীয় একটি যন্ত্র হলো কম্পিউটার। যা ছাড়া আজকাল মানুষের একটি দিনও কল্পনা করা কঠিন। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সকল কাজকর্ম সহজ করে দিয়েছে এই ডিজিটাল প্রযুক্তি মানে কম্পিউটার। মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যেমন- শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, বিজ্ঞান, মহাকাশ গবেষনা, আবহাওয়ার তথ্য সহ যাবতীয় কাজ করে দিচ্ছে কম্পিউটার। আধুনিক যুগে কম্পিউটার একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার। আসুন আজকের আলোচনায় জেনে আসি কম্পিউটার সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু তথ্য।
Computer এর পরিচয়ঃ
গ্রীক শব্দ কম্পিউট (Compute) থেকেই Computer শব্দটির আবিষ্কার হয়েছে।। বলা হয়, যে কম্পিউট করে বা গণনা করে সেই (মানুষ বা যন্ত্রই) Computer। ১৩৭৫ থেকে ১৪২৫ খ্রিষ্টাব্দ সময়কালে কম্পিউট” (Compute) শব্দটির উৎপত্তি হয়। Compute শব্দের অর্থ গণনা করা। আর কম্পিউটার (Computer) শব্দের অর্থ গণনাকারী যন্ত্র। এই শব্দের প্রাচীন অর্থ হিসাব করা, পরিমাপ করা, গণনা করা ও ধারনা করা ইত্যাদি।
পূর্বে এই যন্ত্র দিয়ে শুধু হিসাব-নিকাশের কাজই করা হতো বলে এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। কম্পিউটার হচ্ছে এমন এক ধরনের যন্ত্র যা মানুষের দেয়া যুক্তিসঙ্গত তথ্যের ভিত্তিতে অতি দ্রুত সঠিকভাবে কোনো নির্ণয় কার্য সম্পাদন করতে পারে এবং এটার ফলাফল নির্ধারণ করতে পারে।
বর্তমানে Computer বলতে আমরা এমন একটি ডিজিটাল যন্ত্রকে বুঝি যা প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে। কম্পিউটার হলো Programmable digital electronic device.” অন্যভাবে বলা যায়- A computer is a machine that manipulate data according the list of instruction। বর্তমান যুগে কম্পিউটারের বহুমুখী ব্যবহারের ফলে এর সংজ্ঞা অনেক ব্যাপকতা লাভ করেছে। কাজের অনেক নির্দেশ কম্পিউটারের স্মৃতিতে সংরক্ষণ করা সম্ভব এবং প্রয়োজনে এটি একটির পর একটি করে সেসব নির্দেশ নির্ভুলভাবে ত্বরিত গতিতে নির্বাহ করতে পারে। হিসাব সিদ্ধান্ত ও যুক্তিমূলক সমস্যার দ্রুত ও নির্ভুল সমাধান দিয়ে মানুষের উদ্ভাবনী শক্তির কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে কম্পিউটার। এর গতি, বিশ্বস্ততা ও নির্ভরতা মানুষের অনুরূপ ক্ষমতার তুলনায় অনেক উন্নত। সেই কারণে কম্পিউটার (Computer) কেবলমাত্র গণনা, পরিমাপ বা হিসাব করার যন্ত্র নয়। Computer কার্যত এখন সকল ধরনের কাজ করে বা কাজের প্রক্রিয়া করে।
কম্পিউটারের আবিষ্কারকঃ
কম্পিউটারের জনক বলা হয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড অ্যাইকেনকে। তবে আধুনিক কম্পিউটারের জনক হিসাবে চার্লস ব্যাবেজকে অভিহিত করা হয়।
শ্রেণীবিভাগঃ
প্রয়োগের তারতম্যের ভিত্তিতে কম্পিউটারকে দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ
- সাধারণ ব্যবহারিক কম্পিউটার এবং
- বিশেষ ব্যবহারিক কম্পিউটার
আবার, কম্পিউটারের গঠন ও প্রচলন নীতির ভিত্তিতে একে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
- অ্যানালগ কম্পিউটার
- ডিজিটাল কম্পিউটার এবং
- হাইব্রিড কম্পিউটার
আকার, সামর্থ্য দাম ও ব্যবহারের গুরুত্বের ভিত্তিতে ডিজিটাল কম্পিউটারকে আবার চার ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
- মেইনফ্রেম কম্পিউটার
- মিনি কম্পিউটার
- মাইক্রো কম্পিউটার এবং
- সুপার কম্পিউটার
এনালগ কম্পিউটারঃ
যে কম্পিউটার একটি রাশিকে অপর একটি রাশির সাপেক্ষে পরিমাপ করতে পারে তাই এনালগ কম্পিউটার। এটি উষ্ণতা বা অন্যান্য পরিমাপ যা নিয়মিত পরিবর্তিত হয় তা রেকর্ড করতে পারে। মোটর গাড়ির বেগ নির্ণায়ক যন্ত্র এনালগ কম্পিউটারের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
হাইব্রিড কম্পিউটারঃ
এটি হলো এমন Computer যা এনালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের সর্বোত্তম বৈশিষ্ট্যগুলোর সময়ে গঠিত। এটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যবহৃত হয়। সুতরাং বলা প্রায়, প্রযুক্তি ও ভিত্তিগত দিক থেকে অ্যানালগ ও ডিজিটালের আংশিক অন্বয়ই হচ্ছে হাইব্রিড কম্পিউটার।
ডিজিটাল কম্পিউটারঃ
যে কম্পিউটার সংখ্যা ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে তাই ডিজিটাল কম্পিউটার। এটি যে কোনো গণিতের যোগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে এবং বিয়োগ, গুণ ও ভাগের মতো অন্যান্য অপারেশন যোগের সাহায্যে সম্পাদন করে।
সুপার কম্পিউটারঃ
অত্যন্ত শক্তিশালী ও দ্রুতগতিসম্পন্ন কম্পিউটারকে সুপার Computer বলে। এ কম্পিউটারের গতি প্রায় প্রতি সেকেন্ডে ১ বিলিয়ন ক্যারেক্টর। পৃথিবীর আবহাওয়া বা কোনো দেশের আদমশুমারির মতো বিশাল তথ্য ব্যবস্থাপনা করার মতো স্মৃতিভান্ডার বিশিষ্ট কম্পিউটার হচ্ছে সুপার কম্পিউটার। Supers XII, CRAY । ইত্যাদি সুপার কম্পিউটারের উদাহরণ।
মিনি কম্পিউটারঃ
যে কম্পিউটারে টার্মিনাল লাগিয়ে প্রায় এক সাথে অর্ধ শতাধিক ব্যবহারকারী ব্যবহার করতে পারে তাই মিনি কম্পিউটার। এটা শিল্প-বাণিজ্য গবেষণাগারে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। NCRS/9290.PDP-II.IBM S/36 ইত্যাদি এ শ্রেণীর Computer।
মাইক্রো কম্পিউটারঃ
মাইক্রো কম্পিউটারকে Personal Computer বা পিসি বলেও অভিহিত করা হয়। ইন্টারফেস চিপ, একটি মাইক্রোপ্রসেসর CPU এবং RAM, ROM সহযোগে মাইক্রো কম্পিউটার গঠিত হয়। দৈনন্দিন জীবনের সর্বক্ষেত্রে এ কম্পিউটারের ব্যবহার দেখা যায়। ম্যকিনটোস আইবিএম পিসি এ ধরনের কম্পিউটারের উদাহরণ।
মেইনফ্রেম কম্পিউটারঃ
মেইনফ্রেম Computer হচ্ছে এমন একটি বড় Computer যার সঙ্গে অনেকগুলো ছোট কম্পিউটার যুক্ত করে এক সঙ্গে অনেকে কাজ করতে পারে। জটিল বৈজ্ঞানিক গবেষণা, উচ্চস্তরের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের শৈল্পিক ব্যবহারে এটা কাজে লাগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে এ ধরনের Computer ব্যবহৃত হয়ে থাকে। CYBER-170. IBM-4300 এ ধরনের কম্পিউটার।
আশা করি কম্পিউটার নিয়ে আজকের আর্টিকেলটি আপনার ভালো খুব লেগেছে। আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। কথা হবে আবার কোনো নতুন আর্টিকেলে। ধন্যবাদ।
আমার নগদ একাউন্টের পাসওয়ার্ড ভুলে গেছি রিসেট করে দাও
স্যার আমাকে উত্তর দাও
নগদ একাউন্ট রিসেট করাইতাম
01788991513